ঢাকা    বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

খালি পেটে লবণ পানি: উপকার আছে, তবে সবার জন্য নয়


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬

খালি পেটে লবণ পানি: উপকার আছে, তবে সবার জন্য নয়

সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি পান করা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। সম্প্রতি এই অভ্যাসে নতুন সংযোজন হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে পানিতে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে পান করার প্রবণতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে নানা স্বাস্থ্য উপকারিতার উৎস হিসেবে তুলে ধরা হলেও বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় শুধু পানি নয়, ইলেক্ট্রোলাইটও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সোডিয়াম, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে, স্নায়ু ও পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।

রাতে দীর্ঘ সময় পানি পান না করার কারণে সকালে শরীরে সাময়িক পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অল্প পরিমাণ লবণ মিশ্রিত পানি শরীরকে দ্রুত তরল ও কিছু প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান সরবরাহ করতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত গরমে, বেশি ঘাম হলে, অসুস্থতা কাটিয়ে ওঠার পর কিংবা দীর্ঘ ভ্রমণের পর এটি কিছু ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

এ ধরনের পানীয় তৈরির ক্ষেত্রে এক গ্লাস পানিতে এক চিমটি মিনারেলসমৃদ্ধ লবণ, যেমন হিমালয়ান পিঙ্ক সল্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে লবণের পরিমাণ অবশ্যই সীমিত রাখতে হবে। কারণ অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

তবে এই অভ্যাস সবার জন্য উপযোগী নয়। উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ বা শরীরে সোডিয়াম নিয়ন্ত্রণজনিত সমস্যা থাকলে লবণ মেশানো পানি পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তাদের মতে, লবণ মেশানো পানি কোনো অলৌকিক পানীয় নয়। নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে এটি উপকারী হতে পারে, তবে সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি হলো সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। তাই নতুন কোনো স্বাস্থ্য–প্রবণতা অনুসরণ করার আগে নিজের শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন বিবেচনা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


খালি পেটে লবণ পানি: উপকার আছে, তবে সবার জন্য নয়

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

featured Image

সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি পান করা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। সম্প্রতি এই অভ্যাসে নতুন সংযোজন হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে পানিতে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে পান করার প্রবণতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে নানা স্বাস্থ্য উপকারিতার উৎস হিসেবে তুলে ধরা হলেও বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় শুধু পানি নয়, ইলেক্ট্রোলাইটও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সোডিয়াম, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে, স্নায়ু ও পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।

রাতে দীর্ঘ সময় পানি পান না করার কারণে সকালে শরীরে সাময়িক পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অল্প পরিমাণ লবণ মিশ্রিত পানি শরীরকে দ্রুত তরল ও কিছু প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান সরবরাহ করতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত গরমে, বেশি ঘাম হলে, অসুস্থতা কাটিয়ে ওঠার পর কিংবা দীর্ঘ ভ্রমণের পর এটি কিছু ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

এ ধরনের পানীয় তৈরির ক্ষেত্রে এক গ্লাস পানিতে এক চিমটি মিনারেলসমৃদ্ধ লবণ, যেমন হিমালয়ান পিঙ্ক সল্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে লবণের পরিমাণ অবশ্যই সীমিত রাখতে হবে। কারণ অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

তবে এই অভ্যাস সবার জন্য উপযোগী নয়। উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ বা শরীরে সোডিয়াম নিয়ন্ত্রণজনিত সমস্যা থাকলে লবণ মেশানো পানি পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তাদের মতে, লবণ মেশানো পানি কোনো অলৌকিক পানীয় নয়। নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে এটি উপকারী হতে পারে, তবে সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি হলো সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। তাই নতুন কোনো স্বাস্থ্য–প্রবণতা অনুসরণ করার আগে নিজের শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন বিবেচনা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ