নোয়াখালীতে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সৎ মা ও ছোট ভাইকে হত্যার পর ঘটনাটিকে নিখোঁজ হিসেবে দেখিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার অভিযোগের দুই বছর পর ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে সিআইডি। অভিযুক্ত দুই ভাইকে গ্রেফতারের পর আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে তারা হত্যার পর লাশ গুমের কথা স্বীকার করেছেন।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান সোমবার (২৫ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১০ মার্চ ভুক্তভোগী কমলা খাতুন নিখোঁজ হয়েছেন দাবি করে সোনাইমুড়ি থানায় জিডি করেন তার সৎ ছেলে জিয়াউর রহমান সাগর। জিডিতে বলা হয়, ৯ মার্চ থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না এবং মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে কমলা খাতুনের বোন রহিমা বেগম ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে করে নিজেই আদালতে পিটিশন মামলা করেন। সেখানে সৎ ছেলে সাগর, রাজু, শ্যামলী ও কাজলকে সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
মামলাটি প্রথমে জেলা ডিবি পুলিশের মাধ্যমে তদন্ত শুরু হলেও পরে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানে সিআইডি জানতে পারে, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ।
তদন্তে উঠে আসে, ভুক্তভোগীর স্বামী জীবদ্দশায় দ্বিতীয় স্ত্রী কমলা খাতুন ও তাদের সন্তান নোমানের নামে প্রায় ৩০ শতাংশ জমি ও বসতবাড়ি লিখে দিয়েছিলেন, যার বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। এই সম্পত্তি নিয়েই প্রথম সংসারের সন্তানদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
তদন্তে আরও জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ঢাকার সবুজবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে ভাঙারি মালামালের সঙ্গে বিক্রি করা হয়েছিল। ওই বাসায় একসময় এজাহারভুক্ত আসামি সাইফুল ইসলাম রাজন ভাড়াটিয়া হিসেবে ছিলেন।
গত ২১ মে ময়মনসিংহ থেকে সাইফুল ইসলাম ওরফে রাজনকে গ্রেফতার করে সিআইডি। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২২ মে সোনাইমুড়ি এলাকা থেকে জিয়াউর রহমান সাগর এবং আশিকুর রহমান টিপুকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার পর মরদেহ গুম করার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।
এস.আর

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬
নোয়াখালীতে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সৎ মা ও ছোট ভাইকে হত্যার পর ঘটনাটিকে নিখোঁজ হিসেবে দেখিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার অভিযোগের দুই বছর পর ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে সিআইডি। অভিযুক্ত দুই ভাইকে গ্রেফতারের পর আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে তারা হত্যার পর লাশ গুমের কথা স্বীকার করেছেন।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান সোমবার (২৫ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১০ মার্চ ভুক্তভোগী কমলা খাতুন নিখোঁজ হয়েছেন দাবি করে সোনাইমুড়ি থানায় জিডি করেন তার সৎ ছেলে জিয়াউর রহমান সাগর। জিডিতে বলা হয়, ৯ মার্চ থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না এবং মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে কমলা খাতুনের বোন রহিমা বেগম ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে করে নিজেই আদালতে পিটিশন মামলা করেন। সেখানে সৎ ছেলে সাগর, রাজু, শ্যামলী ও কাজলকে সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
মামলাটি প্রথমে জেলা ডিবি পুলিশের মাধ্যমে তদন্ত শুরু হলেও পরে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানে সিআইডি জানতে পারে, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ।
তদন্তে উঠে আসে, ভুক্তভোগীর স্বামী জীবদ্দশায় দ্বিতীয় স্ত্রী কমলা খাতুন ও তাদের সন্তান নোমানের নামে প্রায় ৩০ শতাংশ জমি ও বসতবাড়ি লিখে দিয়েছিলেন, যার বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। এই সম্পত্তি নিয়েই প্রথম সংসারের সন্তানদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
তদন্তে আরও জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ঢাকার সবুজবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে ভাঙারি মালামালের সঙ্গে বিক্রি করা হয়েছিল। ওই বাসায় একসময় এজাহারভুক্ত আসামি সাইফুল ইসলাম রাজন ভাড়াটিয়া হিসেবে ছিলেন।
গত ২১ মে ময়মনসিংহ থেকে সাইফুল ইসলাম ওরফে রাজনকে গ্রেফতার করে সিআইডি। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২২ মে সোনাইমুড়ি এলাকা থেকে জিয়াউর রহমান সাগর এবং আশিকুর রহমান টিপুকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার পর মরদেহ গুম করার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।
এস.আর

আপনার মতামত লিখুন