ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ সামনে রেখে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ইরান। তবে দল ঘোষণার সবচেয়ে বড় চমক অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড সর্দার আজমুনের অনুপস্থিতি। প্রাথমিক দল থেকে বাদ পড়া এই স্ট্রাইকার শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত স্কোয়াডেও জায়গা পাননি।
সোমবার ঘোষিত দলে অধিনায়ক মেহদি তারেমি ও উইঙ্গার আলিরেজা জাহানবখশকে রাখা হয়েছে। জাতীয় দলের ইতিহাসে অন্যতম সফল গোলদাতা আজমুন ৯১ ম্যাচে ৫৭ গোল করলেও তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব শাবাব আল-আহলির হয়ে খেলা এই ফরোয়ার্ড মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতির দলেও ছিলেন না।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়েছে, সরকারের প্রতি আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর থেকেই জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন আজমুন। যদিও এ বিষয়ে ইরান ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। তাকে দলে ফেরানোর পক্ষে মত দিয়েছিলেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদোলকারিম হোসেইনজাদেহও। তবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা সত্ত্বেও প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।
আজমুনের অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগের প্রধান দায়িত্ব থাকছে ৩৩ বছর বয়সী মেহদি তারেমির কাঁধে। গ্রিসের ক্লাব অলিম্পিয়াকোসের এই স্ট্রাইকারের সঙ্গে ফরোয়ার্ড লাইনে রয়েছেন আলী আলিপুর, ডেনিস দারগাহি, আমিরহোসেইন হোসেইনজাদেহ, আমিরহোসেইন মাহমুদি এবং আলিরেজা জাহানবখশ।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের আগে ইরানের প্রস্তুতি শিবির নিয়েও অনিশ্চয়তা ছিল। প্রথমে অ্যারিজোনায় বেসক্যাম্প করার পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা পরিবর্তন করা হয়। ফিফার অনুমোদনের পর মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তিহুয়ানাকে বেসক্যাম্প হিসেবে বেছে নেয় ইরান।
গ্রুপ পর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে তারা। একই ভেন্যুতে ২১ জুন বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে দলটি। এরপর ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে খেলবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ।
বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে ইরান। ১০ ম্যাচে সাত জয় নিয়ে নিজেদের গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করে তারা। এই অভিযানে মেহদি তারেমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বাছাইপর্বে ১০ গোল করে দলের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দেন তিনি।
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ছয়বার অংশ নিলেও কখনো গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি ইরান। এবার নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিসরকে টপকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বকাপে নামছে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দলটি।
বিষয় : ইরান বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬
ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ সামনে রেখে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ইরান। তবে দল ঘোষণার সবচেয়ে বড় চমক অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড সর্দার আজমুনের অনুপস্থিতি। প্রাথমিক দল থেকে বাদ পড়া এই স্ট্রাইকার শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত স্কোয়াডেও জায়গা পাননি।
সোমবার ঘোষিত দলে অধিনায়ক মেহদি তারেমি ও উইঙ্গার আলিরেজা জাহানবখশকে রাখা হয়েছে। জাতীয় দলের ইতিহাসে অন্যতম সফল গোলদাতা আজমুন ৯১ ম্যাচে ৫৭ গোল করলেও তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব শাবাব আল-আহলির হয়ে খেলা এই ফরোয়ার্ড মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতির দলেও ছিলেন না।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়েছে, সরকারের প্রতি আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর থেকেই জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন আজমুন। যদিও এ বিষয়ে ইরান ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। তাকে দলে ফেরানোর পক্ষে মত দিয়েছিলেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদোলকারিম হোসেইনজাদেহও। তবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা সত্ত্বেও প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।
আজমুনের অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগের প্রধান দায়িত্ব থাকছে ৩৩ বছর বয়সী মেহদি তারেমির কাঁধে। গ্রিসের ক্লাব অলিম্পিয়াকোসের এই স্ট্রাইকারের সঙ্গে ফরোয়ার্ড লাইনে রয়েছেন আলী আলিপুর, ডেনিস দারগাহি, আমিরহোসেইন হোসেইনজাদেহ, আমিরহোসেইন মাহমুদি এবং আলিরেজা জাহানবখশ।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের আগে ইরানের প্রস্তুতি শিবির নিয়েও অনিশ্চয়তা ছিল। প্রথমে অ্যারিজোনায় বেসক্যাম্প করার পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা পরিবর্তন করা হয়। ফিফার অনুমোদনের পর মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তিহুয়ানাকে বেসক্যাম্প হিসেবে বেছে নেয় ইরান।
গ্রুপ পর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে তারা। একই ভেন্যুতে ২১ জুন বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে দলটি। এরপর ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে খেলবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ।
বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে ইরান। ১০ ম্যাচে সাত জয় নিয়ে নিজেদের গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করে তারা। এই অভিযানে মেহদি তারেমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বাছাইপর্বে ১০ গোল করে দলের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দেন তিনি।
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ছয়বার অংশ নিলেও কখনো গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি ইরান। এবার নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিসরকে টপকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বকাপে নামছে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দলটি।

আপনার মতামত লিখুন