ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জে টেন্ডারবিহীন বিদ্যুৎএর পাওয়ার ট্রান্সফরমার স্থাপনের অভিযোগ



কিশোরগঞ্জে টেন্ডারবিহীন বিদ্যুৎএর পাওয়ার ট্রান্সফরমার স্থাপনের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি ক্রয় নীতিমালার (PPR) তোয়াক্কা না করে কোনো প্রকার টেন্ডার বা দরপত্র আহ্বান ছাড়াই কিশোরগঞ্জের যশোদল বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনে একটি দামি পাওয়ার ট্রান্সফরমার স্থাপনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

টাঙ্গাইলের এক বিতর্কিত ও বিগত ১৭ বছরের সুবিধাভোগী ঠিকাদার ইপিআর হোসেন ,সত্বাধিকারী – শাপলা এন্টারপ্রাইজ এর মাধ্যমে গোপনীয়ভাবে এই কাজ করিয়ে নিচ্ছেন কিশোরগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুর রউফ এবং সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেট ও প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো বড় ধরনের কারিগরি কাজ বা যন্ত্রপাতি স্থাপনের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্র কিংবা নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু কিশোরগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসে নিয়ম-নীতির কোনো তোয়াক্কাই করা হয়নি। কোনো রকম অফিশিয়াল টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই যশোদল সাব-স্টেশনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে সরাসরি টাঙ্গাইলের ওই ঠিকাদারকে দিয়ে এই পাওয়ার ট্রান্সফরমার স্থাপনের কাজ করানো হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, উক্ত ঠিকাদার বিগত সরকারের প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে অনিয়ম করে আসছিলেন।

​বিদ্যুৎ বিভাগের ভেতরের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, যশোদল সাব-স্টেশনের এই কাজের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ অসৎ উপায়ে পকেটস্থ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কাজটির প্রকৃত ব্যয় ও নথিপত্রের আড়ালে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকার একটি বিশাল তহবিল নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রউফ এবং ওই ঠিকাদারি চক্র নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেওয়ার চূড়ান্ত বন্দোবস্ত করেছেন। টেন্ডার না হওয়ায় কাজটির গুণগত মান এবং ট্রান্সফরমারটির স্থায়িত্ব নিয়েও বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে, যার খেসারত দিতে হতে পারে স্থানীয় সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের। এই বিষয়ে জানতে কিশোরগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল রউফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি যশোদল সাব -স্টেশনের এই কাজে টেন্ডার না হওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং সুনির্দিষ্ট কোনো সদুওর দিতে পারেননি। অন্যদিকে,অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ যশোদল সাব- স্টেশনে সরকারি অর্থ এভাবে টেন্ডার ছাড়া হরিলুট এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল । এই বিপুল পরিমাণ টাকা ভাগাভাগি ও টেন্ডার জালিয়াতির ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন কিশোরগঞ্জের সাধারণ গ্রাহকেরা।

বিষয়টি নিয়ে সরজমিনে যশোদল সাব সাব- স্টেশানে সাংবাদিক গেলে কর্তৃপক্ক সাংবাদিকদের সাথে দেখা করতে রাজি হয়নি।

অন্যদিকে গেইট থাকা আনসার সদস্য রানা ও আ: রহমান ও খলিলুর রহমান যোগাযোগ করলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা আনসারদের বলেন, অফিসের কারো নাম, পদবী,পরিচয় না জানাতে।

এমনকি কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে বলেন বলে জানান আনসার বাহিনীর দায়িত্বরত লোকজন।

বিষয়টি নিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, ওখানে সাংবাদিক যেতে আমার অফিসের কোন অনুমতি দরকার নেই। কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপারকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

সচেতন মহলের দাবি কোন অপরাধ না করলে বিদ্যুৎ বিভাগ কেন জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশের নাম ব্যবহার করে প্রশাসনকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে তা পরিষ্কার হওয়া দরকার সেই সাথে আনীত অভিযোগের তদন্ত করে সত্য প্রকাশ করা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


কিশোরগঞ্জে টেন্ডারবিহীন বিদ্যুৎএর পাওয়ার ট্রান্সফরমার স্থাপনের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image

সরকারি ক্রয় নীতিমালার (PPR) তোয়াক্কা না করে কোনো প্রকার টেন্ডার বা দরপত্র আহ্বান ছাড়াই কিশোরগঞ্জের যশোদল বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনে একটি দামি পাওয়ার ট্রান্সফরমার স্থাপনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

টাঙ্গাইলের এক বিতর্কিত ও বিগত ১৭ বছরের সুবিধাভোগী ঠিকাদার ইপিআর হোসেন ,সত্বাধিকারী – শাপলা এন্টারপ্রাইজ এর মাধ্যমে গোপনীয়ভাবে এই কাজ করিয়ে নিচ্ছেন কিশোরগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুর রউফ এবং সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেট ও প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো বড় ধরনের কারিগরি কাজ বা যন্ত্রপাতি স্থাপনের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্র কিংবা নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু কিশোরগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসে নিয়ম-নীতির কোনো তোয়াক্কাই করা হয়নি। কোনো রকম অফিশিয়াল টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই যশোদল সাব-স্টেশনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে সরাসরি টাঙ্গাইলের ওই ঠিকাদারকে দিয়ে এই পাওয়ার ট্রান্সফরমার স্থাপনের কাজ করানো হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, উক্ত ঠিকাদার বিগত সরকারের প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে অনিয়ম করে আসছিলেন।

​বিদ্যুৎ বিভাগের ভেতরের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, যশোদল সাব-স্টেশনের এই কাজের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ অসৎ উপায়ে পকেটস্থ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কাজটির প্রকৃত ব্যয় ও নথিপত্রের আড়ালে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকার একটি বিশাল তহবিল নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রউফ এবং ওই ঠিকাদারি চক্র নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেওয়ার চূড়ান্ত বন্দোবস্ত করেছেন। টেন্ডার না হওয়ায় কাজটির গুণগত মান এবং ট্রান্সফরমারটির স্থায়িত্ব নিয়েও বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে, যার খেসারত দিতে হতে পারে স্থানীয় সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের। এই বিষয়ে জানতে কিশোরগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল রউফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি যশোদল সাব -স্টেশনের এই কাজে টেন্ডার না হওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং সুনির্দিষ্ট কোনো সদুওর দিতে পারেননি। অন্যদিকে,অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ যশোদল সাব- স্টেশনে সরকারি অর্থ এভাবে টেন্ডার ছাড়া হরিলুট এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল । এই বিপুল পরিমাণ টাকা ভাগাভাগি ও টেন্ডার জালিয়াতির ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন কিশোরগঞ্জের সাধারণ গ্রাহকেরা।

বিষয়টি নিয়ে সরজমিনে যশোদল সাব সাব- স্টেশানে সাংবাদিক গেলে কর্তৃপক্ক সাংবাদিকদের সাথে দেখা করতে রাজি হয়নি।

অন্যদিকে গেইট থাকা আনসার সদস্য রানা ও আ: রহমান ও খলিলুর রহমান যোগাযোগ করলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা আনসারদের বলেন, অফিসের কারো নাম, পদবী,পরিচয় না জানাতে।

এমনকি কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে বলেন বলে জানান আনসার বাহিনীর দায়িত্বরত লোকজন।

বিষয়টি নিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, ওখানে সাংবাদিক যেতে আমার অফিসের কোন অনুমতি দরকার নেই। কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপারকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

সচেতন মহলের দাবি কোন অপরাধ না করলে বিদ্যুৎ বিভাগ কেন জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশের নাম ব্যবহার করে প্রশাসনকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে তা পরিষ্কার হওয়া দরকার সেই সাথে আনীত অভিযোগের তদন্ত করে সত্য প্রকাশ করা প্রয়োজন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ