ঢাকা    বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

অল্প কাজেই ক্লান্তি? হতে পারে হৃদযন্ত্রের সমস্যার সতর্ক সংকেত


রুশাইদ আহমেদ
রুশাইদ আহমেদ সাব-এডিটর
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬

অল্প কাজেই ক্লান্তি? হতে পারে হৃদযন্ত্রের সমস্যার সতর্ক সংকেত

সামান্য হাঁটা, সিঁড়ি ওঠা কিংবা হালকা কাজ করতেই যদি অতিরিক্ত ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্ট অনুভূত হয়, তবে সেটিকে শুধু দুর্বলতা বা ঘুমের অভাব ভেবে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় এমন উপসর্গ হৃদযন্ত্রের ভালভজনিত জটিল সমস্যার প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।

কার্ডিওলজিস্টরা বলছেন, স্বাভাবিক ক্লান্তি বিশ্রাম বা ঘুমের পর কমে যায়। কিন্তু অল্প পরিশ্রমেই যদি নিয়মিত হাঁপিয়ে ওঠা, শরীর ভেঙে পড়া বা সিঁড়ি উঠতে কষ্ট হয় এবং বিশ্রামের পরও তা না কমে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, হৃদযন্ত্রের ভালভ শরীরে সঠিকভাবে রক্তপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। হার্টে থাকা চারটি ভালভ একধরনের একমুখী দরজার মতো কাজ করে, যাতে রক্ত সঠিক দিকে প্রবাহিত হতে পারে। কিন্তু কোনো কারণে ভালভ সংকুচিত, শক্ত বা লিক হয়ে গেলে রক্ত সঞ্চালনে বাধা তৈরি হয়। তখন শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছে দিতে হৃদযন্ত্রকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের সমস্যাকে অ্যাওর্টিক স্টেনোসিস বা মাইট্রাল রিগারজিটেশন বলা হয়। এসব ক্ষেত্রে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও পেশিতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ঠিকমতো পৌঁছায় না। ফলে অল্প কাজেও দ্রুত ক্লান্তি, দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হার্টজনিত ক্লান্তি সাধারণ ক্লান্তির মতো নয়। এটি বিশ্রামের পরও পুরোপুরি কমে না, বরং শারীরিক পরিশ্রমের সঙ্গে আরও বাড়তে পারে। তাই এটিকে বয়স, মানসিক চাপ বা কম ফিটনেসের ফল ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ক্লান্তির পাশাপাশি যদি অল্প কাজেই শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ বা ব্যথা, মাথা ঘোরা, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, পা বা গোড়ালি ফুলে যাওয়া কিংবা হঠাৎ অজ্ঞান হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হার্টের ভালভ সমস্যা অনেক সময় শুরুতে ধরা পড়ে না। কারণ প্রাথমিক অবস্থায় হৃদযন্ত্র অতিরিক্ত পরিশ্রম করে শরীরকে সামাল দেয়। ফলে রোগীরা অনেক সময় বুঝতেই পারেন না যে ভেতরে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

বয়স্ক ব্যক্তি, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী, যাদের পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে এবং জন্মগত হার্টের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

চিকিৎসকদের মতে, শরীরের অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্টকে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোই নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


অল্প কাজেই ক্লান্তি? হতে পারে হৃদযন্ত্রের সমস্যার সতর্ক সংকেত

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image

সামান্য হাঁটা, সিঁড়ি ওঠা কিংবা হালকা কাজ করতেই যদি অতিরিক্ত ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্ট অনুভূত হয়, তবে সেটিকে শুধু দুর্বলতা বা ঘুমের অভাব ভেবে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় এমন উপসর্গ হৃদযন্ত্রের ভালভজনিত জটিল সমস্যার প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।

কার্ডিওলজিস্টরা বলছেন, স্বাভাবিক ক্লান্তি বিশ্রাম বা ঘুমের পর কমে যায়। কিন্তু অল্প পরিশ্রমেই যদি নিয়মিত হাঁপিয়ে ওঠা, শরীর ভেঙে পড়া বা সিঁড়ি উঠতে কষ্ট হয় এবং বিশ্রামের পরও তা না কমে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, হৃদযন্ত্রের ভালভ শরীরে সঠিকভাবে রক্তপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। হার্টে থাকা চারটি ভালভ একধরনের একমুখী দরজার মতো কাজ করে, যাতে রক্ত সঠিক দিকে প্রবাহিত হতে পারে। কিন্তু কোনো কারণে ভালভ সংকুচিত, শক্ত বা লিক হয়ে গেলে রক্ত সঞ্চালনে বাধা তৈরি হয়। তখন শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছে দিতে হৃদযন্ত্রকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের সমস্যাকে অ্যাওর্টিক স্টেনোসিস বা মাইট্রাল রিগারজিটেশন বলা হয়। এসব ক্ষেত্রে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও পেশিতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ঠিকমতো পৌঁছায় না। ফলে অল্প কাজেও দ্রুত ক্লান্তি, দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হার্টজনিত ক্লান্তি সাধারণ ক্লান্তির মতো নয়। এটি বিশ্রামের পরও পুরোপুরি কমে না, বরং শারীরিক পরিশ্রমের সঙ্গে আরও বাড়তে পারে। তাই এটিকে বয়স, মানসিক চাপ বা কম ফিটনেসের ফল ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ক্লান্তির পাশাপাশি যদি অল্প কাজেই শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ বা ব্যথা, মাথা ঘোরা, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, পা বা গোড়ালি ফুলে যাওয়া কিংবা হঠাৎ অজ্ঞান হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হার্টের ভালভ সমস্যা অনেক সময় শুরুতে ধরা পড়ে না। কারণ প্রাথমিক অবস্থায় হৃদযন্ত্র অতিরিক্ত পরিশ্রম করে শরীরকে সামাল দেয়। ফলে রোগীরা অনেক সময় বুঝতেই পারেন না যে ভেতরে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

বয়স্ক ব্যক্তি, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী, যাদের পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে এবং জন্মগত হার্টের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

চিকিৎসকদের মতে, শরীরের অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্টকে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোই নিরাপদ সিদ্ধান্ত।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ