ঢাকা    বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তরুণ প্রজন্মের জীবনধারা বদলাচ্ছে যেভাবে


রিফা তাসফিয়া
রিফা তাসফিয়া
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তরুণ প্রজন্মের জীবনধারা বদলাচ্ছে যেভাবে

যোগাযোগ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তরুণদের সামনে এনেছে কিছু নতুন চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তির এই যুগে এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় প্রভাবই স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।

বর্তমান যুগকে তথ্যপ্রযুক্তির যুগ বলা হয়। প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তরুণ প্রজন্মের জীবনধারা, চিন্তাভাবনা, যোগাযোগ এবং সংস্কৃতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, টিকটক এবং এক্স (সাবেক টুইটার) এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; বরং এগুলো তরুণদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

একসময় বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করে গল্প করা বা চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ করার প্রচলন ছিল। বর্তমানে সেই জায়গা দখল করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একজন তরুণ পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে থাকা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে। ফলে যোগাযোগব্যবস্থা যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি বিশ্বকে জানার সুযোগও বেড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তরুণদের শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিভিন্ন শিক্ষামূলক ভিডিও, অনলাইন কোর্স, তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট এবং গবেষণাসামগ্রী এখন সহজেই পাওয়া যায়। অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি নতুন দক্ষতা অর্জন করছে এবং নিজেদের ক্যারিয়ার গঠনে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে।

অন্যদিকে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিতেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অবদান উল্লেখযোগ্য। অনেক তরুণ অনলাইন ব্যবসা শুরু করে সফল হচ্ছেন। ফেসবুক পেজ, অনলাইন শপ কিংবা কনটেন্ট ক্রিয়েশনের মাধ্যমে তারা আয় করছেন এবং কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করছেন। ফলে ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশেও তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি কিছু নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। অতিরিক্ত ব্যবহার অনেক তরুণকে বাস্তব জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত থাকার কারণে পড়াশোনা, শারীরিক কার্যক্রম এবং পারিবারিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া সাইবার বুলিং, গুজব, ভুয়া তথ্য এবং অনলাইন প্রতারণার ঝুঁকিও দিন দিন বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবনযাপন দেখে অনেক তরুণ নিজেদের সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করে। এর ফলে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি, মানসিক চাপ এবং হতাশার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আজকের তরুণ প্রজন্মকে বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত করেছে এবং জ্ঞান ও সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। তবে এর সুফল পেতে হলে দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তিকে জীবনের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, জীবনের বিকল্প হিসেবে নয়।

পরিশেষে বলা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তরুণ প্রজন্মের জীবনধারায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এর সঠিক ব্যবহার তরুণদের দক্ষ, সচেতন ও সৃজনশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। তাই প্রয়োজন প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকগুলো গ্রহণ করা এবং এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকা।

লেখকঃ রিফা তাসফিয়া, শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।

#আর ইউ এস

বিষয় : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তরুণ প্রজন্মের জীবনধারা বদলাচ্ছে যেভাবে

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬

featured Image

যোগাযোগ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তরুণদের সামনে এনেছে কিছু নতুন চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তির এই যুগে এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় প্রভাবই স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।

বর্তমান যুগকে তথ্যপ্রযুক্তির যুগ বলা হয়। প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তরুণ প্রজন্মের জীবনধারা, চিন্তাভাবনা, যোগাযোগ এবং সংস্কৃতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, টিকটক এবং এক্স (সাবেক টুইটার) এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; বরং এগুলো তরুণদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

একসময় বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করে গল্প করা বা চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ করার প্রচলন ছিল। বর্তমানে সেই জায়গা দখল করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একজন তরুণ পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে থাকা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে। ফলে যোগাযোগব্যবস্থা যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি বিশ্বকে জানার সুযোগও বেড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তরুণদের শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিভিন্ন শিক্ষামূলক ভিডিও, অনলাইন কোর্স, তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট এবং গবেষণাসামগ্রী এখন সহজেই পাওয়া যায়। অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি নতুন দক্ষতা অর্জন করছে এবং নিজেদের ক্যারিয়ার গঠনে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে।

অন্যদিকে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিতেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অবদান উল্লেখযোগ্য। অনেক তরুণ অনলাইন ব্যবসা শুরু করে সফল হচ্ছেন। ফেসবুক পেজ, অনলাইন শপ কিংবা কনটেন্ট ক্রিয়েশনের মাধ্যমে তারা আয় করছেন এবং কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করছেন। ফলে ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশেও তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি কিছু নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। অতিরিক্ত ব্যবহার অনেক তরুণকে বাস্তব জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত থাকার কারণে পড়াশোনা, শারীরিক কার্যক্রম এবং পারিবারিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া সাইবার বুলিং, গুজব, ভুয়া তথ্য এবং অনলাইন প্রতারণার ঝুঁকিও দিন দিন বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবনযাপন দেখে অনেক তরুণ নিজেদের সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করে। এর ফলে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি, মানসিক চাপ এবং হতাশার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আজকের তরুণ প্রজন্মকে বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত করেছে এবং জ্ঞান ও সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। তবে এর সুফল পেতে হলে দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তিকে জীবনের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, জীবনের বিকল্প হিসেবে নয়।

পরিশেষে বলা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তরুণ প্রজন্মের জীবনধারায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এর সঠিক ব্যবহার তরুণদের দক্ষ, সচেতন ও সৃজনশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। তাই প্রয়োজন প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকগুলো গ্রহণ করা এবং এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকা।

লেখকঃ রিফা তাসফিয়া, শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।

#আর ইউ এস


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ