ঢাকা    শনিবার, ০২ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি ও ৯২ হেক্টর ফসল নষ্ট


মোঃ রিপন শেখ
মোঃ রিপন শেখ
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি ও ৯২ হেক্টর ফসল নষ্ট
ছবি : প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও টানা বৃষ্টিতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে পাকা ধান ও কেটে রাখা ফসল পানিতে তলিয়ে গিয়ে অনেক কৃষক চরম বিপাকে পড়েছেন। 

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল থেকে শুরু হওয়া ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার চারিয়া, গুমানমর্দন, ছিপাতলী, মেখল, ফতেহপুর ও চিকনদন্ডীসহ বিভিন্ন এলাকার নিচু ফসলি জমি দ্রুত পানিতে ডুবে যায়। এতে মাঠে থাকা পাকা ধান নষ্ট হয়ে যায় এবং কেটে রাখা ফসলও পানিতে তলিয়ে পড়ে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, তারা দীর্ঘ পরিশ্রমে ধান কাটার শেষ পর্যায়ে ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে আসা ঝড় ও বৃষ্টিতে সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। অনেক কৃষক এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। কৃষক বাদশা মিয়া বলেন, “অনেক কষ্ট করে ধান ফলিয়েছি। কাটার আগেই ঝড়-বৃষ্টিতে সব নষ্ট হয়ে গেল। এখন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াব বুঝতে পারছি না।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে প্রায় ৯২ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে গ্রীষ্মকালীন সবজি প্রায় ৪২ হেক্টর এবং বোরো ধান প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তবে মাঠ পর্যায়ে আরও বিস্তারিত ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন জানান, প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তৈরি করা হচ্ছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় কৃষকরা দাবি জানিয়েছেন, দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ না পেলে তারা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়বেন এবং পুনরায় চাষাবাদ করা কঠিন হয়ে যাবে। কালবৈশাখীর এ ক্ষয়ক্ষতি শুধু ব্যক্তিগত নয়, সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। তারা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় ছাত্রদল নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি ও ৯২ হেক্টর ফসল নষ্ট

প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও টানা বৃষ্টিতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে পাকা ধান ও কেটে রাখা ফসল পানিতে তলিয়ে গিয়ে অনেক কৃষক চরম বিপাকে পড়েছেন। 

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল থেকে শুরু হওয়া ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার চারিয়া, গুমানমর্দন, ছিপাতলী, মেখল, ফতেহপুর ও চিকনদন্ডীসহ বিভিন্ন এলাকার নিচু ফসলি জমি দ্রুত পানিতে ডুবে যায়। এতে মাঠে থাকা পাকা ধান নষ্ট হয়ে যায় এবং কেটে রাখা ফসলও পানিতে তলিয়ে পড়ে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, তারা দীর্ঘ পরিশ্রমে ধান কাটার শেষ পর্যায়ে ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে আসা ঝড় ও বৃষ্টিতে সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। অনেক কৃষক এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। কৃষক বাদশা মিয়া বলেন, “অনেক কষ্ট করে ধান ফলিয়েছি। কাটার আগেই ঝড়-বৃষ্টিতে সব নষ্ট হয়ে গেল। এখন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াব বুঝতে পারছি না।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে প্রায় ৯২ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে গ্রীষ্মকালীন সবজি প্রায় ৪২ হেক্টর এবং বোরো ধান প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তবে মাঠ পর্যায়ে আরও বিস্তারিত ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন জানান, প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তৈরি করা হচ্ছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় কৃষকরা দাবি জানিয়েছেন, দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ না পেলে তারা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়বেন এবং পুনরায় চাষাবাদ করা কঠিন হয়ে যাবে। কালবৈশাখীর এ ক্ষয়ক্ষতি শুধু ব্যক্তিগত নয়, সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। তারা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় ছাত্রদল নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ