ঢাকা    শনিবার, ০২ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

আকস্মিক বন্যায় সুনামগঞ্জে কৃষকদের ২০০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি



আকস্মিক বন্যায় সুনামগঞ্জে কৃষকদের ২০০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি
ছবি : প্রতিনিধি

আকস্মিক বন্যায় সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকদের প্রায় ২০০ কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এতে করে পুরো অঞ্চলের কৃষক সমাজ চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

বিশেষ করে তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, হঠাৎ করে নেমে আসা বন্যার পানিতে পাকা ধানের ক্ষেত ডুবে গেছে। যে ধান কাটার জন্য প্রস্তুত ছিল, সেই সোনালি ফসল মুহূর্তেই পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের চোখে এখন হতাশার ছাপ। অনেকেই তাদের বছরের একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

এদিকে টানা বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যারা কিছু ধান কেটে ঘরে তুলতে পেরেছিলেন, তারাও এখন বিপাকে। খলায় রাখা ধান রোদ না পাওয়ায় শুকানো যাচ্ছে না, বরং সেগুলোতে নতুন করে চারা গজাতে শুরু করেছে। এতে করে অবশিষ্ট ফসলও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রতিটি খলায় গড়ে ৮০ থেকে ৯০ মণ ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা তাদের জন্য এক বিশাল ধাক্কা।

তাহিরপুর উপজেলার প্রায় প্রতিটি কৃষকই এবার কোনো না কোনোভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন, এখন সেই ঋণ পরিশোধ নিয়েও তারা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। কৃষকদের ভাষ্য, দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে তারা আগামী মৌসুমে চাষাবাদ চালিয়ে যেতে পারবে কি না, তা নিয়েও সন্দিহান।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছরই হাওরাঞ্চলে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা থাকে, তবে এবারের ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি। তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রণোদনা, সহজ শর্তে ঋণ এবং পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং কার্যকর উদ্যোগই এখন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য একমাত্র ভরসা বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


আকস্মিক বন্যায় সুনামগঞ্জে কৃষকদের ২০০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি

প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬

featured Image

আকস্মিক বন্যায় সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকদের প্রায় ২০০ কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এতে করে পুরো অঞ্চলের কৃষক সমাজ চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

বিশেষ করে তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, হঠাৎ করে নেমে আসা বন্যার পানিতে পাকা ধানের ক্ষেত ডুবে গেছে। যে ধান কাটার জন্য প্রস্তুত ছিল, সেই সোনালি ফসল মুহূর্তেই পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের চোখে এখন হতাশার ছাপ। অনেকেই তাদের বছরের একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

এদিকে টানা বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যারা কিছু ধান কেটে ঘরে তুলতে পেরেছিলেন, তারাও এখন বিপাকে। খলায় রাখা ধান রোদ না পাওয়ায় শুকানো যাচ্ছে না, বরং সেগুলোতে নতুন করে চারা গজাতে শুরু করেছে। এতে করে অবশিষ্ট ফসলও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রতিটি খলায় গড়ে ৮০ থেকে ৯০ মণ ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা তাদের জন্য এক বিশাল ধাক্কা।

তাহিরপুর উপজেলার প্রায় প্রতিটি কৃষকই এবার কোনো না কোনোভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন, এখন সেই ঋণ পরিশোধ নিয়েও তারা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। কৃষকদের ভাষ্য, দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে তারা আগামী মৌসুমে চাষাবাদ চালিয়ে যেতে পারবে কি না, তা নিয়েও সন্দিহান।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছরই হাওরাঞ্চলে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা থাকে, তবে এবারের ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি। তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রণোদনা, সহজ শর্তে ঋণ এবং পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং কার্যকর উদ্যোগই এখন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য একমাত্র ভরসা বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ