ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সময়কে ছাপিয়ে যাওয়া এক নাম: মেসি


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৬

সময়কে ছাপিয়ে যাওয়া এক নাম: মেসি
ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল ইতিহাসে কিছু নাম শুধু পরিসংখ্যান নয়, সময়ের স্মৃতিতে জায়গা করে নেয়। Lionel Messi সেই বিরলদের একজন, যাঁর জীবন কাহিনি শুধু গোল বা ট্রফির হিসাব নয়, বরং এক দীর্ঘ অপেক্ষা, লড়াই আর ফিরে আসার গল্প।

১৯৮৭ সালের ২৪ জুন আর্জেন্টিনার রোসারিওতে এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া ছেলেটার শুরুটা ছিল খুবই সাধারণ। কিন্তু বলের প্রতি তার অস্বাভাবিক টান খুব দ্রুতই তাকে আলাদা করে দেয়। ছোটবেলা থেকেই শরীরের বৃদ্ধিজনিত চ্যালেঞ্জ তার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবু পরিবার তাকে ছাড়েনি, আর সেই ভরসাই বদলে দেয় ভবিষ্যৎ।

মাত্র ১৩ বছর বয়সে তাকে পাড়ি জমাতে হয় স্পেনে। নতুন দেশ, নতুন ভাষা, নতুন পরিবেশ। কিন্তু ফুটবল ছিল তার একমাত্র পরিচিত জগৎ। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে এক অনন্য খেলোয়াড়, যিনি দৌড়ের চেয়ে বেশি দক্ষ হয়ে ওঠেন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মুহূর্তে।

বিশ্বকাপ মঞ্চে তার যাত্রা শুরু হয় ২০০৬ সালে। তখন তিনি কেবল এক তরুণ প্রতিভা। এরপর একে একে ২০১০, ২০১৪ আর ২০১৮—প্রতিটি আসরই তাকে নতুন করে পরীক্ষা নেয়। বিশেষ করে ২০১৪ সালের আসরটি ছিল তার জন্য সবচেয়ে কঠিন ও আবেগঘন অধ্যায়, যেখানে খুব কাছে গিয়েও শিরোপা ছোঁয়া হয়নি।

কিন্তু গল্প সেখানেই থেমে থাকেনি। ২০২১ সালে জাতীয় দলের হয়ে শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটে। সেই মুহূর্তে তার চোখের জল ছিল শুধু আনন্দের নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা চাপ থেকে মুক্তির প্রতিচ্ছবি।

এরপর আসে ২০২২ বিশ্বকাপ। সেই আসরে তিনি হয়ে ওঠেন পুরো দলের নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে তোলার মুহূর্তটি শুধু আর্জেন্টিনার নয়, পুরো ফুটবল বিশ্বের জন্যই এক আবেগঘন দৃশ্য হয়ে থাকে।

বর্তমান সময়ে এসে তিনি খেলছেন নতুন ভূমিকায়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তার খেলার ধরন বদলেছে, কিন্তু প্রভাব কমেনি। এখন তিনি বেশি দৌড়ান না, বরং খেলাকে নিয়ন্ত্রণ করেন নিজের ছন্দে। মুহূর্ত বুঝে সিদ্ধান্ত নেন, আর এক স্পর্শেই বদলে দেন ম্যাচের গতি।

বর্তমানে ক্লাব ফুটবলে তিনি যুক্ত আছেন Inter Miami CF-এর হয়ে নতুন অধ্যায়ে। সেখানেও তার উপস্থিতি এখনো সমানভাবে আলো ছড়ায়।

এই সময়ে নতুন প্রজন্ম উঠে এসেছে—এমবাপ্পে, হালান্ড বা ইয়ামালের মতো নামগুলো ভবিষ্যতের প্রতীক। তবু আলোচনার কেন্দ্রে আবারও ঘুরে আসে সেই একই নাম। কারণ কিছু খেলোয়াড় সমসাময়িকদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, আর কিছু খেলোয়াড় সময়ের সঙ্গেই লড়াই করেন।

মেসি সেই দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষ। যিনি শুধু ম্যাচ জেতান না, বরং ফুটবলের গল্পকে নতুন করে লিখে দেন।

বিষয় : ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ FIFA WORLD CUP 2026 ARGENTINA

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


সময়কে ছাপিয়ে যাওয়া এক নাম: মেসি

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

featured Image

ফুটবল ইতিহাসে কিছু নাম শুধু পরিসংখ্যান নয়, সময়ের স্মৃতিতে জায়গা করে নেয়। Lionel Messi সেই বিরলদের একজন, যাঁর জীবন কাহিনি শুধু গোল বা ট্রফির হিসাব নয়, বরং এক দীর্ঘ অপেক্ষা, লড়াই আর ফিরে আসার গল্প।

১৯৮৭ সালের ২৪ জুন আর্জেন্টিনার রোসারিওতে এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া ছেলেটার শুরুটা ছিল খুবই সাধারণ। কিন্তু বলের প্রতি তার অস্বাভাবিক টান খুব দ্রুতই তাকে আলাদা করে দেয়। ছোটবেলা থেকেই শরীরের বৃদ্ধিজনিত চ্যালেঞ্জ তার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবু পরিবার তাকে ছাড়েনি, আর সেই ভরসাই বদলে দেয় ভবিষ্যৎ।

মাত্র ১৩ বছর বয়সে তাকে পাড়ি জমাতে হয় স্পেনে। নতুন দেশ, নতুন ভাষা, নতুন পরিবেশ। কিন্তু ফুটবল ছিল তার একমাত্র পরিচিত জগৎ। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে এক অনন্য খেলোয়াড়, যিনি দৌড়ের চেয়ে বেশি দক্ষ হয়ে ওঠেন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মুহূর্তে।

বিশ্বকাপ মঞ্চে তার যাত্রা শুরু হয় ২০০৬ সালে। তখন তিনি কেবল এক তরুণ প্রতিভা। এরপর একে একে ২০১০, ২০১৪ আর ২০১৮—প্রতিটি আসরই তাকে নতুন করে পরীক্ষা নেয়। বিশেষ করে ২০১৪ সালের আসরটি ছিল তার জন্য সবচেয়ে কঠিন ও আবেগঘন অধ্যায়, যেখানে খুব কাছে গিয়েও শিরোপা ছোঁয়া হয়নি।

কিন্তু গল্প সেখানেই থেমে থাকেনি। ২০২১ সালে জাতীয় দলের হয়ে শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটে। সেই মুহূর্তে তার চোখের জল ছিল শুধু আনন্দের নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা চাপ থেকে মুক্তির প্রতিচ্ছবি।

এরপর আসে ২০২২ বিশ্বকাপ। সেই আসরে তিনি হয়ে ওঠেন পুরো দলের নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে তোলার মুহূর্তটি শুধু আর্জেন্টিনার নয়, পুরো ফুটবল বিশ্বের জন্যই এক আবেগঘন দৃশ্য হয়ে থাকে।

বর্তমান সময়ে এসে তিনি খেলছেন নতুন ভূমিকায়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তার খেলার ধরন বদলেছে, কিন্তু প্রভাব কমেনি। এখন তিনি বেশি দৌড়ান না, বরং খেলাকে নিয়ন্ত্রণ করেন নিজের ছন্দে। মুহূর্ত বুঝে সিদ্ধান্ত নেন, আর এক স্পর্শেই বদলে দেন ম্যাচের গতি।

বর্তমানে ক্লাব ফুটবলে তিনি যুক্ত আছেন Inter Miami CF-এর হয়ে নতুন অধ্যায়ে। সেখানেও তার উপস্থিতি এখনো সমানভাবে আলো ছড়ায়।

এই সময়ে নতুন প্রজন্ম উঠে এসেছে—এমবাপ্পে, হালান্ড বা ইয়ামালের মতো নামগুলো ভবিষ্যতের প্রতীক। তবু আলোচনার কেন্দ্রে আবারও ঘুরে আসে সেই একই নাম। কারণ কিছু খেলোয়াড় সমসাময়িকদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, আর কিছু খেলোয়াড় সময়ের সঙ্গেই লড়াই করেন।

মেসি সেই দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষ। যিনি শুধু ম্যাচ জেতান না, বরং ফুটবলের গল্পকে নতুন করে লিখে দেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ