ফরিদপুরে শিশু আইরিন আক্তার বিনা ওরফে কবিতা (৭) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) সকাল ১১টায় ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ আজমির হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, ওসি (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাস, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মো. মাসুদ আলমসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
পুলিশ জানায়, কোতয়ালী থানাধীন গেরদা ইউনিয়নের বাসিন্দা আইরিন স্থানীয় বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সে। পরদিন ২৫ এপ্রিল তার বাবা বাকা মিয়া বিশ্বাস কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৯২২) করেন।
পরবর্তীতে ৩০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাখুন্ডা এলাকায় একটি কলাবাগান থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় একই দিন কোতয়ালী থানায় মামলা নং-৮৪ (জিআর নং-৩২৯/২৬) পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার পর কোতয়ালী থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে তদন্ত শুরু হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে ইসরাফিল মৃধা (২৪), শেখ আমিন (১৯) ও নাছিমা বেগম (৪৫)-কে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ইসরাফিল মৃধা শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা ব্যর্থ হলে এবং বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গোপন করতে একটি বাড়ির সেফটি ট্যাংকে রাখা হয়।
পরে নাছিমা বেগম বিষয়টি জানতে পেরে তার ছেলে শেখ আমিনসহ অন্যদের দিয়ে মরদেহ সরিয়ে ফেলতে বলেন। তারা মরদেহ একটি প্লাস্টিকের ড্রামে করে বাখুন্ডা কমিউনিটি ক্লিনিকের পূর্ব পাশে রেললাইন সংলগ্ন কলাবাগানে ফেলে রেখে যায়।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
ফরিদপুরে শিশু আইরিন আক্তার বিনা ওরফে কবিতা (৭) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) সকাল ১১টায় ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ আজমির হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, ওসি (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাস, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মো. মাসুদ আলমসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
পুলিশ জানায়, কোতয়ালী থানাধীন গেরদা ইউনিয়নের বাসিন্দা আইরিন স্থানীয় বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সে। পরদিন ২৫ এপ্রিল তার বাবা বাকা মিয়া বিশ্বাস কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৯২২) করেন।
পরবর্তীতে ৩০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাখুন্ডা এলাকায় একটি কলাবাগান থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় একই দিন কোতয়ালী থানায় মামলা নং-৮৪ (জিআর নং-৩২৯/২৬) পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার পর কোতয়ালী থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে তদন্ত শুরু হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে ইসরাফিল মৃধা (২৪), শেখ আমিন (১৯) ও নাছিমা বেগম (৪৫)-কে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ইসরাফিল মৃধা শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা ব্যর্থ হলে এবং বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গোপন করতে একটি বাড়ির সেফটি ট্যাংকে রাখা হয়।
পরে নাছিমা বেগম বিষয়টি জানতে পেরে তার ছেলে শেখ আমিনসহ অন্যদের দিয়ে মরদেহ সরিয়ে ফেলতে বলেন। তারা মরদেহ একটি প্লাস্টিকের ড্রামে করে বাখুন্ডা কমিউনিটি ক্লিনিকের পূর্ব পাশে রেললাইন সংলগ্ন কলাবাগানে ফেলে রেখে যায়।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন