ঢাকা    শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মহিষ কিনলেই গরু ফ্রি, তারপরও জমে ওঠেনি গাবতলীর হাট


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬

মহিষ কিনলেই গরু ফ্রি, তারপরও জমে ওঠেনি গাবতলীর হাট
ছবিঃ সংগ্রহীত

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গরু ও মহিষ আসা শুরু হয়েছে। তবে হাটে এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি বেচাকেনা। বিক্রেতারা বলছেন, ক্রেতাদের উপস্থিতি থাকলেও তারা মূলত বাজারদর যাচাই করতেই বেশি আগ্রহী।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাটে এখনো পশুর পরিমাণ তুলনামূলক কম। বেশ কিছু স্থানে বাঁশ-খুঁটি বসানোর কাজ চলছে। কোথাও কোথাও বিক্রেতারা গরুকে খাবার দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ বিশ্রামে সময় কাটাচ্ছেন।

কুষ্টিয়া থেকে দুইটি গরু নিয়ে আসা রমিজ উদ্দিন জানান, তিনি গরুগুলোর দাম ১০ লাখ টাকা চাচ্ছেন। তবে এখনো বড় কোনো ক্রেতা পাননি। তাঁর ভাষায়, “কেউ কেউ দাম জিজ্ঞেস করছে, কিন্তু এখনো কেনার মতো কেউ আসেনি।”

একই এলাকার আরেক বিক্রেতা আবুল হোসেন জানান, তিনি সকালে ২৬টি গরু নিয়ে এসেছেন এবং আরও গরু আসার পথে রয়েছে। তাঁর আশা, পশুর সংখ্যা বাড়লে ক্রেতার উপস্থিতিও বাড়বে।

খরচ বৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয়ের কারণে এবার গরুর দাম তুলনামূলক বেশি দাবি করছেন অনেক বিক্রেতা। তবে ক্রেতারা মনে করছেন, ঈদের কাছাকাছি সময়ে দাম কিছুটা কমতে পারে।

মেহেরপুরের হিরা ব্যাপারী জানান, তার খামার থেকে এখন পর্যন্ত ২৬টি গরু হাটে এসেছে এবং আরও বড় একটি চালান আনার প্রস্তুতি চলছে। বিক্রির বিষয়ে তিনি আশাবাদী।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থেকে আসা জিয়া ব্যাপারী জানান, দূরের পথ পাড়ি দিয়ে গরু আনলেও এখনো বিক্রি শুরু হয়নি। তিনি বলেন, প্রতি বছরই তিনি গাবতলী হাটে আসেন এবং শেষ পর্যন্ত ভালো বিক্রির আশা করেন।

জামালপুরের জাকারিয়া প্রায় ৮০টি গরু নিয়ে এসেছেন। তবে তিনি জানান, এখনো ক্রেতার চাপ না থাকায় অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

এদিকে কেরানীগঞ্জের লাকীচর থেকে আনা প্রায় এক টন ওজনের একটি বিশাল মহিষ হাটে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। বিক্রেতা মজিবুর রহমান এর দাম প্রায় ২৫ লাখ টাকা হাঁকছেন।

তিনি আরও জানান, মহিষটির সঙ্গে দুই মণ ওজনের একটি সাদা গরু ফ্রি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যা হাটে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করেছে।

সব মিলিয়ে গাবতলী পশুর হাটে এখনো ঈদের আগের সেই চিরচেনা জমজমাট পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাজারে গতি ফিরবে।



এস.আর 

বিষয় : গরুর হাট ইদুল আজহা কুরবানি

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


মহিষ কিনলেই গরু ফ্রি, তারপরও জমে ওঠেনি গাবতলীর হাট

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গরু ও মহিষ আসা শুরু হয়েছে। তবে হাটে এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি বেচাকেনা। বিক্রেতারা বলছেন, ক্রেতাদের উপস্থিতি থাকলেও তারা মূলত বাজারদর যাচাই করতেই বেশি আগ্রহী।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাটে এখনো পশুর পরিমাণ তুলনামূলক কম। বেশ কিছু স্থানে বাঁশ-খুঁটি বসানোর কাজ চলছে। কোথাও কোথাও বিক্রেতারা গরুকে খাবার দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ বিশ্রামে সময় কাটাচ্ছেন।

কুষ্টিয়া থেকে দুইটি গরু নিয়ে আসা রমিজ উদ্দিন জানান, তিনি গরুগুলোর দাম ১০ লাখ টাকা চাচ্ছেন। তবে এখনো বড় কোনো ক্রেতা পাননি। তাঁর ভাষায়, “কেউ কেউ দাম জিজ্ঞেস করছে, কিন্তু এখনো কেনার মতো কেউ আসেনি।”

একই এলাকার আরেক বিক্রেতা আবুল হোসেন জানান, তিনি সকালে ২৬টি গরু নিয়ে এসেছেন এবং আরও গরু আসার পথে রয়েছে। তাঁর আশা, পশুর সংখ্যা বাড়লে ক্রেতার উপস্থিতিও বাড়বে।

খরচ বৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয়ের কারণে এবার গরুর দাম তুলনামূলক বেশি দাবি করছেন অনেক বিক্রেতা। তবে ক্রেতারা মনে করছেন, ঈদের কাছাকাছি সময়ে দাম কিছুটা কমতে পারে।

মেহেরপুরের হিরা ব্যাপারী জানান, তার খামার থেকে এখন পর্যন্ত ২৬টি গরু হাটে এসেছে এবং আরও বড় একটি চালান আনার প্রস্তুতি চলছে। বিক্রির বিষয়ে তিনি আশাবাদী।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থেকে আসা জিয়া ব্যাপারী জানান, দূরের পথ পাড়ি দিয়ে গরু আনলেও এখনো বিক্রি শুরু হয়নি। তিনি বলেন, প্রতি বছরই তিনি গাবতলী হাটে আসেন এবং শেষ পর্যন্ত ভালো বিক্রির আশা করেন।

জামালপুরের জাকারিয়া প্রায় ৮০টি গরু নিয়ে এসেছেন। তবে তিনি জানান, এখনো ক্রেতার চাপ না থাকায় অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

এদিকে কেরানীগঞ্জের লাকীচর থেকে আনা প্রায় এক টন ওজনের একটি বিশাল মহিষ হাটে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। বিক্রেতা মজিবুর রহমান এর দাম প্রায় ২৫ লাখ টাকা হাঁকছেন।

তিনি আরও জানান, মহিষটির সঙ্গে দুই মণ ওজনের একটি সাদা গরু ফ্রি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যা হাটে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করেছে।

সব মিলিয়ে গাবতলী পশুর হাটে এখনো ঈদের আগের সেই চিরচেনা জমজমাট পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাজারে গতি ফিরবে।



এস.আর 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ