ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

রাজধানীতে বৈশাখী শোভাযাত্রা করলো জামায়াত


জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীতে বৈশাখী শোভাযাত্রা করলো জামায়াত

রাজধানীতে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রথমবারের মতো বৈশাখী শোভাযাত্রা করেছে জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের ব্যানারে আয়োজিত এ শোভাযাত্রা রাজধানীর প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে রমনা পার্কে গিয়ে শেষ হয়। এতে নারী, শিশু ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা দেশীয় ঐতিহ্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতির নানা উপাদান নিয়ে উপস্থিত হন। মাছ ধরার পলো, ঢেঁকি, খেওয়া জাল, কুলা, পাখা, বাঁশের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রীসহ গ্রামীণ জীবনের প্রতীকী উপকরণ প্রদর্শন করা হয়। এসব উপাদান ঘিরে শোভাযাত্রাটি বাঙালি ঐতিহ্যের এক ধরনের প্রতীকী উপস্থাপনায় পরিণত হয়।

শোভাযাত্রায় শিশুদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। বাঙালিয়ানার ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে তারা অংশ নেয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায়। একই সঙ্গে দেশাত্মবোধক গান, জারি, সারি ও ভাটিয়ালি সুরে পুরো শোভাযাত্রা উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে। অংশগ্রহণকারীরা ঢাকায় নববর্ষ উদযাপনের আমেজকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন।

শোভাযাত্রা শুরুর আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে এগিয়ে নিতে হলে নিজস্ব ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। বক্তারা অভিযোগ করেন, পশ্চিমা ও ভিনদেশি সংস্কৃতির প্রভাব বাড়ছে, যা রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

তারা আরও বলেন, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অনেক ক্ষেত্রেই হারিয়ে যেতে বসেছে। এসব ফিরিয়ে আনতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ প্রয়োজন বলে দাবি জানান তারা। বক্তারা বলেন, বাঙালির প্রকৃত চেতনা ও সাংস্কৃতিক জাগরণ পুনরুজ্জীবিত করতে হলে নতুন প্রজন্মকে ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করতে হবে।

সমাবেশে বক্তারা ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষার বিষয়েও বক্তব্য দেন। তারা বলেন, এমন কোনো সাংস্কৃতিক চর্চা গ্রহণযোগ্য নয়, যা ধর্মীয় বিশ্বাস বা নৈতিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ভারসাম্য বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।

শোভাযাত্রাটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং এতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন অংশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। পুরো আয়োজন ঘিরে রাজধানীতে নববর্ষ উদযাপনের একটি ভিন্নধর্মী চিত্র দেখা যায়।

বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পৃথক আয়োজনের মধ্যে এই শোভাযাত্রা একটি উল্লেখযোগ্য আয়োজন হিসেবে আলোচনায় আসে। উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা জানান, এমন আয়োজনের মাধ্যমে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়।

এদিকে নববর্ষ উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।

#আরএ

বিষয় : বৈশাখী শোভাযাত্রা জামায়াত

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


রাজধানীতে বৈশাখী শোভাযাত্রা করলো জামায়াত

প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রাজধানীতে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রথমবারের মতো বৈশাখী শোভাযাত্রা করেছে জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের ব্যানারে আয়োজিত এ শোভাযাত্রা রাজধানীর প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে রমনা পার্কে গিয়ে শেষ হয়। এতে নারী, শিশু ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা দেশীয় ঐতিহ্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতির নানা উপাদান নিয়ে উপস্থিত হন। মাছ ধরার পলো, ঢেঁকি, খেওয়া জাল, কুলা, পাখা, বাঁশের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রীসহ গ্রামীণ জীবনের প্রতীকী উপকরণ প্রদর্শন করা হয়। এসব উপাদান ঘিরে শোভাযাত্রাটি বাঙালি ঐতিহ্যের এক ধরনের প্রতীকী উপস্থাপনায় পরিণত হয়।

শোভাযাত্রায় শিশুদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। বাঙালিয়ানার ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে তারা অংশ নেয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায়। একই সঙ্গে দেশাত্মবোধক গান, জারি, সারি ও ভাটিয়ালি সুরে পুরো শোভাযাত্রা উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে। অংশগ্রহণকারীরা ঢাকায় নববর্ষ উদযাপনের আমেজকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন।

শোভাযাত্রা শুরুর আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে এগিয়ে নিতে হলে নিজস্ব ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। বক্তারা অভিযোগ করেন, পশ্চিমা ও ভিনদেশি সংস্কৃতির প্রভাব বাড়ছে, যা রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

তারা আরও বলেন, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অনেক ক্ষেত্রেই হারিয়ে যেতে বসেছে। এসব ফিরিয়ে আনতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ প্রয়োজন বলে দাবি জানান তারা। বক্তারা বলেন, বাঙালির প্রকৃত চেতনা ও সাংস্কৃতিক জাগরণ পুনরুজ্জীবিত করতে হলে নতুন প্রজন্মকে ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করতে হবে।

সমাবেশে বক্তারা ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষার বিষয়েও বক্তব্য দেন। তারা বলেন, এমন কোনো সাংস্কৃতিক চর্চা গ্রহণযোগ্য নয়, যা ধর্মীয় বিশ্বাস বা নৈতিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ভারসাম্য বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।

শোভাযাত্রাটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং এতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন অংশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। পুরো আয়োজন ঘিরে রাজধানীতে নববর্ষ উদযাপনের একটি ভিন্নধর্মী চিত্র দেখা যায়।

বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পৃথক আয়োজনের মধ্যে এই শোভাযাত্রা একটি উল্লেখযোগ্য আয়োজন হিসেবে আলোচনায় আসে। উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা জানান, এমন আয়োজনের মাধ্যমে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়।

এদিকে নববর্ষ উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।

#আরএ


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ