রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়া বলতে না পারায় অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটিয়ে ও লাথি মেরে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। আজ মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষেই এই অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীর নাম মো. তাছিন মুন্সী (১৩), সে বর্তমানে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী সহপাঠীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সমাজবিজ্ঞান ক্লাস চলাকালীন শিক্ষক মো. আহাদ হোসেন পড়া ধরলে তাছিন তা বলতে ব্যর্থ হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষক তাকে প্রথমে বেত দিয়ে উপুর্যপরি আঘাত করেন। একপর্যায়ে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিক্ষার্থীকে বেঞ্চের ওপর দাঁড় করিয়ে এবং পরে ফ্লোরে ফেলে পিঠে ও বুকে লাথি মারেন। নির্যাতনের তীব্রতায় তাছিনের পিঠের বিভিন্ন স্থান ফেটে রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। সহপাঠীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে এবং পরে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করে। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় জনতা বিদ্যালয়ে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অন্য শিক্ষকরা অভিযুক্ত আহাদ হোসেনকে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেন। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযুক্ত শিক্ষক আহাদ হোসেন নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে জানিয়েছেন, শাসন করতে গিয়ে তিনি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। তবে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল খালেক জানিয়েছেন, অপরাধ যাই হোক, এভাবে মারধর করা আইনত দণ্ডনীয়। তিনি অভিযুক্ত শিক্ষককে ইতোমধ্যে শোকজ করেছেন এবং তিন কার্যদিবসের জন্য বিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে তাকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। উচ্চ আদালত কর্তৃক দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকল প্রকার শারীরিক ও মানসিক শাস্তি নিষিদ্ধ থাকলেও এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটায় স্থানীয় সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। নির্যাতিত শিক্ষার্থীর পরিবার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক আইনি প্রতিকার দাবি করেছেন।

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়া বলতে না পারায় অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটিয়ে ও লাথি মেরে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। আজ মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষেই এই অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীর নাম মো. তাছিন মুন্সী (১৩), সে বর্তমানে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী সহপাঠীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সমাজবিজ্ঞান ক্লাস চলাকালীন শিক্ষক মো. আহাদ হোসেন পড়া ধরলে তাছিন তা বলতে ব্যর্থ হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষক তাকে প্রথমে বেত দিয়ে উপুর্যপরি আঘাত করেন। একপর্যায়ে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিক্ষার্থীকে বেঞ্চের ওপর দাঁড় করিয়ে এবং পরে ফ্লোরে ফেলে পিঠে ও বুকে লাথি মারেন। নির্যাতনের তীব্রতায় তাছিনের পিঠের বিভিন্ন স্থান ফেটে রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। সহপাঠীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে এবং পরে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করে। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় জনতা বিদ্যালয়ে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অন্য শিক্ষকরা অভিযুক্ত আহাদ হোসেনকে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেন। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযুক্ত শিক্ষক আহাদ হোসেন নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে জানিয়েছেন, শাসন করতে গিয়ে তিনি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। তবে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল খালেক জানিয়েছেন, অপরাধ যাই হোক, এভাবে মারধর করা আইনত দণ্ডনীয়। তিনি অভিযুক্ত শিক্ষককে ইতোমধ্যে শোকজ করেছেন এবং তিন কার্যদিবসের জন্য বিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে তাকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। উচ্চ আদালত কর্তৃক দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকল প্রকার শারীরিক ও মানসিক শাস্তি নিষিদ্ধ থাকলেও এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটায় স্থানীয় সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। নির্যাতিত শিক্ষার্থীর পরিবার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক আইনি প্রতিকার দাবি করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন