গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রায় তেরো কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদের নির্মান কাজ শেষ হওয়ার আগেই নানা স্থানে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে।
সুধু তাই নয়, প্রায় ৮ বছর আগে মসজিদটির নির্মান কাজ শুরু করা হলেও আজও তা শেষ হয়নি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমডি বদরুল ইকবাল লিমিটেডের ম্যানেজার মাসুম বিল্লাহ জানান, কলাম বা বিমে কোনো কাঠামোগত সমস্যা নেই। প্লাস্টারে ফাটল দেখা দিয়েছে, যা মেরামত করা সম্ভব। আমরা তা করে দিচ্ছি। সাইট নিয়ে নানা জটিলতা ছিল। ২০২৩ সালের জুনে পুরোপুরি কাজ শুরু করি। বর্তমানে প্রায় তিন কোটি টাকার বিল বকেয়া রয়েছে। শ্রমিকদের নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে না পারায় কাজ ধীর গতিতে চলছে। বকেয়া টাকা পেলে দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
স্থানীয়রা জানান, ভবনের দেয়াল ও প্লাস্টারের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় ফাটলের চিহ্ন দেখা গেছে। কোন কোন জায়গায় পুরোনো প্লাস্টার ভেংগে নতুন করে প্লাস্টার করা হচ্ছে।
জানা যায়, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০১৯ সালে কোটালীপাড়া মডেল মসজিদের কাজ শুরু হয়। যার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী ১৮ মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় আট বছর পার হয়ে গেলেও আজও নির্মাণ শেষ হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শ্বর্তে মসজিদটি বাস্তবায়নকারী সংস্থা গণপূর্ত অধিদপ্তরের একটি দায়িত্বশীল সুত্র জানান, আওয়ামীলীগ সমর্থীত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুরোনো ভূমি অফিস অপসারণে বিলম্ব এবং নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে প্রথম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি ছেড়ে দেন।
এরপর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে এমডি বদরুল ইকবাল লিমিটেডকে নতুন কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু নির্মাণের মেয়াদকাল দুই বছর পার হলেও এখনও কাজ শেষ হয়নি।
আজ মঙ্গলবার বেলা ৩টা ১১মিনিটের সময় কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক ফাটলের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নির্মান কাজ শেষ হওয়ার আগেই মসজিদে ফাটল দেখা দিয়েছে এটা সঠিক, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর ফাটলের স্থানে সংস্কার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে। আমি এখানে যোগদানের পর থেকেই মসজিদটি একই অবস্থায় দেখছি। আগের জেলা প্রশাসকও ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য একাধিকবার তাগিদ দিলেও নির্মান কাজ আদৌ শেষ করতে পারেনি।
স্থানীয় মুসল্লিদের অভিযোগ, শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং তদারকির অভাবে প্রকল্পটি বারবার পিছিয়েছে। তাদের দাবি, কাজের মান নিশ্চিত করতে গণপূর্ত বিভাগের কার্যকর নজরদারি ছিল না বলেই আজ উদ্বোধনের আগেই ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে।
একাধিক মুসল্লি বলেন, আল্লাহর ঘর উদ্বোধনের আগেই যদি ফেটে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে এর নিরাপত্তা নিয়ে আমরা কীভাবে নিশ্চিন্ত থাকব?
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমডি বদরুল ইকবাল লিমিটেডের ম্যানেজার মাসুম বিল্লাহ বলেন, কলাম বা বিমে কোনো কাঠামোগত সমস্যা নেই। প্লাস্টারে ফাটল দেখা দিয়েছে, যা মেরামত করা সম্ভব। আমরা তা করে দিচ্ছি। সাইট নিয়ে নানা জটিলতা ছিল। ২০২৩ সালের জুনে পুরোপুরি কাজ শুরু করি। বর্তমানে প্রায় তিন কোটি টাকার বিল বকেয়া রয়েছে। শ্রমিকদের নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে না পারায় কাজ ধীরগতিতে চলছে। বকেয়া টাকা পেলে দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
গোপালগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম খান বলেন, জুন মাসের ব্যস্ততার কারণে এখনো সরেজমিনে যেতে পারিনি। ঠিকাদারের প্রকৌশলীকে ফাটলগুলো রিপেয়ার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যস্ততা শেষে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখব।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রায় তেরো কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদের নির্মান কাজ শেষ হওয়ার আগেই নানা স্থানে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে।
সুধু তাই নয়, প্রায় ৮ বছর আগে মসজিদটির নির্মান কাজ শুরু করা হলেও আজও তা শেষ হয়নি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমডি বদরুল ইকবাল লিমিটেডের ম্যানেজার মাসুম বিল্লাহ জানান, কলাম বা বিমে কোনো কাঠামোগত সমস্যা নেই। প্লাস্টারে ফাটল দেখা দিয়েছে, যা মেরামত করা সম্ভব। আমরা তা করে দিচ্ছি। সাইট নিয়ে নানা জটিলতা ছিল। ২০২৩ সালের জুনে পুরোপুরি কাজ শুরু করি। বর্তমানে প্রায় তিন কোটি টাকার বিল বকেয়া রয়েছে। শ্রমিকদের নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে না পারায় কাজ ধীর গতিতে চলছে। বকেয়া টাকা পেলে দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
স্থানীয়রা জানান, ভবনের দেয়াল ও প্লাস্টারের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় ফাটলের চিহ্ন দেখা গেছে। কোন কোন জায়গায় পুরোনো প্লাস্টার ভেংগে নতুন করে প্লাস্টার করা হচ্ছে।
জানা যায়, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০১৯ সালে কোটালীপাড়া মডেল মসজিদের কাজ শুরু হয়। যার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী ১৮ মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় আট বছর পার হয়ে গেলেও আজও নির্মাণ শেষ হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শ্বর্তে মসজিদটি বাস্তবায়নকারী সংস্থা গণপূর্ত অধিদপ্তরের একটি দায়িত্বশীল সুত্র জানান, আওয়ামীলীগ সমর্থীত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুরোনো ভূমি অফিস অপসারণে বিলম্ব এবং নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে প্রথম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি ছেড়ে দেন।
এরপর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে এমডি বদরুল ইকবাল লিমিটেডকে নতুন কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু নির্মাণের মেয়াদকাল দুই বছর পার হলেও এখনও কাজ শেষ হয়নি।
আজ মঙ্গলবার বেলা ৩টা ১১মিনিটের সময় কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক ফাটলের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নির্মান কাজ শেষ হওয়ার আগেই মসজিদে ফাটল দেখা দিয়েছে এটা সঠিক, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর ফাটলের স্থানে সংস্কার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে। আমি এখানে যোগদানের পর থেকেই মসজিদটি একই অবস্থায় দেখছি। আগের জেলা প্রশাসকও ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য একাধিকবার তাগিদ দিলেও নির্মান কাজ আদৌ শেষ করতে পারেনি।
স্থানীয় মুসল্লিদের অভিযোগ, শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং তদারকির অভাবে প্রকল্পটি বারবার পিছিয়েছে। তাদের দাবি, কাজের মান নিশ্চিত করতে গণপূর্ত বিভাগের কার্যকর নজরদারি ছিল না বলেই আজ উদ্বোধনের আগেই ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে।
একাধিক মুসল্লি বলেন, আল্লাহর ঘর উদ্বোধনের আগেই যদি ফেটে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে এর নিরাপত্তা নিয়ে আমরা কীভাবে নিশ্চিন্ত থাকব?
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমডি বদরুল ইকবাল লিমিটেডের ম্যানেজার মাসুম বিল্লাহ বলেন, কলাম বা বিমে কোনো কাঠামোগত সমস্যা নেই। প্লাস্টারে ফাটল দেখা দিয়েছে, যা মেরামত করা সম্ভব। আমরা তা করে দিচ্ছি। সাইট নিয়ে নানা জটিলতা ছিল। ২০২৩ সালের জুনে পুরোপুরি কাজ শুরু করি। বর্তমানে প্রায় তিন কোটি টাকার বিল বকেয়া রয়েছে। শ্রমিকদের নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে না পারায় কাজ ধীরগতিতে চলছে। বকেয়া টাকা পেলে দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
গোপালগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম খান বলেন, জুন মাসের ব্যস্ততার কারণে এখনো সরেজমিনে যেতে পারিনি। ঠিকাদারের প্রকৌশলীকে ফাটলগুলো রিপেয়ার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যস্ততা শেষে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখব।

আপনার মতামত লিখুন