ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

তাড়াইলে শ্রেণিকক্ষে ছাদের পলেস্তারাসহ খসে পড়ল চলন্ত পাখা,অলৌকিক রক্ষা কোমলমতি শিশুদের


প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬

তাড়াইলে শ্রেণিকক্ষে ছাদের পলেস্তারাসহ খসে পড়ল চলন্ত পাখা,অলৌকিক রক্ষা কোমলমতি শিশুদের

​কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার চিকনী আউজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে শ্রেণিকক্ষের ছাদ থেকে পলেস্তারাসহ একটি বৈদ্যুতিক পাখা খুলে পড়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার (২৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিকক্ষে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে অলৌকিকভাবে অল্পের জন্য বড় ধরনের প্রাণহানি ও দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন কর্তব্যরত শিক্ষিকা ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই আজ সকালে প্রথম শ্রেণির কক্ষে ক্লাস চলছিল। একঝাঁক শিশু শিক্ষার্থী গভীর মনোযোগ দিয়ে শিক্ষিকার পাঠদান শুনছিল। হঠাৎ করেই দুপুরের দিকে এক বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো শ্রেণিকক্ষ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ছাদের পলেস্তারা উপড়ে নিয়ে একটি চলন্ত বৈদ্যুতিক পাখা সশব্দে আছড়ে পড়ে মেঝেতে। মুহূর্তের মধ্যে ধুলোবালি আর পলেস্তারার টুকরোয় অন্ধকার হয়ে যায় চারপাশ। ভয়ে, আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠে অবুঝ শিশুরা। শ্রেণিকক্ষজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র আতঙ্ক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষিকা জানান, ​"পাখাটি ঠিক আমার টেবিল আর শিক্ষার্থীদের বসার বেঞ্চের মাঝখানের ফাঁকা জায়গাটায় পড়েছে। আর মাত্র কয়েক ইঞ্চি এদিক-ওদিক হলেই কী যে হতো, ভাবতেই বুক শিউরে উঠছে!"


খবর পেয়ে দ্রুত বিদ্যালয়ে ছুটে আসেন আতঙ্কিত অভিভাবকরা। জানা গেছে, একই শ্রেণিকক্ষে এখনও আরও একটি বৈদ্যুতিক পাখা একইভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ঝুলছে। যেকোনো মুহূর্তে সেটিও ভেঙে পড়তে পারে এই আশঙ্কায় সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন তারা। ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা অবিলম্বে জরাজীর্ণ ভবনটি সংস্কার করে কোমলমতি শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও নির্ভয় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম ভূঞা বলেন, ​"পাঠদান চলাকালে হঠাৎ করেই ছাদের পলেস্তারাসহ ফ্যানটি খুলে পড়ে। মহান আল্লাহর অসীম রহমতে আমাদের কোনো সন্তান বা শিক্ষক আহত হননি। আমি ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। বিষয়টি নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা আখতার মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"

​এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় বিদ্যালয় ভবনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন— বড় কোনো বিপর্যয়ের আগেই কি জাগবে প্রশাসন? নাকি আরেকটি দুর্ঘটনার অপেক্ষা করবে কর্তৃপক্ষ?

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


তাড়াইলে শ্রেণিকক্ষে ছাদের পলেস্তারাসহ খসে পড়ল চলন্ত পাখা,অলৌকিক রক্ষা কোমলমতি শিশুদের

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

​কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার চিকনী আউজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে শ্রেণিকক্ষের ছাদ থেকে পলেস্তারাসহ একটি বৈদ্যুতিক পাখা খুলে পড়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার (২৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিকক্ষে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে অলৌকিকভাবে অল্পের জন্য বড় ধরনের প্রাণহানি ও দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন কর্তব্যরত শিক্ষিকা ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই আজ সকালে প্রথম শ্রেণির কক্ষে ক্লাস চলছিল। একঝাঁক শিশু শিক্ষার্থী গভীর মনোযোগ দিয়ে শিক্ষিকার পাঠদান শুনছিল। হঠাৎ করেই দুপুরের দিকে এক বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো শ্রেণিকক্ষ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ছাদের পলেস্তারা উপড়ে নিয়ে একটি চলন্ত বৈদ্যুতিক পাখা সশব্দে আছড়ে পড়ে মেঝেতে। মুহূর্তের মধ্যে ধুলোবালি আর পলেস্তারার টুকরোয় অন্ধকার হয়ে যায় চারপাশ। ভয়ে, আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠে অবুঝ শিশুরা। শ্রেণিকক্ষজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র আতঙ্ক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষিকা জানান, ​"পাখাটি ঠিক আমার টেবিল আর শিক্ষার্থীদের বসার বেঞ্চের মাঝখানের ফাঁকা জায়গাটায় পড়েছে। আর মাত্র কয়েক ইঞ্চি এদিক-ওদিক হলেই কী যে হতো, ভাবতেই বুক শিউরে উঠছে!"


খবর পেয়ে দ্রুত বিদ্যালয়ে ছুটে আসেন আতঙ্কিত অভিভাবকরা। জানা গেছে, একই শ্রেণিকক্ষে এখনও আরও একটি বৈদ্যুতিক পাখা একইভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ঝুলছে। যেকোনো মুহূর্তে সেটিও ভেঙে পড়তে পারে এই আশঙ্কায় সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন তারা। ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা অবিলম্বে জরাজীর্ণ ভবনটি সংস্কার করে কোমলমতি শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও নির্ভয় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম ভূঞা বলেন, ​"পাঠদান চলাকালে হঠাৎ করেই ছাদের পলেস্তারাসহ ফ্যানটি খুলে পড়ে। মহান আল্লাহর অসীম রহমতে আমাদের কোনো সন্তান বা শিক্ষক আহত হননি। আমি ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। বিষয়টি নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা আখতার মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"

​এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় বিদ্যালয় ভবনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন— বড় কোনো বিপর্যয়ের আগেই কি জাগবে প্রশাসন? নাকি আরেকটি দুর্ঘটনার অপেক্ষা করবে কর্তৃপক্ষ?


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ