ঢাকা    শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মৌসুমের আগেই বাজারে কাঁচা-আধা পাকা লিচু, স্বাদ কম তবু দাম বেশি



মৌসুমের আগেই বাজারে কাঁচা-আধা পাকা লিচু, স্বাদ কম তবু দাম বেশি
ছবি : প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন বাজারে মৌসুম শুরুর আগেই কাঁচা ও আধা পাকা লিচু বিক্রি শুরু হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে স্বাদ না থাকলেও এসব লিচু চড়া দামে বিক্রি হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভ্রাম্যমাণ দোকানে সবুজ ও হালকা লালচে রঙের লিচু বিক্রি হচ্ছে। বছরের প্রথম ফল হিসেবে অনেকেই আকৃষ্ট হয়ে এসব লিচু কিনছেন। তবে আকারে ছোট এবং স্বাদে টক-মিষ্টি হওয়ায় সন্তুষ্ট নন অনেকে। বাজারে প্রতি ১০০ লিচু বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। তুলনামূলক বড় আকারের লিচুর দাম ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

বিক্রেতাদের দাবি, বাগান থেকে আগেভাগে বেশি দামে লিচু কিনে আনার কারণে তারা চড়া দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকেই আবার বাগান আগেই কিনে রাখলেও মালিকদের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ না করায় দ্রুত বিক্রির চাপ রয়েছে। পাশাপাশি ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতির আশঙ্কাও আগাম বিক্রির আরেকটি কারণ বলে জানান তারা।

কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডের ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা মামুন মিয়া বলেন, বর্তমানে বাজারে থাকা লিচুগুলো পুরোপুরি মিষ্টি হয়নি। আরও এক থেকে দুই সপ্তাহ পরে ভালো লিচু পাওয়া যাবে। তবে আগাম বিক্রির কারণে কিছুটা লাভ হচ্ছে বলে জানান তিনি।

উপজেলার মসুয়া গ্রামের আরেক বিক্রেতা বাদল মিয়া জানান, বাজারে এখন চাহিদা থাকায় দুই খাঁচা লিচু নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, স্বাদে এখনো পরিপক্ক না হলেও বিক্রি চলছে ভালোই।

অন্যদিকে ক্রেতাদের কেউ কেউ শিশুদের আবদার মেটাতে কিংবা মৌসুমের প্রথম ফল হিসেবে এসব লিচু কিনছেন। তবে স্বাদ কম থাকায় অনেকে হতাশাও প্রকাশ করেছেন।

কটিয়াদী পৌর বাজারে লিচু কিনতে আসা কামাল হোসেন বলেন, আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়ার জন্য নতুন ফল হিসেবে লিচু কিনেছেন, যদিও জানতেন এগুলো পুরোপুরি পাকেনি। আরেক ক্রেতা নূর হোসেন বলেন, বাচ্চাদের জন্য কিনলেও স্বাদে তেমন সন্তুষ্ট নন।

এদিকে অপরিপক্ক লিচু খাওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার হাবিবুর রহমান মিলন বলেন, অপরিপক্ক ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এবং এতে পেটের সমস্যা থেকে শুরু করে গুরুতর জটিলতাও দেখা দিতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, অনেক বাগানের লিচু এখনো পরিপূর্ণভাবে পাকেনি। আরও এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। তিনি কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পরিপক্ব লিচু বিক্রির পরামর্শ দেন।

মৌসুমের আগেই বাজারে লিচু এলেও স্বাদ ও মান নিয়ে প্রশ্ন থাকায় অনেকেই বলছেন, প্রকৃত স্বাদের লিচুর জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করাই ভালো।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬


মৌসুমের আগেই বাজারে কাঁচা-আধা পাকা লিচু, স্বাদ কম তবু দাম বেশি

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন বাজারে মৌসুম শুরুর আগেই কাঁচা ও আধা পাকা লিচু বিক্রি শুরু হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে স্বাদ না থাকলেও এসব লিচু চড়া দামে বিক্রি হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভ্রাম্যমাণ দোকানে সবুজ ও হালকা লালচে রঙের লিচু বিক্রি হচ্ছে। বছরের প্রথম ফল হিসেবে অনেকেই আকৃষ্ট হয়ে এসব লিচু কিনছেন। তবে আকারে ছোট এবং স্বাদে টক-মিষ্টি হওয়ায় সন্তুষ্ট নন অনেকে। বাজারে প্রতি ১০০ লিচু বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। তুলনামূলক বড় আকারের লিচুর দাম ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

বিক্রেতাদের দাবি, বাগান থেকে আগেভাগে বেশি দামে লিচু কিনে আনার কারণে তারা চড়া দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকেই আবার বাগান আগেই কিনে রাখলেও মালিকদের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ না করায় দ্রুত বিক্রির চাপ রয়েছে। পাশাপাশি ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতির আশঙ্কাও আগাম বিক্রির আরেকটি কারণ বলে জানান তারা।

কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডের ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা মামুন মিয়া বলেন, বর্তমানে বাজারে থাকা লিচুগুলো পুরোপুরি মিষ্টি হয়নি। আরও এক থেকে দুই সপ্তাহ পরে ভালো লিচু পাওয়া যাবে। তবে আগাম বিক্রির কারণে কিছুটা লাভ হচ্ছে বলে জানান তিনি।

উপজেলার মসুয়া গ্রামের আরেক বিক্রেতা বাদল মিয়া জানান, বাজারে এখন চাহিদা থাকায় দুই খাঁচা লিচু নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, স্বাদে এখনো পরিপক্ক না হলেও বিক্রি চলছে ভালোই।

অন্যদিকে ক্রেতাদের কেউ কেউ শিশুদের আবদার মেটাতে কিংবা মৌসুমের প্রথম ফল হিসেবে এসব লিচু কিনছেন। তবে স্বাদ কম থাকায় অনেকে হতাশাও প্রকাশ করেছেন।

কটিয়াদী পৌর বাজারে লিচু কিনতে আসা কামাল হোসেন বলেন, আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়ার জন্য নতুন ফল হিসেবে লিচু কিনেছেন, যদিও জানতেন এগুলো পুরোপুরি পাকেনি। আরেক ক্রেতা নূর হোসেন বলেন, বাচ্চাদের জন্য কিনলেও স্বাদে তেমন সন্তুষ্ট নন।

এদিকে অপরিপক্ক লিচু খাওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার হাবিবুর রহমান মিলন বলেন, অপরিপক্ক ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এবং এতে পেটের সমস্যা থেকে শুরু করে গুরুতর জটিলতাও দেখা দিতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, অনেক বাগানের লিচু এখনো পরিপূর্ণভাবে পাকেনি। আরও এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। তিনি কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পরিপক্ব লিচু বিক্রির পরামর্শ দেন।

মৌসুমের আগেই বাজারে লিচু এলেও স্বাদ ও মান নিয়ে প্রশ্ন থাকায় অনেকেই বলছেন, প্রকৃত স্বাদের লিচুর জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করাই ভালো।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ