দেশে নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেলেও নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন এখনো একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা। নারী নির্যাতন শুধু শারীরিক সহিংসতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় মানসিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিপীড়নও অন্তর্ভুক্ত। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি এবং পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনা নিয়মিতভাবে সমাজের সামনে আসে, যা নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করে।
উন্নয়নের নানা অগ্রগতি সত্ত্বেও সমাজের একটি অংশ এখনো নারীকে সমঅধিকারসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। কর্মক্ষেত্র, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরে নারীরা বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হন। বিশেষ করে যৌন সহিংসতা, বাল্যবিবাহ ও পারিবারিক নির্যাতন সমাজে গভীরভাবে প্রোথিত।
এই বাস্তবতার প্রতিফলন সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট। ২০২৪ সালে দেশে মোট ৫১৬টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়, যার মধ্যে ২৭০টি ছিল শিশু ধর্ষণের ঘটনা। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে ধর্ষণের মোট ঘটনা বেড়ে ৭৮৬টিতে পৌঁছায়, যার মধ্যে ৫৪৩টি ছিল শিশু ধর্ষণের ঘটনা। একই ধারাবাহিকতায় মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএসএস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের মে মাসে অন্তত ৩০৫ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হন, যাদের মধ্যে ৮৩ জন ধর্ষণের শিকার ছিলেন। এদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ ভুক্তভোগীর বয়স ছিল ১৮ বছরের নিচে যা নারী ও শিশু নিরাপত্তার বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করে তুলেছে।
বাংলাদেশে নারী নির্যাতন বিশেষ করে ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এর অন্যতম কারণ হলো অপরাধীদের যথাযথ শাস্তি না হওয়া। সম্প্রতি, পল্লবীতে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার শিশুটির বাবা আক্ষেপ নিয়ে বলেছেন, ‘আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আপনাদের বিচারের কোনো উদাহরণ নেই।’ শিশুটির বাবার এই আহাজারিই নিশ্চিত করে মানুষের মধ্যে বিচার চাওয়ার এবং প্রতিকারের তাগিদ থাকলেও সেটি যে তারা পাবে তা তাদের কাছে খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, বিচারহীনতা অপরাধীদের আরও অপরাধ করতে উৎসাহিত করে। নারীপক্ষের এক গবেষণায় দেখা যায় ২০১১–২০১৮ সালের মধ্যে হওয়া ৪,৩৭২টি ধর্ষণ মামলার মধ্যে মাত্র ৫টিতে দোষীদের শাস্তি হয়েছে যা বিচারব্যবস্থার দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
এর পাশাপাশি জটিল মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব, সামাজিক ও ধর্মীয় পরিসরে দুর্বল নৈতিক শিক্ষা এবং সচেতনতার অভাবও এই সমস্যাকে আরও গভীর করে তোলে। অনেক ক্ষেত্রে ধর্ষণ, নারী ও শিশুর প্রতি নির্যাতন ও হত্যার মতো গুরুতর ঘটনা সময়ের সঙ্গে চাপা পড়ে যায় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে দোষীরা শাস্তি এড়িয়ে যায়। পাশাপাশি বিচারপ্রাপ্তি অনেক সময় ভুক্তভোগীর সামাজিক অবস্থান ও ঘটনার প্রচারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে যা বিচারব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও বিদ্যমান বিচারহীনতার বাস্তবতাকে আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।
নারীর প্রতি সহিংসতা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর সংঘটিত অপরাধ নয় এটি মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি বড় হুমকি। একটি দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে তাহলে সেই দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। নারীরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে ভয় পান যা অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। নারী নির্যাতনের ঘটনা সমাজে আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাকেও দুর্বল করে দেয়। যখন অপরাধীরা শাস্তি এড়িয়ে যায় বা বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয় তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচারহীনতার ধারণা তৈরি হয় যা অপরাধের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে।
নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, সহিংসতা ও নিগ্রহের মতো ঘটনার ঊর্ধ্বগতি সমাজে বহুমাত্রিক নেতিবাচক পরিণতি তৈরি করে। এমন পরিস্থিতিতে যখন একটি দেশ নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার কথা তখন এসব সহিংসতার বৃদ্ধি নারীর সামাজিক অংশগ্রহণকে মারাত্মকভাবে নিরুৎসাহিত করে। এর ফলে নারীরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জনপরিসরে সক্রিয় ভূমিকা পালনে অনিশ্চয়তা ও ভয় অনুভব করেন। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে বাল্যবিবাহ ও স্কুল থেকে ঝরে পড়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায় যার পেছনে নারীর নিরাপত্তাহীনতা একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে কাজ করে। এর ফলস্বরূপ নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং তারা ধীরে ধীরে প্রান্তিক অবস্থানে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।
নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ প্রতিরোধে বিভিন্ন পক্ষ থেকে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নৈতিক ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আইনি কাঠামোর কার্যকর প্রয়োগকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়। ২০২০ সালে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে শুধু শাস্তি বাড়ানোই যথেষ্ট নয় বরং বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা, প্রমাণ সংগ্রহের দুর্বলতা এবং আইনের ধীর বাস্তবায়ন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। ফলে অপরাধ দমনে আইনের কঠোরতার পাশাপাশি দ্রুত ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি।
অন্যদিকে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে নারীদের জন্য বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি আইনি সহায়তা ও সেবা চালু থাকলেও অনেকেই এসব বিষয়ে যথেষ্ট অবগত নন। এর পাশাপাশি সরকারের উদ্যোগ হিসেবে চালু থাকা ‘নারী সহায়তা কেন্দ্র’ বর্তমানে মাত্র সাতটি হওয়ায় তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাই প্রতিটি জেলায় এবং পরবর্তীতে প্রতিটি উপজেলায় এ ধরনের সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি ও তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে ভুক্তভোগীরা সহজে ও দ্রুত সহায়তা পেতে পারেন এবং নারীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর হয়।
লেখক: শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।
#আরইউএ
বিষয় : নারী নির্যাতন ধর্ষণ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
দেশে নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেলেও নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন এখনো একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা। নারী নির্যাতন শুধু শারীরিক সহিংসতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় মানসিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিপীড়নও অন্তর্ভুক্ত। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি এবং পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনা নিয়মিতভাবে সমাজের সামনে আসে, যা নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করে।
উন্নয়নের নানা অগ্রগতি সত্ত্বেও সমাজের একটি অংশ এখনো নারীকে সমঅধিকারসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। কর্মক্ষেত্র, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরে নারীরা বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হন। বিশেষ করে যৌন সহিংসতা, বাল্যবিবাহ ও পারিবারিক নির্যাতন সমাজে গভীরভাবে প্রোথিত।
এই বাস্তবতার প্রতিফলন সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট। ২০২৪ সালে দেশে মোট ৫১৬টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়, যার মধ্যে ২৭০টি ছিল শিশু ধর্ষণের ঘটনা। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে ধর্ষণের মোট ঘটনা বেড়ে ৭৮৬টিতে পৌঁছায়, যার মধ্যে ৫৪৩টি ছিল শিশু ধর্ষণের ঘটনা। একই ধারাবাহিকতায় মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএসএস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের মে মাসে অন্তত ৩০৫ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হন, যাদের মধ্যে ৮৩ জন ধর্ষণের শিকার ছিলেন। এদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ ভুক্তভোগীর বয়স ছিল ১৮ বছরের নিচে যা নারী ও শিশু নিরাপত্তার বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করে তুলেছে।
বাংলাদেশে নারী নির্যাতন বিশেষ করে ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এর অন্যতম কারণ হলো অপরাধীদের যথাযথ শাস্তি না হওয়া। সম্প্রতি, পল্লবীতে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার শিশুটির বাবা আক্ষেপ নিয়ে বলেছেন, ‘আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আপনাদের বিচারের কোনো উদাহরণ নেই।’ শিশুটির বাবার এই আহাজারিই নিশ্চিত করে মানুষের মধ্যে বিচার চাওয়ার এবং প্রতিকারের তাগিদ থাকলেও সেটি যে তারা পাবে তা তাদের কাছে খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, বিচারহীনতা অপরাধীদের আরও অপরাধ করতে উৎসাহিত করে। নারীপক্ষের এক গবেষণায় দেখা যায় ২০১১–২০১৮ সালের মধ্যে হওয়া ৪,৩৭২টি ধর্ষণ মামলার মধ্যে মাত্র ৫টিতে দোষীদের শাস্তি হয়েছে যা বিচারব্যবস্থার দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
এর পাশাপাশি জটিল মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব, সামাজিক ও ধর্মীয় পরিসরে দুর্বল নৈতিক শিক্ষা এবং সচেতনতার অভাবও এই সমস্যাকে আরও গভীর করে তোলে। অনেক ক্ষেত্রে ধর্ষণ, নারী ও শিশুর প্রতি নির্যাতন ও হত্যার মতো গুরুতর ঘটনা সময়ের সঙ্গে চাপা পড়ে যায় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে দোষীরা শাস্তি এড়িয়ে যায়। পাশাপাশি বিচারপ্রাপ্তি অনেক সময় ভুক্তভোগীর সামাজিক অবস্থান ও ঘটনার প্রচারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে যা বিচারব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও বিদ্যমান বিচারহীনতার বাস্তবতাকে আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।
নারীর প্রতি সহিংসতা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর সংঘটিত অপরাধ নয় এটি মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি বড় হুমকি। একটি দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে তাহলে সেই দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। নারীরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে ভয় পান যা অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। নারী নির্যাতনের ঘটনা সমাজে আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাকেও দুর্বল করে দেয়। যখন অপরাধীরা শাস্তি এড়িয়ে যায় বা বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয় তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচারহীনতার ধারণা তৈরি হয় যা অপরাধের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে।
নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, সহিংসতা ও নিগ্রহের মতো ঘটনার ঊর্ধ্বগতি সমাজে বহুমাত্রিক নেতিবাচক পরিণতি তৈরি করে। এমন পরিস্থিতিতে যখন একটি দেশ নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার কথা তখন এসব সহিংসতার বৃদ্ধি নারীর সামাজিক অংশগ্রহণকে মারাত্মকভাবে নিরুৎসাহিত করে। এর ফলে নারীরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জনপরিসরে সক্রিয় ভূমিকা পালনে অনিশ্চয়তা ও ভয় অনুভব করেন। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে বাল্যবিবাহ ও স্কুল থেকে ঝরে পড়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায় যার পেছনে নারীর নিরাপত্তাহীনতা একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে কাজ করে। এর ফলস্বরূপ নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং তারা ধীরে ধীরে প্রান্তিক অবস্থানে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।
নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ প্রতিরোধে বিভিন্ন পক্ষ থেকে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নৈতিক ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আইনি কাঠামোর কার্যকর প্রয়োগকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়। ২০২০ সালে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে শুধু শাস্তি বাড়ানোই যথেষ্ট নয় বরং বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা, প্রমাণ সংগ্রহের দুর্বলতা এবং আইনের ধীর বাস্তবায়ন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। ফলে অপরাধ দমনে আইনের কঠোরতার পাশাপাশি দ্রুত ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি।
অন্যদিকে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে নারীদের জন্য বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি আইনি সহায়তা ও সেবা চালু থাকলেও অনেকেই এসব বিষয়ে যথেষ্ট অবগত নন। এর পাশাপাশি সরকারের উদ্যোগ হিসেবে চালু থাকা ‘নারী সহায়তা কেন্দ্র’ বর্তমানে মাত্র সাতটি হওয়ায় তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাই প্রতিটি জেলায় এবং পরবর্তীতে প্রতিটি উপজেলায় এ ধরনের সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি ও তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে ভুক্তভোগীরা সহজে ও দ্রুত সহায়তা পেতে পারেন এবং নারীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর হয়।
লেখক: শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।
#আরইউএ

আপনার মতামত লিখুন