পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী, গলাচিপা ও দশমিনা অঞ্চলের মানুষের কাছে ২ মে একটি গভীর শোকের দিন। ২০০২ সালের এই দিনে ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ে যাত্রীবাহী সালাউদ্দিন-২ লঞ্চ ডুবে গিয়ে ঘটে দেশের অন্যতম মর্মান্তিক নৌদুর্ঘটনা, যা আজও উপকূলীয় জনপদের মানুষের মনে দগদগে ক্ষত হয়ে রয়ে গেছে।
জানা যায়, ঢাকার সদরঘাট থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে আসা লঞ্চটি মেঘনা নদীর শাতনল এলাকার কাছাকাছি পৌঁছালে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও প্রবল দমকা হাওয়ার মুখে পড়ে। নদী তখন উত্তাল, চারদিকে বিরূপ আবহাওয়া। এরই মধ্যে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই লঞ্চটি ঢেউয়ের তীব্রতায় ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। মুহূর্তের মধ্যেই সেটি কাত হয়ে পানিতে তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার সময় অধিকাংশ যাত্রী গভীর ঘুমে ছিলেন বলে জানা যায়। অনেকেই কেবিনে আটকা পড়ে যান, কেউবা বের হওয়ার সুযোগই পাননি। ফলে হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। বিভিন্ন সূত্রে ধারণা করা হয়, এ দুর্ঘটনায় প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন যাত্রী প্রাণ হারান। উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা ৩০০-এর বেশি হলেও বহু যাত্রী নিখোঁজ থেকে যান, যাদের আর কখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই স্থানীয় জেলে, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও প্রশাসনের সমন্বয়ে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। তবে প্রবল স্রোত, গভীর নদী এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অনেক মরদেহ কয়েকদিন পর ভেসে ওঠে, যা স্বজনদের জন্য আরও বেদনাদায়ক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। নদীর তীরে স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় পটুয়াখালীর গলাচিপা, দশমিনা ও রাঙ্গাবালী এলাকার মানুষ। অনেক পরিবার তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে। কেউ হারিয়েছেন সন্তান, কেউ বাবা-মা, আবার কেউবা পুরো পরিবার। এখনো ২ মে এলেই ওইসব এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া- স্থানীয়রা স্মরণ করেন সেই ভয়াল রাত, হারানো প্রিয়জনদের জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করেন।
সালাউদ্দিন-২ লঞ্চডুবি শুধু একটি দুর্ঘটনাই নয়, এটি দেশের নৌ-নিরাপত্তা ব্যবস্থার নানা দুর্বলতাকেও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে আসে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, আবহাওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা, লাইফ জ্যাকেট ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব—এসব কারণকে এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন তদন্তেও এসব অনিয়ম উঠে আসে।
দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই ট্র্যাজেডির ক্ষত এখনো শুকায়নি। উপকূলীয় জনপদের মানুষের কাছে এটি শুধু একটি দুর্ঘটনার স্মৃতি নয়, বরং এক গভীর বেদনার ইতিহাস। প্রতি বছর এই দিনে তারা হারানো স্বজনদের স্মরণ করেন এবং এমন দুর্ঘটনা যাতে আর কখনো না ঘটে, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী, গলাচিপা ও দশমিনা অঞ্চলের মানুষের কাছে ২ মে একটি গভীর শোকের দিন। ২০০২ সালের এই দিনে ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ে যাত্রীবাহী সালাউদ্দিন-২ লঞ্চ ডুবে গিয়ে ঘটে দেশের অন্যতম মর্মান্তিক নৌদুর্ঘটনা, যা আজও উপকূলীয় জনপদের মানুষের মনে দগদগে ক্ষত হয়ে রয়ে গেছে।
জানা যায়, ঢাকার সদরঘাট থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে আসা লঞ্চটি মেঘনা নদীর শাতনল এলাকার কাছাকাছি পৌঁছালে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও প্রবল দমকা হাওয়ার মুখে পড়ে। নদী তখন উত্তাল, চারদিকে বিরূপ আবহাওয়া। এরই মধ্যে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই লঞ্চটি ঢেউয়ের তীব্রতায় ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। মুহূর্তের মধ্যেই সেটি কাত হয়ে পানিতে তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার সময় অধিকাংশ যাত্রী গভীর ঘুমে ছিলেন বলে জানা যায়। অনেকেই কেবিনে আটকা পড়ে যান, কেউবা বের হওয়ার সুযোগই পাননি। ফলে হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। বিভিন্ন সূত্রে ধারণা করা হয়, এ দুর্ঘটনায় প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন যাত্রী প্রাণ হারান। উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা ৩০০-এর বেশি হলেও বহু যাত্রী নিখোঁজ থেকে যান, যাদের আর কখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই স্থানীয় জেলে, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও প্রশাসনের সমন্বয়ে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। তবে প্রবল স্রোত, গভীর নদী এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অনেক মরদেহ কয়েকদিন পর ভেসে ওঠে, যা স্বজনদের জন্য আরও বেদনাদায়ক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। নদীর তীরে স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় পটুয়াখালীর গলাচিপা, দশমিনা ও রাঙ্গাবালী এলাকার মানুষ। অনেক পরিবার তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে। কেউ হারিয়েছেন সন্তান, কেউ বাবা-মা, আবার কেউবা পুরো পরিবার। এখনো ২ মে এলেই ওইসব এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া- স্থানীয়রা স্মরণ করেন সেই ভয়াল রাত, হারানো প্রিয়জনদের জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করেন।
সালাউদ্দিন-২ লঞ্চডুবি শুধু একটি দুর্ঘটনাই নয়, এটি দেশের নৌ-নিরাপত্তা ব্যবস্থার নানা দুর্বলতাকেও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে আসে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, আবহাওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা, লাইফ জ্যাকেট ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব—এসব কারণকে এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন তদন্তেও এসব অনিয়ম উঠে আসে।
দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই ট্র্যাজেডির ক্ষত এখনো শুকায়নি। উপকূলীয় জনপদের মানুষের কাছে এটি শুধু একটি দুর্ঘটনার স্মৃতি নয়, বরং এক গভীর বেদনার ইতিহাস। প্রতি বছর এই দিনে তারা হারানো স্বজনদের স্মরণ করেন এবং এমন দুর্ঘটনা যাতে আর কখনো না ঘটে, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

আপনার মতামত লিখুন