ঢাকা    বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

লোডশেডিংয়ের অন্ধকারে নিভছে উত্তরের শিক্ষার আলো


আনিকা আক্তার
আনিকা আক্তার
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬

লোডশেডিংয়ের অন্ধকারে নিভছে উত্তরের শিক্ষার আলো

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে আট হাজার শিক্ষার্থীর পড়াশোনা, ঘুম আর স্বপ্ন এখন একটাই শত্রুর মুখোমুখি — বিদ্যুৎ বিভ্রাট।

রাত তখন এগারোটা। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের মেসপাড়ায় একটি ছোট্ট ঘরে মোমবাতির কাঁপা আলোয় বই খুলে বসে আছে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম। পরের দিন পরীক্ষা। মোবাইলের চার্জ শেষ, ল্যাপটপ ডেড। অনলাইনে লেকচার নোট খোলার কোনো উপায় নেই। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন রাতের গল্প নয় — রংপুরের এই বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এমন রাত এখন প্রায় প্রতিদিনের চিত্র।

বাংলাদেশের চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট শুধু কারখানা বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিসকে আঘাত করছে না, এর নিষ্ঠুর থাবা এসে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের শিক্ষানগরী রংপুরে। সংকটের ঘনত্ব এখন এতটাই বেড়েছে যে দিনে আট থেকে বারো ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকা একটি স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। আর সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত যে সময়টুকু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়, ঠিক সেই সময়েই বারবার নিভে যাচ্ছে বিদ্যুৎ।

ভোগান্তির বহুমাত্রিক চিত্র

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতেও পরিস্থিতি একটুও আলাদা নয়। ছাত্রী হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী জানান, রাতে পড়তে বসলেই কারেন্ট চলে যায়, জেনারেটর চালু হতে বিশ থেকে ত্রিশ মিনিট লাগে, আর ততক্ষণে পড়ার পুরো মনোযোগটুকুই ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। কিন্তু হলের বাইরে যারা থাকেন, তাদের অবস্থা আরও করুণ। অধিকাংশ মেসে জেনারেটর বা আইপিএসের কোনো ব্যবস্থাই নেই, মোমবাতি অথবা ছোট চার্জার লাইটই এখন এই শিক্ষার্থীদের একমাত্র ভরসা।

শুধু রাতের পড়াশোনাই নয়, ভোগান্তির ক্ষেত্রগুলো আরও বিস্তৃত —

একাডেমিক ক্ষতি: গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, অ্যাসাইনমেন্টের ডেডলাইন থাকে, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকলে ল্যাপটপে কাজ করার উপায় কী? বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতেও চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা একেবারেই সীমিত।

গবেষণা বিঘ্নিত: থিসিস করছেন এমন অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, ডেটা বিশ্লেষণ বা রিপোর্ট লেখার মাঝপথে বিদ্যুৎ চলে গেলে সফটওয়্যার ক্র্যাশ হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টার কাজ মুহূর্তে নষ্ট হয়ে যায়।

শারীরিক কষ্ট: গরমের মৌসুমে বিদ্যুৎ না থাকলে পাখা বন্ধ, ঘুম হয় না, ক্লাসে মনোযোগ থাকে না। বিরক্তি ও অবসাদ ক্রমশ গ্রাস করে নেয়।

মানসিক চাপ: যারা দূর থেকে এসে মেসে থাকেন, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়াশোনা করছেন, তাদের জন্য এই শারীরিক কষ্ট ধীরে ধীরে মানসিক বিপর্যয়ে রূপ নিচ্ছে।

ডিজিটাল শিক্ষার স্বপ্ন বনাম অন্ধকার বাস্তবতা

কোভিড-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা যতটা ডিজিটাল নির্ভর হয়েছে, অনলাইন ক্লাস ও ই-লার্নিং পোর্টাল যতটা পাঠ্যক্রমের অংশ হয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহের অবকাঠামো ততটা এগোয়নি। 

রাষ্ট্র যখন স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখায়, তখন সেই স্বপ্নের বাহক তরুণরা যদি প্রতি রাতে মোমবাতির আলোয় পড়তে বাধ্য হয়, তাহলে শিক্ষার সুযোগের যে বৈষম্য আগে থেকেই ছিল, লোডশেডিং সেটাকে আরও গভীর করছে।

সরকারের অবস্থান

সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সিপিডি আয়োজিত বাংলাদেশ-চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফোরামে বলেছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে লোডশেডিং কমে আসবে এবং সরকার আগামী পাঁচ বছরে পরিস্থিতির উন্নতির পরিকল্পনা করছে। 

কিন্তু রংপুরের মেসে বসে মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়া রাকিবুলের কাছে "আগামী সপ্তাহ" বা "আগামী পাঁচ বছর" এই কথাগুলো অনেকটাই দূরের মনে হয়। তার পরীক্ষা কিন্তু আগামীকাল।

সমাধানের পথ ও করণীয়

এই সংকটের স্থায়ী সমাধান রাতারাতি আসবে না, তবে কিছু তাৎক্ষণিক ও মধ্যমেয়াদি পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমাতে পারে —

১. সৌরচালিত চার্জিং স্টেশন: বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সোলার পাওয়ারে চালিত চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা এখনই সম্ভব। এটি একদিকে খরচ-সাশ্রয়ী, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই।

২. একাডেমিক ভবনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ: লাইব্রেরি ও পরীক্ষার হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বিতরণ সংস্থার সঙ্গে বিশেষ চুক্তি করতে পারে।

৩. পরীক্ষার মৌসুমে বিশেষ ছাড়: পরীক্ষার সময় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাকে লোডশেডিং তালিকার বাইরে রাখতে প্রশাসনিক উদ্যোগ এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় জরুরি।

৪. অফলাইন রিসোর্স সরবরাহ: শিক্ষার্থীদের জন্য ডাউনলোডযোগ্য ও অফলাইনে ব্যবহারযোগ্য লেকচার নোট এবং স্টাডি মেটেরিয়াল সরবরাহ বাড়াতে হবে।

৫. রুফটপ সোলার প্যানেল: আবাসিক হলগুলোর ছাদে সৌরপ্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলে হলের বিদ্যুৎ চাহিদার একটি বড় অংশ মেটানো সম্ভব।

জ্বালানি সংকট একটি জাতীয় সমস্যা — এটি সত্য। কিন্তু এই সমস্যার সবচেয়ে নীরব ও অসহায় ভুক্তভোগী হলো সেই তরুণরা, যারা একটি ভালো জীবনের স্বপ্ন বুকে নিয়ে দূরদূরান্ত থেকে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেসে টিকে আছে। 

লোডশেডিং কেবল বিদ্যুৎ কেড়ে নিচ্ছে না, কেড়ে নিচ্ছে মনোযোগ, সময়, সুযোগ এবং ধীরে ধীরে স্বপ্নও। রাকিবুলের মোমবাতি একদিন শেষ হবে। কিন্তু তার স্বপ্ন যেন শেষ না হয় — এই দায়িত্ব রাষ্ট্রের, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এবং নীতিনির্ধারকদের। কারণ জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে এই মোমবাতির আলোয় পড়া ছেলেমেয়েদের হাতেই।

লেখক: আনিকা আক্তার, শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর

#আরইউএস

বিষয় : লোডশেডিং উত্তরাঞ্চল

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


লোডশেডিংয়ের অন্ধকারে নিভছে উত্তরের শিক্ষার আলো

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬

featured Image

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে আট হাজার শিক্ষার্থীর পড়াশোনা, ঘুম আর স্বপ্ন এখন একটাই শত্রুর মুখোমুখি — বিদ্যুৎ বিভ্রাট।

রাত তখন এগারোটা। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের মেসপাড়ায় একটি ছোট্ট ঘরে মোমবাতির কাঁপা আলোয় বই খুলে বসে আছে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম। পরের দিন পরীক্ষা। মোবাইলের চার্জ শেষ, ল্যাপটপ ডেড। অনলাইনে লেকচার নোট খোলার কোনো উপায় নেই। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন রাতের গল্প নয় — রংপুরের এই বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এমন রাত এখন প্রায় প্রতিদিনের চিত্র।

বাংলাদেশের চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট শুধু কারখানা বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিসকে আঘাত করছে না, এর নিষ্ঠুর থাবা এসে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের শিক্ষানগরী রংপুরে। সংকটের ঘনত্ব এখন এতটাই বেড়েছে যে দিনে আট থেকে বারো ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকা একটি স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। আর সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত যে সময়টুকু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়, ঠিক সেই সময়েই বারবার নিভে যাচ্ছে বিদ্যুৎ।

ভোগান্তির বহুমাত্রিক চিত্র

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতেও পরিস্থিতি একটুও আলাদা নয়। ছাত্রী হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী জানান, রাতে পড়তে বসলেই কারেন্ট চলে যায়, জেনারেটর চালু হতে বিশ থেকে ত্রিশ মিনিট লাগে, আর ততক্ষণে পড়ার পুরো মনোযোগটুকুই ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। কিন্তু হলের বাইরে যারা থাকেন, তাদের অবস্থা আরও করুণ। অধিকাংশ মেসে জেনারেটর বা আইপিএসের কোনো ব্যবস্থাই নেই, মোমবাতি অথবা ছোট চার্জার লাইটই এখন এই শিক্ষার্থীদের একমাত্র ভরসা।

শুধু রাতের পড়াশোনাই নয়, ভোগান্তির ক্ষেত্রগুলো আরও বিস্তৃত —

একাডেমিক ক্ষতি: গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, অ্যাসাইনমেন্টের ডেডলাইন থাকে, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকলে ল্যাপটপে কাজ করার উপায় কী? বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতেও চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা একেবারেই সীমিত।

গবেষণা বিঘ্নিত: থিসিস করছেন এমন অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, ডেটা বিশ্লেষণ বা রিপোর্ট লেখার মাঝপথে বিদ্যুৎ চলে গেলে সফটওয়্যার ক্র্যাশ হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টার কাজ মুহূর্তে নষ্ট হয়ে যায়।

শারীরিক কষ্ট: গরমের মৌসুমে বিদ্যুৎ না থাকলে পাখা বন্ধ, ঘুম হয় না, ক্লাসে মনোযোগ থাকে না। বিরক্তি ও অবসাদ ক্রমশ গ্রাস করে নেয়।

মানসিক চাপ: যারা দূর থেকে এসে মেসে থাকেন, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়াশোনা করছেন, তাদের জন্য এই শারীরিক কষ্ট ধীরে ধীরে মানসিক বিপর্যয়ে রূপ নিচ্ছে।

ডিজিটাল শিক্ষার স্বপ্ন বনাম অন্ধকার বাস্তবতা

কোভিড-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা যতটা ডিজিটাল নির্ভর হয়েছে, অনলাইন ক্লাস ও ই-লার্নিং পোর্টাল যতটা পাঠ্যক্রমের অংশ হয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহের অবকাঠামো ততটা এগোয়নি। 

রাষ্ট্র যখন স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখায়, তখন সেই স্বপ্নের বাহক তরুণরা যদি প্রতি রাতে মোমবাতির আলোয় পড়তে বাধ্য হয়, তাহলে শিক্ষার সুযোগের যে বৈষম্য আগে থেকেই ছিল, লোডশেডিং সেটাকে আরও গভীর করছে।

সরকারের অবস্থান

সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সিপিডি আয়োজিত বাংলাদেশ-চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফোরামে বলেছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে লোডশেডিং কমে আসবে এবং সরকার আগামী পাঁচ বছরে পরিস্থিতির উন্নতির পরিকল্পনা করছে। 

কিন্তু রংপুরের মেসে বসে মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়া রাকিবুলের কাছে "আগামী সপ্তাহ" বা "আগামী পাঁচ বছর" এই কথাগুলো অনেকটাই দূরের মনে হয়। তার পরীক্ষা কিন্তু আগামীকাল।

সমাধানের পথ ও করণীয়

এই সংকটের স্থায়ী সমাধান রাতারাতি আসবে না, তবে কিছু তাৎক্ষণিক ও মধ্যমেয়াদি পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমাতে পারে —

১. সৌরচালিত চার্জিং স্টেশন: বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সোলার পাওয়ারে চালিত চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা এখনই সম্ভব। এটি একদিকে খরচ-সাশ্রয়ী, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই।

২. একাডেমিক ভবনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ: লাইব্রেরি ও পরীক্ষার হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বিতরণ সংস্থার সঙ্গে বিশেষ চুক্তি করতে পারে।

৩. পরীক্ষার মৌসুমে বিশেষ ছাড়: পরীক্ষার সময় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাকে লোডশেডিং তালিকার বাইরে রাখতে প্রশাসনিক উদ্যোগ এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় জরুরি।

৪. অফলাইন রিসোর্স সরবরাহ: শিক্ষার্থীদের জন্য ডাউনলোডযোগ্য ও অফলাইনে ব্যবহারযোগ্য লেকচার নোট এবং স্টাডি মেটেরিয়াল সরবরাহ বাড়াতে হবে।

৫. রুফটপ সোলার প্যানেল: আবাসিক হলগুলোর ছাদে সৌরপ্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলে হলের বিদ্যুৎ চাহিদার একটি বড় অংশ মেটানো সম্ভব।

জ্বালানি সংকট একটি জাতীয় সমস্যা — এটি সত্য। কিন্তু এই সমস্যার সবচেয়ে নীরব ও অসহায় ভুক্তভোগী হলো সেই তরুণরা, যারা একটি ভালো জীবনের স্বপ্ন বুকে নিয়ে দূরদূরান্ত থেকে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেসে টিকে আছে। 

লোডশেডিং কেবল বিদ্যুৎ কেড়ে নিচ্ছে না, কেড়ে নিচ্ছে মনোযোগ, সময়, সুযোগ এবং ধীরে ধীরে স্বপ্নও। রাকিবুলের মোমবাতি একদিন শেষ হবে। কিন্তু তার স্বপ্ন যেন শেষ না হয় — এই দায়িত্ব রাষ্ট্রের, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এবং নীতিনির্ধারকদের। কারণ জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে এই মোমবাতির আলোয় পড়া ছেলেমেয়েদের হাতেই।

লেখক: আনিকা আক্তার, শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর

#আরইউএস


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ