ঢাকা    বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

কেন বাড়ি ফিরতে চায় আজকের তরুণ প্রজন্ম?


তৃষা কুন্ডু
তৃষা কুন্ডু
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬

কেন বাড়ি ফিরতে চায় আজকের তরুণ প্রজন্ম?

স্বাধীনতার খোঁজে ঘর যেই ছাড়ে মানুষ, জীবনের এক পর্যায়ে এসে কেনো আবারও সেই পরিচিত জায়গা, চেনা মুখ আর পুরোনো সেই  অস্তিত্বেই ফিরে আসতে চায়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন, নতুন শহর, মানুষ এবং মানসিক বিচ্ছিন্নতার বাস্তবতায় ‘বাড়ি’ কেন নতুন অর্থ পায়, তারই অনুসন্ধান।

ঈদ সামনে এলেই দেশের বড় শহরগুলোতে শুরু হয় এক অদ্ভুত ব্যস্ততা। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট কিংবা বিমানবন্দরে দেখা যায় মানুষের ঢল। টিকিটের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া, ভোগান্তি এই সবকিছু মেনেও মানুষ বাড়ি ফিরতে চায়।

প্রশ্ন হলো, কেন?

যে তরুণ কয়েক মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে বা চাকরির জন্য নতুন শহরে গিয়ে স্বাধীনতার স্বাদ খুঁজছিল, সেই মানুষটিই কেন ছুটি পেলেই বাড়ি ফেরার জন্য এতটা ব্যাকুল হয়ে ওঠে?

বিষয়টি কি শুধুই উৎসবের?

নাকি এর পেছনে রয়েছে মানুষের গভীর মনস্তাত্ত্বিক প্রয়োজন, সম্পর্কের আকাঙ্ক্ষা এবং আধুনিক জীবনের এক নীরব সংকট?

স্বাধীনতার স্বপ্ন, বাস্তবতার চাপ

উচ্চশিক্ষা কিংবা কর্মজীবনের কারণে প্রতি বছর লাখো তরুণ-তরুণী পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে নতুন শহরে যায়। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়, নতুন বন্ধুমহল ও অভিজ্ঞতা সবকিছুই শুরুতে যেনো রোমাঞ্চকর মনে হয়।

নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারার স্বাধীনতা, নিজের মতো করে জীবন গড়ে তোলার সুযোগ, এসবই তরুণ বয়সের স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা।

মনোবিজ্ঞানী এরিক এরিকসনের পরিচয় বিকাশ তত্ত্ব অনুযায়ী, কৈশোর ও তার পরবর্তী সময়ে মানুষ নিজের পরিচয় নির্মাণের চেষ্টা করে। সে জানতে চায় যে সে আসলে কে, কী হতে চায় এবং সমাজে তার অবস্থান কোথায়।

কিন্তু স্বাধীনতার সঙ্গে সঙ্গে আসে আরেক বাস্তবতা।প্রতিযোগিতা, অনিশ্চয়তা এবং প্রত্যাশার চাপ।

একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে একই সময়ে ভালো ফলাফল, দক্ষতা অর্জন, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার, সামাজিক অবস্থান এবং ব্যক্তিগত জীবন এই সবকিছুতেই রাখতে হয় ভারসাম্য। তাই বাইরে থেকে এই জীবন যতটা প্রাণবন্ত মনে হয়, ভেতরে ততটাই জটিল।

মানুষের ভিড়ে তৈরি হচ্ছে নতুন এক নিঃসঙ্গতা

আধুনিক সমাজের একটি বড় বৈপরীত্য হলো মানুষ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংযুক্ত, কিন্তু তার চেয়েও বেশি বিচ্ছিন্ন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয় শত শত নামধারী বন্ধু, কিন্তু তাদের মধ্যে গভীর সংকটের মুহূর্তে কথা বলার মতো মানুষের সংখ্যা শূন্য।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রতিনিয়তই নতুন পরিচয়,সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। কিন্তু সেইসব সম্পর্কে থাকেনা কোনো মানসিক গভীরত্ব। তাই মানুষও তার সবচেয়ে ব্যক্তিগত ভয়, ব্যর্থতা বা মানসিক সংকট নির্দিষ্ট নিরাপত্তার সংশয়ে বলতে পারেনা এদের কাউকেই।

ফলে তৈরি হয় এক ধরনের ‘মানসিক নিঃসঙ্গতা’। এটি এমন এক অনুভূতি, যেখানে একজন মানুষ একা না হয়েও নিজেকে একা মনে করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান প্রজন্মের একটি বড় সংকট এখানেই। তারা সবসময় মানুষের ভিড়ে থাকে, কিন্তু অন্তরের গভীরে এমন কাউকে খুঁজে বেড়ায়, যার কাছে নিজের ভাঙন, দুর্বলতা কিংবা ব্যর্থতার কথাগুলো বলা যায়।

কেন ব্যর্থতা এত ভয়ংকর হয়ে উঠছে?

শুধু একাকিত্ব নয়, সফলতার চাপও আজকের তরুণদের জীবনে বড় ভূমিকা রাখছে।

পরিবারের প্রত্যাশা,সামাজিক তুলনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের ‘সফল’ জীবনের মেকি প্রতিচ্ছবি। সবকিছু মিলিয়ে অনেক তরুণ মনে করেন, তাকে সবসময়ই ভালো করতে হবে, সবকিছুতেই এগিয়ে থাকতে হবে, শক্ত থাকা ব্যতীত যেন দ্বিতীয় উপায়ই নেই।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, একজন মানুষ সবসময় সফল হয় না, না থাকতে পারে সবসময় শক্ত।

সমস্যাটা তখনই তৈরি হয়, যখন ব্যর্থতা বা কষ্টকে স্বাভাবিক মানবিক অভিজ্ঞতা হিসেবে না দেখে ব্যক্তিগত অযোগ্যতা হিসেবে দেখা শুরু হয় এবং বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নিজের ভেতরের এই সংগ্রামগুলো প্রকাশ না করে চেপে রাখেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চাপের গভীরতা বৃদ্ধি পেতে থাকে।

বাড়ি যেনো একটি মানসিক আশ্রয়ের নাম

এই জায়গাতেই ‘বাড়ি’ নতুন অর্থ পায়। এখানে বাড়ি শুধু একটি ভৌগোলিক স্থান নয় বরং এমন একটি জায়গা, যেখানে অধিকাংশ মানুষ নিজেকে সবচেয়ে বেশি সুরক্ষিত মনে করতে পারে। কারণ এখানে তার গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ বা ফলাফল ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন হয়না। যেখানে মানুষ তার সন্তান, ভাই, বোন কিংবা পরিবারের একজন সদস্য পরিচয়েই গ্রহণযোগ্য।

মনোবিজ্ঞানে ‘Belongingness’ বা অন্তর্ভুক্তির অনুভূতিকে মানুষের অন্যতম মৌলিক প্রয়োজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আব্রাহাম মাসলোর প্রয়োজনের শ্রেণিবিন্যাসেও ভালোবাসা ও সম্পর্কের প্রয়োজনকে মানুষের মৌলিক মানসিক চাহিদার একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্ভবত এ কারণেই ছুটি এলেই মানুষ ফিরে যেতে চায় সেই জায়গায়, যেখানে তাকে সবচেয়ে কম অভিনয় বা ভালো থাকার নাটকীয়তার মধ্যে থাকতে হয়।

স্মৃতির গন্ধ এবং বাড়ি ফেরার অনুভূতি

বাড়ির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক শুধু মানুষের মাধ্যমে তৈরি হয় না,তৈরি হয় স্মৃতির মাধ্যমেও। বিকেলের পরিচিত রাস্তা, কোনো পুরোনো দোকান,বারান্দার একটি চেয়ার কিংবা মায়ের রান্নার গন্ধ।

স্নায়ুবিজ্ঞানের গবেষণাগুলো দেখিয়েছে, ঘ্রাণ মানুষের স্মৃতির সঙ্গে সবচেয়ে গভীরভাবে যুক্ত ইন্দ্রিয়গুলোর একটি। কোনো পরিচিত গন্ধ মুহূর্তের মধ্যে বহু বছর আগের আবেগ ও স্মৃতিকে ফিরিয়ে আনতে পারে।

এই কারণেই অনেক মানুষ বাড়ি পৌঁছানোর আগেই ‘বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুভূতি’ পেতে শুরু করেন।

বর্তমান প্রজন্মের জীবন আগের প্রজন্মের তুলনায় অনেক বেশি গতিশীল। এক শহর থেকে আরেক শহর, এক জেলা থেকে আরেক জেলা আবার এক দেশ থেকে আরেক দেশ।

মানুষ ক্রমাগত স্থান বদল করছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের মাঝেও একটি বিষয় অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। মানুষ এখনো এমন একটি জায়গার প্রয়োজন অনুভব করে, যেখানে সে নিঃশর্তভাবে গ্রহণযোগ্য। যেখানে তার পরিচয় কোনো পদবি, ফলাফল কিংবা পেশার ওপর নির্ভর করে না। যেকারণে বাড়ি তার কাছে হয়ে ওঠে একটি জীবনের পজ বা রিজিউম বাটনের মতো।

লেখাঃ তৃষা কুন্ডু, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।

#আর ইউ এস

বিষয় : বাড়ি

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


কেন বাড়ি ফিরতে চায় আজকের তরুণ প্রজন্ম?

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

স্বাধীনতার খোঁজে ঘর যেই ছাড়ে মানুষ, জীবনের এক পর্যায়ে এসে কেনো আবারও সেই পরিচিত জায়গা, চেনা মুখ আর পুরোনো সেই  অস্তিত্বেই ফিরে আসতে চায়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন, নতুন শহর, মানুষ এবং মানসিক বিচ্ছিন্নতার বাস্তবতায় ‘বাড়ি’ কেন নতুন অর্থ পায়, তারই অনুসন্ধান।

ঈদ সামনে এলেই দেশের বড় শহরগুলোতে শুরু হয় এক অদ্ভুত ব্যস্ততা। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট কিংবা বিমানবন্দরে দেখা যায় মানুষের ঢল। টিকিটের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া, ভোগান্তি এই সবকিছু মেনেও মানুষ বাড়ি ফিরতে চায়।

প্রশ্ন হলো, কেন?

যে তরুণ কয়েক মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে বা চাকরির জন্য নতুন শহরে গিয়ে স্বাধীনতার স্বাদ খুঁজছিল, সেই মানুষটিই কেন ছুটি পেলেই বাড়ি ফেরার জন্য এতটা ব্যাকুল হয়ে ওঠে?

বিষয়টি কি শুধুই উৎসবের?

নাকি এর পেছনে রয়েছে মানুষের গভীর মনস্তাত্ত্বিক প্রয়োজন, সম্পর্কের আকাঙ্ক্ষা এবং আধুনিক জীবনের এক নীরব সংকট?

স্বাধীনতার স্বপ্ন, বাস্তবতার চাপ

উচ্চশিক্ষা কিংবা কর্মজীবনের কারণে প্রতি বছর লাখো তরুণ-তরুণী পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে নতুন শহরে যায়। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়, নতুন বন্ধুমহল ও অভিজ্ঞতা সবকিছুই শুরুতে যেনো রোমাঞ্চকর মনে হয়।

নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারার স্বাধীনতা, নিজের মতো করে জীবন গড়ে তোলার সুযোগ, এসবই তরুণ বয়সের স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা।

মনোবিজ্ঞানী এরিক এরিকসনের পরিচয় বিকাশ তত্ত্ব অনুযায়ী, কৈশোর ও তার পরবর্তী সময়ে মানুষ নিজের পরিচয় নির্মাণের চেষ্টা করে। সে জানতে চায় যে সে আসলে কে, কী হতে চায় এবং সমাজে তার অবস্থান কোথায়।

কিন্তু স্বাধীনতার সঙ্গে সঙ্গে আসে আরেক বাস্তবতা।প্রতিযোগিতা, অনিশ্চয়তা এবং প্রত্যাশার চাপ।

একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে একই সময়ে ভালো ফলাফল, দক্ষতা অর্জন, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার, সামাজিক অবস্থান এবং ব্যক্তিগত জীবন এই সবকিছুতেই রাখতে হয় ভারসাম্য। তাই বাইরে থেকে এই জীবন যতটা প্রাণবন্ত মনে হয়, ভেতরে ততটাই জটিল।

মানুষের ভিড়ে তৈরি হচ্ছে নতুন এক নিঃসঙ্গতা

আধুনিক সমাজের একটি বড় বৈপরীত্য হলো মানুষ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংযুক্ত, কিন্তু তার চেয়েও বেশি বিচ্ছিন্ন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয় শত শত নামধারী বন্ধু, কিন্তু তাদের মধ্যে গভীর সংকটের মুহূর্তে কথা বলার মতো মানুষের সংখ্যা শূন্য।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রতিনিয়তই নতুন পরিচয়,সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। কিন্তু সেইসব সম্পর্কে থাকেনা কোনো মানসিক গভীরত্ব। তাই মানুষও তার সবচেয়ে ব্যক্তিগত ভয়, ব্যর্থতা বা মানসিক সংকট নির্দিষ্ট নিরাপত্তার সংশয়ে বলতে পারেনা এদের কাউকেই।

ফলে তৈরি হয় এক ধরনের ‘মানসিক নিঃসঙ্গতা’। এটি এমন এক অনুভূতি, যেখানে একজন মানুষ একা না হয়েও নিজেকে একা মনে করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান প্রজন্মের একটি বড় সংকট এখানেই। তারা সবসময় মানুষের ভিড়ে থাকে, কিন্তু অন্তরের গভীরে এমন কাউকে খুঁজে বেড়ায়, যার কাছে নিজের ভাঙন, দুর্বলতা কিংবা ব্যর্থতার কথাগুলো বলা যায়।

কেন ব্যর্থতা এত ভয়ংকর হয়ে উঠছে?

শুধু একাকিত্ব নয়, সফলতার চাপও আজকের তরুণদের জীবনে বড় ভূমিকা রাখছে।

পরিবারের প্রত্যাশা,সামাজিক তুলনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের ‘সফল’ জীবনের মেকি প্রতিচ্ছবি। সবকিছু মিলিয়ে অনেক তরুণ মনে করেন, তাকে সবসময়ই ভালো করতে হবে, সবকিছুতেই এগিয়ে থাকতে হবে, শক্ত থাকা ব্যতীত যেন দ্বিতীয় উপায়ই নেই।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, একজন মানুষ সবসময় সফল হয় না, না থাকতে পারে সবসময় শক্ত।

সমস্যাটা তখনই তৈরি হয়, যখন ব্যর্থতা বা কষ্টকে স্বাভাবিক মানবিক অভিজ্ঞতা হিসেবে না দেখে ব্যক্তিগত অযোগ্যতা হিসেবে দেখা শুরু হয় এবং বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নিজের ভেতরের এই সংগ্রামগুলো প্রকাশ না করে চেপে রাখেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চাপের গভীরতা বৃদ্ধি পেতে থাকে।

বাড়ি যেনো একটি মানসিক আশ্রয়ের নাম

এই জায়গাতেই ‘বাড়ি’ নতুন অর্থ পায়। এখানে বাড়ি শুধু একটি ভৌগোলিক স্থান নয় বরং এমন একটি জায়গা, যেখানে অধিকাংশ মানুষ নিজেকে সবচেয়ে বেশি সুরক্ষিত মনে করতে পারে। কারণ এখানে তার গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ বা ফলাফল ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন হয়না। যেখানে মানুষ তার সন্তান, ভাই, বোন কিংবা পরিবারের একজন সদস্য পরিচয়েই গ্রহণযোগ্য।

মনোবিজ্ঞানে ‘Belongingness’ বা অন্তর্ভুক্তির অনুভূতিকে মানুষের অন্যতম মৌলিক প্রয়োজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আব্রাহাম মাসলোর প্রয়োজনের শ্রেণিবিন্যাসেও ভালোবাসা ও সম্পর্কের প্রয়োজনকে মানুষের মৌলিক মানসিক চাহিদার একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্ভবত এ কারণেই ছুটি এলেই মানুষ ফিরে যেতে চায় সেই জায়গায়, যেখানে তাকে সবচেয়ে কম অভিনয় বা ভালো থাকার নাটকীয়তার মধ্যে থাকতে হয়।

স্মৃতির গন্ধ এবং বাড়ি ফেরার অনুভূতি

বাড়ির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক শুধু মানুষের মাধ্যমে তৈরি হয় না,তৈরি হয় স্মৃতির মাধ্যমেও। বিকেলের পরিচিত রাস্তা, কোনো পুরোনো দোকান,বারান্দার একটি চেয়ার কিংবা মায়ের রান্নার গন্ধ।

স্নায়ুবিজ্ঞানের গবেষণাগুলো দেখিয়েছে, ঘ্রাণ মানুষের স্মৃতির সঙ্গে সবচেয়ে গভীরভাবে যুক্ত ইন্দ্রিয়গুলোর একটি। কোনো পরিচিত গন্ধ মুহূর্তের মধ্যে বহু বছর আগের আবেগ ও স্মৃতিকে ফিরিয়ে আনতে পারে।

এই কারণেই অনেক মানুষ বাড়ি পৌঁছানোর আগেই ‘বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুভূতি’ পেতে শুরু করেন।

বর্তমান প্রজন্মের জীবন আগের প্রজন্মের তুলনায় অনেক বেশি গতিশীল। এক শহর থেকে আরেক শহর, এক জেলা থেকে আরেক জেলা আবার এক দেশ থেকে আরেক দেশ।

মানুষ ক্রমাগত স্থান বদল করছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের মাঝেও একটি বিষয় অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। মানুষ এখনো এমন একটি জায়গার প্রয়োজন অনুভব করে, যেখানে সে নিঃশর্তভাবে গ্রহণযোগ্য। যেখানে তার পরিচয় কোনো পদবি, ফলাফল কিংবা পেশার ওপর নির্ভর করে না। যেকারণে বাড়ি তার কাছে হয়ে ওঠে একটি জীবনের পজ বা রিজিউম বাটনের মতো।

লেখাঃ তৃষা কুন্ডু, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।

#আর ইউ এস


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ