সরকারি ক্রয় নীতিমালা (PPR) ও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কিশোরগঞ্জের যশোদল বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনে কোনো প্রকার দরপত্র (টেন্ডার) ছাড়াই অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে একটি মূল্যবান পাওয়ার ট্রান্সফরমার স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর কিশোরগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুর রউফ এবং টাঙ্গাইলের এক বিতর্কিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই কাজের আড়ালে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা ভাগাভাগি করে পকেটস্থ করা হচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
নিয়মানুযায়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই (KPI) এলাকায় যেকোনো বড় ধরনের কারিগরি কাজ বা ভারী যন্ত্রপাতি স্থাপনের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু যশোদল সাব-স্টেশনে সেই নিয়মের কোনো বালাই ছিল না। টাঙ্গাইলের বিতর্কিত ও বিগত ১৭ বছরের সুবিধাভোগী ঠিকাদার ইপিআর হোসেনের মালিকানাধীন ‘শাপলা এন্টারপ্রাইজ’কে কোনো প্রকার অফিশিয়াল টেন্ডার ছাড়াই সরাসরি এই বিশাল কাজ দিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই ঠিকাদারি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে হরিলুট চালিয়ে আসছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের ভেতরের একটি বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে, যশোদল সাব-স্টেশনের এই কাজের মূল নথিপত্র ও ব্যয়ের আড়ালে একটি বিশাল অনিয়মের ছক কষা হয়েছে। নামমাত্র কাজের অজুহাতে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকার একটি বিশাল তহবিল নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রউফ এবং ওই ঠিকাদারি চক্র নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেওয়ার চূড়ান্ত বন্দোবস্ত সম্পন্ন করেছেন। উন্মুক্ত টেন্ডার না হওয়ায় এই পাওয়ার ট্রান্সফরমারটির গুণগত মান এবং স্থায়িত্ব নিয়ে চরম সংশয় দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের আশঙ্কা, নিম্নমানের কাজের কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে, যার খেসারত দিতে হবে স্থানীয় সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের।
এই গুরুতর জালিয়াতির বিষয়ে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল রউফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টেন্ডার না হওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান এবং কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব দিতে পারেননি। অন্যদিকে অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
তদন্তে নামলে ঘটনার সত্যতা ধামাচাপা দিতে এক অভিনব কৌশল নেয় সাব-স্টেশন কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি সাংবাদিকরা সরেজমিনে যশোদল সাব-স্টেশনে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেখা করতে অস্বীকৃতি জানান। কর্তব্যরত আনসার সদস্য রানা, আব্দুর রহমান ও খলিলুর রহমান জানান, ভেতর থেকে কর্মকর্তাদের কড়া নির্দেশ রয়েছে—"অফিসের কারও নাম, পদবি বা পরিচয় যেন সাংবাদিকদের না জানানো হয়। এমনকি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ঢুকতে হলে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের অনুমতি নিয়ে আসতে হবে।"
কোনো অপরাধ না করে থাকলে বিদ্যুৎ বিভাগ কেন জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশের নাম ব্যবহার করে প্রশাসনকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলল—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় সচেতন মহল। এই অদ্ভুত লুকোচুরির বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন স্পষ্ট করে বলেন,"ওখানে সাংবাদিক যেতে আমার অফিসের কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই।" তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এমন প্রকাশ্য অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারে ফুঁসে উঠেছে কিশোরগঞ্জের সাধারণ মানুষ। এই বিপুল পরিমাণ টাকা লোপাট ও টেন্ডার জালিয়াতির ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় গ্রাহকেরা।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
সরকারি ক্রয় নীতিমালা (PPR) ও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কিশোরগঞ্জের যশোদল বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনে কোনো প্রকার দরপত্র (টেন্ডার) ছাড়াই অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে একটি মূল্যবান পাওয়ার ট্রান্সফরমার স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর কিশোরগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুর রউফ এবং টাঙ্গাইলের এক বিতর্কিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই কাজের আড়ালে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা ভাগাভাগি করে পকেটস্থ করা হচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
নিয়মানুযায়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই (KPI) এলাকায় যেকোনো বড় ধরনের কারিগরি কাজ বা ভারী যন্ত্রপাতি স্থাপনের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু যশোদল সাব-স্টেশনে সেই নিয়মের কোনো বালাই ছিল না। টাঙ্গাইলের বিতর্কিত ও বিগত ১৭ বছরের সুবিধাভোগী ঠিকাদার ইপিআর হোসেনের মালিকানাধীন ‘শাপলা এন্টারপ্রাইজ’কে কোনো প্রকার অফিশিয়াল টেন্ডার ছাড়াই সরাসরি এই বিশাল কাজ দিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই ঠিকাদারি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে হরিলুট চালিয়ে আসছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের ভেতরের একটি বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে, যশোদল সাব-স্টেশনের এই কাজের মূল নথিপত্র ও ব্যয়ের আড়ালে একটি বিশাল অনিয়মের ছক কষা হয়েছে। নামমাত্র কাজের অজুহাতে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকার একটি বিশাল তহবিল নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রউফ এবং ওই ঠিকাদারি চক্র নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেওয়ার চূড়ান্ত বন্দোবস্ত সম্পন্ন করেছেন। উন্মুক্ত টেন্ডার না হওয়ায় এই পাওয়ার ট্রান্সফরমারটির গুণগত মান এবং স্থায়িত্ব নিয়ে চরম সংশয় দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের আশঙ্কা, নিম্নমানের কাজের কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে, যার খেসারত দিতে হবে স্থানীয় সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের।
এই গুরুতর জালিয়াতির বিষয়ে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল রউফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টেন্ডার না হওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান এবং কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব দিতে পারেননি। অন্যদিকে অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
তদন্তে নামলে ঘটনার সত্যতা ধামাচাপা দিতে এক অভিনব কৌশল নেয় সাব-স্টেশন কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি সাংবাদিকরা সরেজমিনে যশোদল সাব-স্টেশনে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেখা করতে অস্বীকৃতি জানান। কর্তব্যরত আনসার সদস্য রানা, আব্দুর রহমান ও খলিলুর রহমান জানান, ভেতর থেকে কর্মকর্তাদের কড়া নির্দেশ রয়েছে—"অফিসের কারও নাম, পদবি বা পরিচয় যেন সাংবাদিকদের না জানানো হয়। এমনকি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ঢুকতে হলে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের অনুমতি নিয়ে আসতে হবে।"
কোনো অপরাধ না করে থাকলে বিদ্যুৎ বিভাগ কেন জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশের নাম ব্যবহার করে প্রশাসনকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলল—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় সচেতন মহল। এই অদ্ভুত লুকোচুরির বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন স্পষ্ট করে বলেন,"ওখানে সাংবাদিক যেতে আমার অফিসের কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই।" তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এমন প্রকাশ্য অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারে ফুঁসে উঠেছে কিশোরগঞ্জের সাধারণ মানুষ। এই বিপুল পরিমাণ টাকা লোপাট ও টেন্ডার জালিয়াতির ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় গ্রাহকেরা।

আপনার মতামত লিখুন