বর্তমানে একবিংশ শতাব্দীতে আমাদের বসবাস। ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), ইনস্টাগ্রাম, টিকটকের মতো অত্যাধুনিক মাধ্যমগুলো এখন আমাদের যোগাযোগের বহুল ব্যবহৃত হাতিয়ার হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। ডেটা রিপোর্টাল-এর প্রতিবেদন মোতাবেক বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৩৪.৩ শতাংশই এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন।
তবে আশঙ্কার ব্যাপার হলো নামে “সামাজিক” শব্দ থাকলেও মাধ্যমগুলো তাদের ব্যবহারকারীদের মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ককে উন্নত করার সঙ্গে সঙ্গে বেশকিছু উপায়ে বিভেদের বার্তাকে ছড়িয়ে দিচ্ছে বিপুলভাবে। যা সামাজিক সংহতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে ক্রমান্বয়ে হুমকির সম্মুখীন করছে। গুজব, অপতথ্য, ভুল তথ্যের প্রচার ও প্রসারে এসব মাধ্যম সয়লাব হয়ে উঠছে। এমনকি সামাজিক মেরুকরণের জন্মও দিচ্ছে অনেক সময়। যার ফায়দা লুটে নিচ্ছে সুযোগসন্ধানী অসাধু অপরাধী চক্রগুলো।
আজন্ম মানুষ সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের মতো বৈচিত্র্যময় সমাজব্যবস্থায় সেই পরিচয় হয়ে উঠেছে আরও দৃঢ়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, সাঁওতাল, ওরাওঁ, হরিজন, প্রভৃতি ধর্ম ও বর্ণের মানুষ এই ভূমিতে বসবাস করে আসছেন সম্প্রীতির সঙ্গে।
তবে অসৎ ও বিবেকবর্জিত নানা রাজনৈতিক, সামাজিক স্বার্থান্বেষী মহল সবসময়ই “বিভাজনের খেলা” খেলে এসব সম্প্রদায়ের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করে নিজেদের কার্যসিদ্ধি করার পাঁয়তারায় লিপ্ত রয়েছে। সমসাময়িক বাস্তবতায় ডিজিটাল অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে অপব্যবহার করে এখনও তারা নিজেদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে কৌশলে।
এই পরিস্থিতিতে দেশের সকল পর্যায়ের নাগরিকেরা সতর্ক না হলে সমাজে যেমন বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি দেখা দেবে, তেমনিভাবে সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো অচল হয়ে পড়বে। যা বাংলাদেশের মতো নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের মানুষের জীবনমানের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে মারাত্মকভাবে।
সাধারণত, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভাইরাল ও ট্রেন্ডিং প্রবণতা কুচক্রী মহলসমূহকে সূক্ষ্মভাবে সামাজিক মেরুকরণ তৈরিতে অনুঘটক এমন সব কনটেন্ট ছড়িয়ে দিতে ব্যাপক হারে সহায়তা করে থাকে। পাশাপাশি, প্ল্যাটফর্মগুলোর আধুনিক অ্যালগরিদম কৌশলগুলো বর্তমানে সহিংসতা ও ঘৃণা বক্তব্যযুক্ত কনটেন্টগুলোকে প্রায়শই আরও অধিকতর জনগোষ্ঠীর মাঝে ছড়িয়ে দেয় স্রেফ অধিক মিথস্ক্রিয়ার কারণে।
এতে করে সমাজে বিরাজমান নানা ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে দূরত্বের সৃষ্টি হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে তুমুল বৈরিতা। যা এক পর্যায়ে ডিজিটাল ক্ষেত্র ছাড়িয়ে বাস্তবজীবনের প্রকাশ্য সংঘাত পর্যন্ত উসকে দিচ্ছে।
একইসঙ্গে, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক সংবেদনশীল নানা ইস্যুতে অহেতুক বিতর্ক, ভাষ্য তৈরি করে জনসাধারণকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টাও সমানতালে চলছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষায় বিদেশি শব্দের ব্যবহার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তর্ক-বিতর্কের ঝড় তারই প্রমাণ।
অথচ ভাষাতত্ত্ববিদদের মতে, ভাষা কখনো স্থির ও জড় বস্তু নয়। এটি একটি সংকর বিষয়, যা সময়, পরিবেশ ও পরিস্থিতির মতো নানা প্রভাবকের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এরপরও সুযোগসন্ধানী বহু রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী ইস্যুটি নিয়ে নিজেদের ভাষ্য অহেতুকভাবে প্রচার করে সমাজে বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছে, যা কোনোক্রমেই কাম্য নয়।
আবার, ডিজিটাল মাধ্যমগুলোর ব্যবহারকারীদের গণমাধ্যম সাক্ষরতার অভাবও এই সংকটকে ঘনীভূত করছে বহুগুণে। বিশেষ করে কেনোকিছু যখন যাচাই-বাছাই না করে শেয়ার করা হয় কিংবা কোনো বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিষয় নিয়ে অপ্রয়োজনীয় আলাপে লিপ্ত হন ব্যবহারকারীরা, তখন সমগ্র বিষয়টি সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।
সমাজবিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ মোতাবেক, এসব পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে সম্মিলিতভাবে সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দকে এগিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্র, সমাজ তথা গোটা জনপদের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও অগ্রসরতাকে সুসংহত করার লক্ষ্যে বিবদমান পক্ষগুলোর মাঝে গঠনমূলক সংলাপ আয়োজনের চর্চা বাড়াতে হবে।
পাশাপাশি, ডিজিটাল মাধ্যমগুলোতে গুজব, অপতথ্য, ঘৃণাসূচক ও বিভ্রান্তিকর বার্তার প্রচার ও প্রসার ঠেকাতে দক্ষ যুবশক্তিকে মনিটরিং কার্যক্রমে নিয়োজিত করা যেতে পারে। তাঁরা অযাচিত ও স্পর্শকাতর কনটেন্ট চোখে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো নিজেদের কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়া রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। দরকার পড়লে স্থানীয় মসজিদ, মন্দিরে মাইকিং করে প্রচারণা চালানো কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ সভা আয়োজনের মাধ্যমে সংঘাতের আগাম পূর্বাভাসকে প্রশমিত করার চেষ্টা করতে হবে।
একইসঙ্গে, তৃণমূল পর্যায়ের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে গণমাধ্যম সাক্ষরতা ও ফ্যাক্টচেকিংয়ের নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তোলার বিষয়েও জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এতে করে জনসাধারণ নিজেরাই সহজে কোন কনটেন্ট ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে, কিংবা কোন কনটেন্ট গুজব ছড়িয়ে সংঘাত উসকে দিচ্ছে তা চিহ্নিত করতে পারবেন।
তবে এ ধরনের উদ্যোগকে বাস্তবে রূপ দিতে স্থানীয় সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন। দরকার সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীসমূহের একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান, যাদের কাছে সর্বদা প্রাধান্য পাবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অখণ্ডতা, স্থিতিশীলতা এবং ন্যায়সঙ্গত উন্নয়ন সাধনের দাবি। তাহলেই ডিজিটাল মাধ্যমগুলোকে সামাজিক মেরুকরণের হাতিয়ার হওয়ার পরিবর্তে একটি কল্যাণকর ক্ষেত্রে রূপান্তরে আরেক ধাপ এগিয়ে যাওয়া সহজতর হবে।
• রুশাইদ আহমেদ, কবি, সাংবাদিক ও কলামিস্ট। নিয়মিত ভূরাজনীতি, সমাজ, সাহিত্য, যোগাযোগ নিয়ে লিখে থাকেন। মেইল: rusaidahmed02@gmail.com
বিষয় : সামাজিক মেরুকরণ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬
বর্তমানে একবিংশ শতাব্দীতে আমাদের বসবাস। ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), ইনস্টাগ্রাম, টিকটকের মতো অত্যাধুনিক মাধ্যমগুলো এখন আমাদের যোগাযোগের বহুল ব্যবহৃত হাতিয়ার হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। ডেটা রিপোর্টাল-এর প্রতিবেদন মোতাবেক বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৩৪.৩ শতাংশই এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন।
তবে আশঙ্কার ব্যাপার হলো নামে “সামাজিক” শব্দ থাকলেও মাধ্যমগুলো তাদের ব্যবহারকারীদের মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ককে উন্নত করার সঙ্গে সঙ্গে বেশকিছু উপায়ে বিভেদের বার্তাকে ছড়িয়ে দিচ্ছে বিপুলভাবে। যা সামাজিক সংহতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে ক্রমান্বয়ে হুমকির সম্মুখীন করছে। গুজব, অপতথ্য, ভুল তথ্যের প্রচার ও প্রসারে এসব মাধ্যম সয়লাব হয়ে উঠছে। এমনকি সামাজিক মেরুকরণের জন্মও দিচ্ছে অনেক সময়। যার ফায়দা লুটে নিচ্ছে সুযোগসন্ধানী অসাধু অপরাধী চক্রগুলো।
আজন্ম মানুষ সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের মতো বৈচিত্র্যময় সমাজব্যবস্থায় সেই পরিচয় হয়ে উঠেছে আরও দৃঢ়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, সাঁওতাল, ওরাওঁ, হরিজন, প্রভৃতি ধর্ম ও বর্ণের মানুষ এই ভূমিতে বসবাস করে আসছেন সম্প্রীতির সঙ্গে।
তবে অসৎ ও বিবেকবর্জিত নানা রাজনৈতিক, সামাজিক স্বার্থান্বেষী মহল সবসময়ই “বিভাজনের খেলা” খেলে এসব সম্প্রদায়ের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করে নিজেদের কার্যসিদ্ধি করার পাঁয়তারায় লিপ্ত রয়েছে। সমসাময়িক বাস্তবতায় ডিজিটাল অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে অপব্যবহার করে এখনও তারা নিজেদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে কৌশলে।
এই পরিস্থিতিতে দেশের সকল পর্যায়ের নাগরিকেরা সতর্ক না হলে সমাজে যেমন বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি দেখা দেবে, তেমনিভাবে সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো অচল হয়ে পড়বে। যা বাংলাদেশের মতো নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের মানুষের জীবনমানের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে মারাত্মকভাবে।
সাধারণত, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভাইরাল ও ট্রেন্ডিং প্রবণতা কুচক্রী মহলসমূহকে সূক্ষ্মভাবে সামাজিক মেরুকরণ তৈরিতে অনুঘটক এমন সব কনটেন্ট ছড়িয়ে দিতে ব্যাপক হারে সহায়তা করে থাকে। পাশাপাশি, প্ল্যাটফর্মগুলোর আধুনিক অ্যালগরিদম কৌশলগুলো বর্তমানে সহিংসতা ও ঘৃণা বক্তব্যযুক্ত কনটেন্টগুলোকে প্রায়শই আরও অধিকতর জনগোষ্ঠীর মাঝে ছড়িয়ে দেয় স্রেফ অধিক মিথস্ক্রিয়ার কারণে।
এতে করে সমাজে বিরাজমান নানা ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে দূরত্বের সৃষ্টি হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে তুমুল বৈরিতা। যা এক পর্যায়ে ডিজিটাল ক্ষেত্র ছাড়িয়ে বাস্তবজীবনের প্রকাশ্য সংঘাত পর্যন্ত উসকে দিচ্ছে।
একইসঙ্গে, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক সংবেদনশীল নানা ইস্যুতে অহেতুক বিতর্ক, ভাষ্য তৈরি করে জনসাধারণকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টাও সমানতালে চলছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষায় বিদেশি শব্দের ব্যবহার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তর্ক-বিতর্কের ঝড় তারই প্রমাণ।
অথচ ভাষাতত্ত্ববিদদের মতে, ভাষা কখনো স্থির ও জড় বস্তু নয়। এটি একটি সংকর বিষয়, যা সময়, পরিবেশ ও পরিস্থিতির মতো নানা প্রভাবকের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এরপরও সুযোগসন্ধানী বহু রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী ইস্যুটি নিয়ে নিজেদের ভাষ্য অহেতুকভাবে প্রচার করে সমাজে বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছে, যা কোনোক্রমেই কাম্য নয়।
আবার, ডিজিটাল মাধ্যমগুলোর ব্যবহারকারীদের গণমাধ্যম সাক্ষরতার অভাবও এই সংকটকে ঘনীভূত করছে বহুগুণে। বিশেষ করে কেনোকিছু যখন যাচাই-বাছাই না করে শেয়ার করা হয় কিংবা কোনো বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিষয় নিয়ে অপ্রয়োজনীয় আলাপে লিপ্ত হন ব্যবহারকারীরা, তখন সমগ্র বিষয়টি সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।
সমাজবিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ মোতাবেক, এসব পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে সম্মিলিতভাবে সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দকে এগিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্র, সমাজ তথা গোটা জনপদের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও অগ্রসরতাকে সুসংহত করার লক্ষ্যে বিবদমান পক্ষগুলোর মাঝে গঠনমূলক সংলাপ আয়োজনের চর্চা বাড়াতে হবে।
পাশাপাশি, ডিজিটাল মাধ্যমগুলোতে গুজব, অপতথ্য, ঘৃণাসূচক ও বিভ্রান্তিকর বার্তার প্রচার ও প্রসার ঠেকাতে দক্ষ যুবশক্তিকে মনিটরিং কার্যক্রমে নিয়োজিত করা যেতে পারে। তাঁরা অযাচিত ও স্পর্শকাতর কনটেন্ট চোখে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো নিজেদের কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়া রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। দরকার পড়লে স্থানীয় মসজিদ, মন্দিরে মাইকিং করে প্রচারণা চালানো কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ সভা আয়োজনের মাধ্যমে সংঘাতের আগাম পূর্বাভাসকে প্রশমিত করার চেষ্টা করতে হবে।
একইসঙ্গে, তৃণমূল পর্যায়ের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে গণমাধ্যম সাক্ষরতা ও ফ্যাক্টচেকিংয়ের নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তোলার বিষয়েও জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এতে করে জনসাধারণ নিজেরাই সহজে কোন কনটেন্ট ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে, কিংবা কোন কনটেন্ট গুজব ছড়িয়ে সংঘাত উসকে দিচ্ছে তা চিহ্নিত করতে পারবেন।
তবে এ ধরনের উদ্যোগকে বাস্তবে রূপ দিতে স্থানীয় সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন। দরকার সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীসমূহের একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান, যাদের কাছে সর্বদা প্রাধান্য পাবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অখণ্ডতা, স্থিতিশীলতা এবং ন্যায়সঙ্গত উন্নয়ন সাধনের দাবি। তাহলেই ডিজিটাল মাধ্যমগুলোকে সামাজিক মেরুকরণের হাতিয়ার হওয়ার পরিবর্তে একটি কল্যাণকর ক্ষেত্রে রূপান্তরে আরেক ধাপ এগিয়ে যাওয়া সহজতর হবে।
• রুশাইদ আহমেদ, কবি, সাংবাদিক ও কলামিস্ট। নিয়মিত ভূরাজনীতি, সমাজ, সাহিত্য, যোগাযোগ নিয়ে লিখে থাকেন। মেইল: rusaidahmed02@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন