ঢাকা    শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ময়মনসিংহে কোরবানির হাটে পশুর চাপ বেশি, ক্রেতার অভাব


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬

ময়মনসিংহে কোরবানির হাটে পশুর চাপ বেশি, ক্রেতার অভাব
ছবিঃ সংগ্রহীত

ময়মনসিংহে কোরবানির ঈদকে ঘিরে পশুর হাটগুলো জমে উঠলেও বেচাকেনায় দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। জেলার বিভিন্ন হাটে গরু ও ছাগলের সরবরাহ বেড়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকায় বাজারে তৈরি হয়েছে এক ধরনের চাপা হতাশা। অনেক খামারি কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন, আবার ক্রেতারাও বলছেন, দামের অস্বাভাবিক উর্ধ্বগতি তাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

বুধবার (২০ মে) জেলার অন্যতম বৃহৎ মুক্তাগাছা নতুন বাজার পশুর হাট ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। সকাল থেকে হাটে পশুর ভিড় থাকলেও কেনাবেচার গতি ছিল মন্থর। কেউ গরুর দড়ি ধরে অপেক্ষা করছেন, কেউ আবার সম্ভাব্য ক্রেতার সঙ্গে দরদাম চালাচ্ছেন। তবে শেষ পর্যন্ত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মিলছে না সমঝোতা।

স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে ময়মনসিংহে এবার কোরবানির জন্য ১৫২টি স্থায়ী ও অস্থায়ী হাট বসেছে। এর মধ্যে মুক্তাগাছার এই হাটকে জেলার সবচেয়ে বড় গরুর বাজার হিসেবে ধরা হয়। প্রতি সপ্তাহের বুধবার বসা এই হাটে শুধু স্থানীয় নয়, আশপাশের উপজেলা থেকেও বিপুল সংখ্যক পশু আসে।

হাটে আসা খামারিদের অনেকেই জানান, দীর্ঘ সময় ধরে গরু পালন করেও প্রত্যাশিত দাম পাওয়া যাচ্ছে না। তারাটি এলাকার চাঁন মিয়া পাঁচ মাস আগে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় কেনা একটি গাভী নিয়ে এসেছেন, কিন্তু ক্রেতারা দাম বলছেন প্রায় ৮০ হাজার টাকা। তার ভাষায়, “এই দামে বিক্রি করলে তো বড় লোকসান।”

একই অবস্থার কথা জানান ফুলবাড়িয়ার জাহিদ হাসান। প্রায় এক বছর ধরে পালন করা তার একটি ষাঁড়ের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আশা করলেও দিনভর কোনো ক্রেতাই দাম বলেননি বলে জানান তিনি। বাজারে পশুর সংখ্যা বেশি হলেও ক্রেতার অভাবই মূল সমস্যা বলে মনে করছেন তিনি।

জামালপুর থেকে আসা মো. স্বপনও দুটি ষাঁড় নিয়ে হাটে এলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এক বছর ধরে কষ্ট করে পশু বড় করেছি, কিন্তু বাজারের অবস্থা এখন দুর্বল।

অন্যদিকে কিছু ক্রেতা বলছেন, দামের সঙ্গে আয় সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের একজন ক্রেতা জানান, বড় গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে এক থেকে দুই লাখ টাকার বেশি, যা তাদের বাজেটের বাইরে।

তবে হাটের ইজারাদারদের ধারণা, প্রকৃত ক্রেতারা এখনো পুরোপুরি বাজারে আসেননি। তাদের মতে, ঈদের দিন ঘনিয়ে এলে কেনাবেচা আরও বাড়বে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার কোরবানির জন্য জেলায় পশুর সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি। মোট ২ লাখ ৪ হাজারের বেশি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে, যেখানে চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৮১ হাজার। অর্থাৎ জেলায় প্রায় ৪৫ হাজার পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, পর্যাপ্ত পশু থাকায় বাইরে থেকে অবৈধভাবে পশু প্রবেশ ঠেকানো এবং খামারিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।

এদিকে হাটগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন বিশেষ নজরদারি বাড়িয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পশুবাহী গাড়ি ও ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাল টাকার প্রবেশ ঠেকাতে সাদা পোশাকেও নজরদারি চলছে।

সব মিলিয়ে ময়মনসিংহের পশুর হাটগুলোতে এখন সরবরাহের ভিড় থাকলেও ক্রেতার অভাবে বাজারে তৈরি হয়েছে এক ধরনের অনিশ্চয়তা, যা ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই নতুন মোড় নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




এস.আর 

বিষয় : গরুর হাট ইদুল আজহা

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


ময়মনসিংহে কোরবানির হাটে পশুর চাপ বেশি, ক্রেতার অভাব

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

ময়মনসিংহে কোরবানির ঈদকে ঘিরে পশুর হাটগুলো জমে উঠলেও বেচাকেনায় দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। জেলার বিভিন্ন হাটে গরু ও ছাগলের সরবরাহ বেড়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকায় বাজারে তৈরি হয়েছে এক ধরনের চাপা হতাশা। অনেক খামারি কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন, আবার ক্রেতারাও বলছেন, দামের অস্বাভাবিক উর্ধ্বগতি তাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

বুধবার (২০ মে) জেলার অন্যতম বৃহৎ মুক্তাগাছা নতুন বাজার পশুর হাট ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। সকাল থেকে হাটে পশুর ভিড় থাকলেও কেনাবেচার গতি ছিল মন্থর। কেউ গরুর দড়ি ধরে অপেক্ষা করছেন, কেউ আবার সম্ভাব্য ক্রেতার সঙ্গে দরদাম চালাচ্ছেন। তবে শেষ পর্যন্ত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মিলছে না সমঝোতা।

স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে ময়মনসিংহে এবার কোরবানির জন্য ১৫২টি স্থায়ী ও অস্থায়ী হাট বসেছে। এর মধ্যে মুক্তাগাছার এই হাটকে জেলার সবচেয়ে বড় গরুর বাজার হিসেবে ধরা হয়। প্রতি সপ্তাহের বুধবার বসা এই হাটে শুধু স্থানীয় নয়, আশপাশের উপজেলা থেকেও বিপুল সংখ্যক পশু আসে।

হাটে আসা খামারিদের অনেকেই জানান, দীর্ঘ সময় ধরে গরু পালন করেও প্রত্যাশিত দাম পাওয়া যাচ্ছে না। তারাটি এলাকার চাঁন মিয়া পাঁচ মাস আগে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় কেনা একটি গাভী নিয়ে এসেছেন, কিন্তু ক্রেতারা দাম বলছেন প্রায় ৮০ হাজার টাকা। তার ভাষায়, “এই দামে বিক্রি করলে তো বড় লোকসান।”

একই অবস্থার কথা জানান ফুলবাড়িয়ার জাহিদ হাসান। প্রায় এক বছর ধরে পালন করা তার একটি ষাঁড়ের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আশা করলেও দিনভর কোনো ক্রেতাই দাম বলেননি বলে জানান তিনি। বাজারে পশুর সংখ্যা বেশি হলেও ক্রেতার অভাবই মূল সমস্যা বলে মনে করছেন তিনি।

জামালপুর থেকে আসা মো. স্বপনও দুটি ষাঁড় নিয়ে হাটে এলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এক বছর ধরে কষ্ট করে পশু বড় করেছি, কিন্তু বাজারের অবস্থা এখন দুর্বল।

অন্যদিকে কিছু ক্রেতা বলছেন, দামের সঙ্গে আয় সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের একজন ক্রেতা জানান, বড় গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে এক থেকে দুই লাখ টাকার বেশি, যা তাদের বাজেটের বাইরে।

তবে হাটের ইজারাদারদের ধারণা, প্রকৃত ক্রেতারা এখনো পুরোপুরি বাজারে আসেননি। তাদের মতে, ঈদের দিন ঘনিয়ে এলে কেনাবেচা আরও বাড়বে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার কোরবানির জন্য জেলায় পশুর সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি। মোট ২ লাখ ৪ হাজারের বেশি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে, যেখানে চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৮১ হাজার। অর্থাৎ জেলায় প্রায় ৪৫ হাজার পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, পর্যাপ্ত পশু থাকায় বাইরে থেকে অবৈধভাবে পশু প্রবেশ ঠেকানো এবং খামারিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।

এদিকে হাটগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন বিশেষ নজরদারি বাড়িয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পশুবাহী গাড়ি ও ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাল টাকার প্রবেশ ঠেকাতে সাদা পোশাকেও নজরদারি চলছে।

সব মিলিয়ে ময়মনসিংহের পশুর হাটগুলোতে এখন সরবরাহের ভিড় থাকলেও ক্রেতার অভাবে বাজারে তৈরি হয়েছে এক ধরনের অনিশ্চয়তা, যা ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই নতুন মোড় নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




এস.আর 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ