ঢাকা    শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

রাজধানীর হাটে এখনো নীরবতা, দাম নিয়েই মূল অচলাবস্থা


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬

রাজধানীর হাটে এখনো নীরবতা, দাম নিয়েই মূল অচলাবস্থা
ছবিঃ সংগ্রহীত

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে বেচাকেনা শুরু হলেও এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি বাজার। হাটে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে মূল বিতর্কের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে পশুর দাম। ক্রেতাদের অভিযোগ, এবার গরুর দাম তুলনামূলক বেশি চাওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে খামারি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, খরচ বেড়ে যাওয়ায় আগের দামে বিক্রি করা তাদের জন্য সম্ভব হচ্ছে না।

ফলে হাটগুলোতে তৈরি হয়েছে এক ধরনের অপেক্ষার পরিস্থিতি। ক্রেতারা দাম নিয়ে সন্তুষ্ট না হয়ে ঘুরে দেখছেন, আর বিক্রেতারাও সঠিক ক্রেতার অপেক্ষায় সময় পার করছেন।

রাজধানীর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাবের অস্থায়ী হাটে ঝিনাইদহের তিশান তানিশা এগ্রো ফার্মের মালিক তোজাম্মেল হক ৫২টি গরু নিয়ে এসেছেন। তার মধ্যে দেড় লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার গরুও রয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি গরু বিক্রি হয়েছে।

তিনি বলেন, ক্রেতারা আসছেন, কিন্তু দাম শুনেই অনেকেই চলে যাচ্ছেন। গত বছরের তুলনায় এবার পরিস্থিতি আলাদা, তবে সময় এখনো আছে।

একই হাটে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ এলাকার পায়াস্কিনী এগ্রোর ২০টি গরু উঠানো হয়েছে। খামারের কর্ণধার মির্জা ইমন জানান, এখনো একটি গরুও বিক্রি হয়নি। অনেকেই দাম বলছেন না, আর যারা বলছেন তা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম।

খামারির আত্মীয় ও দেখভালের দায়িত্বে থাকা মো. দিল্লু বলেন, দুই বছর পরিশ্রম করে গরু বড় করা হয়েছে। খরচও অনেক। কিন্তু যে দাম বলা হচ্ছে, তাতে এবার লোকসানের শঙ্কা রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ থেকে আসা বেলাল বেপারী আড়াই থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা দামের ১৪টি গরু নিয়ে হাটে উঠেছেন। আরও একটি ট্রাক পথে রয়েছে। তবে এখনো কোনো গরু বিক্রি হয়নি। তার মতে, বাজার পরিস্থিতি ভালো মনে হচ্ছে না।

অন্যদিকে ক্রেতাদের অনেকেই বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের অভিযোগ, এবার গরুর দাম অনেক বেশি। তাই অনেকেই কিনতে না পেরে শুধু ঘুরে দেখছেন।

হাটে আসা বাসাবোর জাহিদুল ইসলাম আসিফ জানান, একটি গরুর দাম চাওয়া হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। তিনি ১ লাখ ৪০ হাজার পর্যন্ত বললেও বিক্রেতা রাজি হননি। তার মতে, গত বছরের তুলনায় দাম অনেক বেড়েছে।

তবে কেউ কেউ আবার কেনাকাটা শুরু করেছেন। খিলগাঁওয়ের তানভীর শাহজাহানপুর হাট থেকে ১ লাখ ৮১ হাজার টাকায় একটি ষাঁড় কিনেছেন। তিনি বলেন, দাম কিছুটা বেশি হলেও কোরবানির জন্য কিনে ফেলেছেন।

হাট সংশ্লিষ্টদের মতে, এখনো পুরোপুরি বাজার জমেনি। রোববারের পর থেকে বেচাকেনা বাড়তে পারে। আর ঈদের আগের দুই দিন, বিশেষ করে মঙ্গলবার ও বুধবার হাট সবচেয়ে জমজমাট থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।



এস.আর 

বিষয় : গরুর হাট ইদুল আজহা

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


রাজধানীর হাটে এখনো নীরবতা, দাম নিয়েই মূল অচলাবস্থা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

featured Image

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে বেচাকেনা শুরু হলেও এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি বাজার। হাটে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে মূল বিতর্কের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে পশুর দাম। ক্রেতাদের অভিযোগ, এবার গরুর দাম তুলনামূলক বেশি চাওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে খামারি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, খরচ বেড়ে যাওয়ায় আগের দামে বিক্রি করা তাদের জন্য সম্ভব হচ্ছে না।

ফলে হাটগুলোতে তৈরি হয়েছে এক ধরনের অপেক্ষার পরিস্থিতি। ক্রেতারা দাম নিয়ে সন্তুষ্ট না হয়ে ঘুরে দেখছেন, আর বিক্রেতারাও সঠিক ক্রেতার অপেক্ষায় সময় পার করছেন।

রাজধানীর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাবের অস্থায়ী হাটে ঝিনাইদহের তিশান তানিশা এগ্রো ফার্মের মালিক তোজাম্মেল হক ৫২টি গরু নিয়ে এসেছেন। তার মধ্যে দেড় লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার গরুও রয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি গরু বিক্রি হয়েছে।

তিনি বলেন, ক্রেতারা আসছেন, কিন্তু দাম শুনেই অনেকেই চলে যাচ্ছেন। গত বছরের তুলনায় এবার পরিস্থিতি আলাদা, তবে সময় এখনো আছে।

একই হাটে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ এলাকার পায়াস্কিনী এগ্রোর ২০টি গরু উঠানো হয়েছে। খামারের কর্ণধার মির্জা ইমন জানান, এখনো একটি গরুও বিক্রি হয়নি। অনেকেই দাম বলছেন না, আর যারা বলছেন তা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম।

খামারির আত্মীয় ও দেখভালের দায়িত্বে থাকা মো. দিল্লু বলেন, দুই বছর পরিশ্রম করে গরু বড় করা হয়েছে। খরচও অনেক। কিন্তু যে দাম বলা হচ্ছে, তাতে এবার লোকসানের শঙ্কা রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ থেকে আসা বেলাল বেপারী আড়াই থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা দামের ১৪টি গরু নিয়ে হাটে উঠেছেন। আরও একটি ট্রাক পথে রয়েছে। তবে এখনো কোনো গরু বিক্রি হয়নি। তার মতে, বাজার পরিস্থিতি ভালো মনে হচ্ছে না।

অন্যদিকে ক্রেতাদের অনেকেই বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের অভিযোগ, এবার গরুর দাম অনেক বেশি। তাই অনেকেই কিনতে না পেরে শুধু ঘুরে দেখছেন।

হাটে আসা বাসাবোর জাহিদুল ইসলাম আসিফ জানান, একটি গরুর দাম চাওয়া হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। তিনি ১ লাখ ৪০ হাজার পর্যন্ত বললেও বিক্রেতা রাজি হননি। তার মতে, গত বছরের তুলনায় দাম অনেক বেড়েছে।

তবে কেউ কেউ আবার কেনাকাটা শুরু করেছেন। খিলগাঁওয়ের তানভীর শাহজাহানপুর হাট থেকে ১ লাখ ৮১ হাজার টাকায় একটি ষাঁড় কিনেছেন। তিনি বলেন, দাম কিছুটা বেশি হলেও কোরবানির জন্য কিনে ফেলেছেন।

হাট সংশ্লিষ্টদের মতে, এখনো পুরোপুরি বাজার জমেনি। রোববারের পর থেকে বেচাকেনা বাড়তে পারে। আর ঈদের আগের দুই দিন, বিশেষ করে মঙ্গলবার ও বুধবার হাট সবচেয়ে জমজমাট থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।



এস.আর 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ