ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বিশ্বকাপ ফাইনালে ইতিহাসে প্রথমবার ‘হাফটাইম শো’

২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালের মধ্যবিরতিতে আয়োজন করা হবে ‘হাফটাইম শো’। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এ ঘোষণা দিয়ে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে দর্শকরা এবার শুধু ফুটবল নয়, উপভোগ করবেন আন্তর্জাতিক মানের একটি সংগীত আয়োজনও।সেমাফর ওয়ার্ল্ড ইকোনমি সামিটে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইনফান্তিনো বলেন, ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফাইনাল হবে একেবারেই ভিন্ন অভিজ্ঞতার। তার ভাষায়, এই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফটাইমে বড় পরিসরের স্টেজ শো অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে একাধিক আন্তর্জাতিক শিল্পী অংশ নেবেন।ফিফা সভাপতির বক্তব্য অনুযায়ী, এই আয়োজনকে বিশ্বমানের বিনোদনমূলক ইভেন্টে রূপ দিতে কাজ চলছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ফুটবল ও বিনোদন একসঙ্গে বৃহৎ পরিসরে উপস্থাপন করা যায়। যদিও এখনো নির্দিষ্ট শিল্পীদের নাম ঘোষণা করা হয়নি, তবে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ ব্যান্ড কোল্ডপ্লে এবং তাদের ভোকালিস্ট ক্রিস মার্টিন এই শোয়ের পরিকল্পনা ও কনটেন্ট নির্মাণে যুক্ত আছেন।ফিফার এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ফুটবলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফুটবল ম্যাচে ১৫ মিনিটের বিরতিতে এত বড় আকারের বিনোদনমূলক আয়োজন ম্যাচের স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেক সমর্থক ও বিশ্লেষক। বিশেষ করে ইউরোপীয় ফুটবলের ঐতিহ্য অনুযায়ী, হাফটাইম সাধারণত কৌশলগত বিশ্রামের সময় হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেখানে অতিরিক্ত বিনোদন খুবই সীমিত।তবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া সংস্কৃতিতে হাফটাইম শো নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে এনএফএলের সুপার বোল হাফটাইম শো বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় একটি আয়োজন। ফিফার নতুন উদ্যোগকে অনেকে সেই মডেলের আন্তর্জাতিক সংস্করণ হিসেবে দেখছেন, যা বিশ্বকাপকে আরও বেশি বিনোদননির্ভর ও বাণিজ্যিকভাবে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।এর আগেও ফুটবল ম্যাচে হাফটাইম বিনোদনের সীমিত উদাহরণ দেখা গেছে। ২০১৭ সালে জার্মানির ডিএফবি কাপ ফাইনালে আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের ম্যাচের মধ্যবিরতিতে পপ তারকা হেলেন ফিশার পারফর্ম করেছিলেন। তবে সেই আয়োজন নিয়ে দর্শকদের একাংশ নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল এবং বিষয়টি তখনই বিতর্ক তৈরি করেছিল।২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে ফিফা ইতোমধ্যে একাধিক নতুন ও আধুনিক উদ্যোগ নিয়েছে। হাফটাইম শো তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইনফান্তিনো আরও জানান, এই আয়োজনে টম ব্র্যাডি ও শ্যাকিল ও’নিলের মতো ক্রীড়া ও বিনোদন জগতের তারকারাও যুক্ত থাকতে পারেন, যারা এর আগেও বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন।বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বিশ্বকাপকে শুধুমাত্র একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে বৈশ্বিক বিনোদন উৎসবে রূপান্তর করার কৌশলগত পদক্ষেপ। তবে একই সঙ্গে ফুটবলের ঐতিহ্য, ম্যাচের স্বাভাবিক কাঠামো এবং দর্শকদের অভিজ্ঞতা কতটা প্রভাবিত হবে, তা নিয়ে প্রশ্নও থেকে যাচ্ছে।

বিশ্বকাপ ফাইনালে ইতিহাসে প্রথমবার ‘হাফটাইম শো’