নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পতিসরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়েছে। রবীন্দ্র কাচারি বাড়ির দেবেন্দ্র মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসেবে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমপি।
শুক্রবার (৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ অনুষ্ঠান শুরু হয়। পুরো পতিসর এলাকা এদিন উৎসবের আমেজে মুখরিত হয়ে ওঠে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে মূল পর্বের সূচনা হয়। পরে দেবেন্দ্র মঞ্চে “রবীন্দ্রনাথ ও বাংলাদেশ” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ। আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হারুন অর রশীদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একাধিক সংসদ সদস্য, সাবেক রাষ্ট্রদূত এম মুশফিকুল ফজল আনসারী, উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক শাহজাহান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহা. হরুন অর রশীদ, নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে স্থানীয় লোকজ সংস্কৃতি, রবীন্দ্র গবেষক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে দেবেন্দ্র মঞ্চ পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়। একই সঙ্গে পতিসর কাচারি বাড়ি ঘিরে শুরু হয় গ্রামীণ মেলা, যা দর্শনার্থীদের ভিড়ে উৎসবের রূপ নেয়।
সরকারি আয়োজনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও কয়েক দিন ধরে চলছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচি। ফলে পুরো এলাকা রবীন্দ্র উৎসবকে কেন্দ্র করে এক ভিন্ন আবহে রূপ নিয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে পতিসর কাচারি বাড়ি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। জমিদারি দেখভালের জন্য কবি ১৮৯১ সালের ১৫ জানুয়ারি প্রথম এখানে আসেন। এরপর ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত নাগর নদ দিয়ে বজরায় চড়ে নিয়মিত পতিসরে আগমন ঘটাতেন তিনি। এখানেই বসে তিনি রচনা করেছেন অসংখ্য কালজয়ী সাহিত্যকর্ম, যার মধ্যে রয়েছে ‘আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে’, ‘তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে’, ‘দুই বিঘা জমি’ এবং উপন্যাস ‘গোরা’সহ বহু বিখ্যাত সৃষ্টি।
রবীন্দ্র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পতিসর তাই আবারও পরিণত হয়েছে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের এক জীবন্ত স্মৃতিমঞ্চে।

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পতিসরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়েছে। রবীন্দ্র কাচারি বাড়ির দেবেন্দ্র মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসেবে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমপি।
শুক্রবার (৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ অনুষ্ঠান শুরু হয়। পুরো পতিসর এলাকা এদিন উৎসবের আমেজে মুখরিত হয়ে ওঠে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে মূল পর্বের সূচনা হয়। পরে দেবেন্দ্র মঞ্চে “রবীন্দ্রনাথ ও বাংলাদেশ” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ। আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হারুন অর রশীদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একাধিক সংসদ সদস্য, সাবেক রাষ্ট্রদূত এম মুশফিকুল ফজল আনসারী, উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক শাহজাহান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহা. হরুন অর রশীদ, নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে স্থানীয় লোকজ সংস্কৃতি, রবীন্দ্র গবেষক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে দেবেন্দ্র মঞ্চ পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়। একই সঙ্গে পতিসর কাচারি বাড়ি ঘিরে শুরু হয় গ্রামীণ মেলা, যা দর্শনার্থীদের ভিড়ে উৎসবের রূপ নেয়।
সরকারি আয়োজনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও কয়েক দিন ধরে চলছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচি। ফলে পুরো এলাকা রবীন্দ্র উৎসবকে কেন্দ্র করে এক ভিন্ন আবহে রূপ নিয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে পতিসর কাচারি বাড়ি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। জমিদারি দেখভালের জন্য কবি ১৮৯১ সালের ১৫ জানুয়ারি প্রথম এখানে আসেন। এরপর ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত নাগর নদ দিয়ে বজরায় চড়ে নিয়মিত পতিসরে আগমন ঘটাতেন তিনি। এখানেই বসে তিনি রচনা করেছেন অসংখ্য কালজয়ী সাহিত্যকর্ম, যার মধ্যে রয়েছে ‘আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে’, ‘তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে’, ‘দুই বিঘা জমি’ এবং উপন্যাস ‘গোরা’সহ বহু বিখ্যাত সৃষ্টি।
রবীন্দ্র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পতিসর তাই আবারও পরিণত হয়েছে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের এক জীবন্ত স্মৃতিমঞ্চে।

আপনার মতামত লিখুন