ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলকে ৩-১ ব্যবধানে জয় এনে দিয়েছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত অর্জনের খাতায় যোগ করেছেন একাধিক নতুন রেকর্ড।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই এমবাপ্পেকে ঘিরে আলোচনা ছিল তুঙ্গে। ক্লাব ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়টা প্রত্যাশামতো না কাটলেও জাতীয় দলের জার্সিতে তিনি যে এখনও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অস্ত্র, সেটি আরও একবার প্রমাণ করলেন। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকা ফ্রান্সের হয়ে দুইবার প্রতিপক্ষের জাল কাঁপিয়ে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শুধু তার পারফরম্যান্স নয়, সমালোচকদের উদ্দেশে দেওয়া মন্তব্যও। এমবাপ্পে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি কাউকে চুপ করিয়ে দিতে মাঠে নামেন না। তার লক্ষ্য দেশের হয়ে সাফল্য এনে দেওয়া এবং ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠা।
ম্যাচ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় ফরাসি অধিনায়ক বলেন, সবাইকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়। যদি সেটিই লক্ষ্য হতো, তাহলে হয়তো আরও দীর্ঘ সময় খেলতে হতো। কিন্তু তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জাতীয় দলের সাফল্য এবং বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করা।
এই ম্যাচে দুটি গোল করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮-তে। এর মধ্য দিয়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন ফ্রান্সের হয়ে এতদিন সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে থাকা অলিভিয়ে জিরুকে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন ফরাসি ফুটবলের সর্বকালের সেরাদের কাতারে।
শুধু আন্তর্জাতিক ফুটবলেই নয়, বিশ্বকাপের মঞ্চেও নিজের আধিপত্য আরও সুদৃঢ় করেছেন এই ফরোয়ার্ড। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪-তে, যা ফ্রান্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এতদিন এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন কিংবদন্তি জুস্ত ফঁতেন। তাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন ইতিহাস গড়লেন এমবাপ্পে।
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে অনেক আগেই নিজেকে বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গেছেন ২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চাপ সামলে দলকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাও বারবার দেখিয়েছেন তিনি। সেনেগালের বিপক্ষেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলীয় পারফরম্যান্সকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক। ম্যাচ শেষে তিনি স্বীকার করেন, জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও ফ্রান্স এখনও নিজেদের সেরা ছন্দে পৌঁছাতে পারেনি। সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এমবাপ্পের মতে, বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচই সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিটি প্রতিপক্ষই চ্যালেঞ্জিং। সে কারণে প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়া দলকে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখে। তবে এখনই আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই; বরং ধাপে ধাপে উন্নতি করে পরবর্তী রাউন্ডের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।
সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে শেষবারের মতো নিজের অবস্থানও পরিষ্কার করেছেন ফরাসি অধিনায়ক। তিনি জানান, মাঠের বাইরের আলোচনা বা সমালোচনা তাকে প্রভাবিত করে না। তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দলের অগ্রগতি এবং মাঠে নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা।
বিশ্বকাপের পথচলা মাত্র শুরু হয়েছে। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই রেকর্ড, নেতৃত্ব এবং দৃঢ় মানসিকতার প্রদর্শনী করে এমবাপ্পে বুঝিয়ে দিয়েছেন—ব্যক্তিগত স্বীকৃতির চেয়ে দেশের হয়ে নতুন ইতিহাস গড়াই তার সবচেয়ে বড় প্রেরণা।
#আরইউএস

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলকে ৩-১ ব্যবধানে জয় এনে দিয়েছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত অর্জনের খাতায় যোগ করেছেন একাধিক নতুন রেকর্ড।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই এমবাপ্পেকে ঘিরে আলোচনা ছিল তুঙ্গে। ক্লাব ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়টা প্রত্যাশামতো না কাটলেও জাতীয় দলের জার্সিতে তিনি যে এখনও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অস্ত্র, সেটি আরও একবার প্রমাণ করলেন। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকা ফ্রান্সের হয়ে দুইবার প্রতিপক্ষের জাল কাঁপিয়ে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শুধু তার পারফরম্যান্স নয়, সমালোচকদের উদ্দেশে দেওয়া মন্তব্যও। এমবাপ্পে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি কাউকে চুপ করিয়ে দিতে মাঠে নামেন না। তার লক্ষ্য দেশের হয়ে সাফল্য এনে দেওয়া এবং ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠা।
ম্যাচ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় ফরাসি অধিনায়ক বলেন, সবাইকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়। যদি সেটিই লক্ষ্য হতো, তাহলে হয়তো আরও দীর্ঘ সময় খেলতে হতো। কিন্তু তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জাতীয় দলের সাফল্য এবং বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করা।
এই ম্যাচে দুটি গোল করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮-তে। এর মধ্য দিয়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন ফ্রান্সের হয়ে এতদিন সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে থাকা অলিভিয়ে জিরুকে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন ফরাসি ফুটবলের সর্বকালের সেরাদের কাতারে।
শুধু আন্তর্জাতিক ফুটবলেই নয়, বিশ্বকাপের মঞ্চেও নিজের আধিপত্য আরও সুদৃঢ় করেছেন এই ফরোয়ার্ড। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪-তে, যা ফ্রান্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এতদিন এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন কিংবদন্তি জুস্ত ফঁতেন। তাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন ইতিহাস গড়লেন এমবাপ্পে।
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে অনেক আগেই নিজেকে বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গেছেন ২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চাপ সামলে দলকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাও বারবার দেখিয়েছেন তিনি। সেনেগালের বিপক্ষেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলীয় পারফরম্যান্সকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক। ম্যাচ শেষে তিনি স্বীকার করেন, জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও ফ্রান্স এখনও নিজেদের সেরা ছন্দে পৌঁছাতে পারেনি। সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এমবাপ্পের মতে, বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচই সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিটি প্রতিপক্ষই চ্যালেঞ্জিং। সে কারণে প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়া দলকে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখে। তবে এখনই আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই; বরং ধাপে ধাপে উন্নতি করে পরবর্তী রাউন্ডের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।
সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে শেষবারের মতো নিজের অবস্থানও পরিষ্কার করেছেন ফরাসি অধিনায়ক। তিনি জানান, মাঠের বাইরের আলোচনা বা সমালোচনা তাকে প্রভাবিত করে না। তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দলের অগ্রগতি এবং মাঠে নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা।
বিশ্বকাপের পথচলা মাত্র শুরু হয়েছে। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই রেকর্ড, নেতৃত্ব এবং দৃঢ় মানসিকতার প্রদর্শনী করে এমবাপ্পে বুঝিয়ে দিয়েছেন—ব্যক্তিগত স্বীকৃতির চেয়ে দেশের হয়ে নতুন ইতিহাস গড়াই তার সবচেয়ে বড় প্রেরণা।
#আরইউএস

আপনার মতামত লিখুন