নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা ছাত্রদলে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ ও হতাশা এবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে। নতুন কমিটি গঠনে দীর্ঘসূত্রতা, ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের অভাব এবং শীর্ষ নেতাদের প্রতি উদাসীনতার অভিযোগে তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশের পাশাপাশি দলত্যাগেরও ইঙ্গিত দিচ্ছেন অনেকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তৃণমূলের একটি অংশ বিকল্প রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের দিকেও ঝুঁকতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোলনের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় আসে ফতুল্লা ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ সংকট। পোস্টে কাশিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেনের একটি ছবি শেয়ার করা হয়, যেখানে তাকে জীবিকার তাগিদে কাঁধে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বহন করতে দেখা যায়।
ছবিটি প্রকাশের পর পোস্টের মন্তব্যঘরে ত্যাগী নেতাকর্মীদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে। ফতুল্লা থানার সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বর্তমান যুবদল কর্মী কায়েস আহমেদ পল্লব দাবি করেন, শাহাদাত হোসেনের মতো অসংখ্য ত্যাগী নেতাকর্মী বর্তমানে চরম অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
ছাত্রদল নেতা লিয়ান মাহমুদ আকাশ অভিযোগ করেন, দুঃসময়ে রাজপথে থাকা কর্মীরা মূল্যায়ন পান না, বরং সুবিধাভোগীরাই সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করে আজিজ অর্ণব লেখেন, যাদের ত্যাগে অনেক নেতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, তারাই আজ সবচেয়ে বেশি অবহেলিত।
তৃণমূলের কর্মীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং দলীয় কিছু নেতার সঙ্গে অতীতে বিরোধী অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন মন্তব্যে এসব বিষয় উঠে এসেছে।
অর্থনৈতিক দুরবস্থার কথাও খোলাখুলিভাবে স্বীকার করছেন অনেক নেতা। কাশিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বর্তমান যুবদল নেতা হিমেল বলেন, গরু পালন করেই তাকে সংসার চালাতে হচ্ছে। অন্যদিকে মাহফুজুর রহমান নিতুলসহ একাধিক নেতা দাবি করেন, শুধু কাশিপুর নয়, পুরো ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের চিত্র প্রায় একই।
দীর্ঘদিন কমিটি না থাকা এবং শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব বাড়তে থাকায় অনেক নেতাকর্মী রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন, আবার অনেকে সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এদিকে এই পরিস্থিতির সুযোগে তৃণমূলের একটি অংশ নবগঠিত ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি)-র প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। জেলা পর্যায়ের এনসিপির এক নেতা জানান, ছাত্রদলের অবমূল্যায়িত ও হতাশ অনেক কর্মী তাদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ সংকট দ্রুত সমাধান করা না গেলে সংগঠনটিতে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব শুধু ছাত্রদলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং স্থানীয় বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা ছাত্রদলে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ ও হতাশা এবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে। নতুন কমিটি গঠনে দীর্ঘসূত্রতা, ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের অভাব এবং শীর্ষ নেতাদের প্রতি উদাসীনতার অভিযোগে তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশের পাশাপাশি দলত্যাগেরও ইঙ্গিত দিচ্ছেন অনেকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তৃণমূলের একটি অংশ বিকল্প রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের দিকেও ঝুঁকতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোলনের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় আসে ফতুল্লা ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ সংকট। পোস্টে কাশিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেনের একটি ছবি শেয়ার করা হয়, যেখানে তাকে জীবিকার তাগিদে কাঁধে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বহন করতে দেখা যায়।
ছবিটি প্রকাশের পর পোস্টের মন্তব্যঘরে ত্যাগী নেতাকর্মীদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে। ফতুল্লা থানার সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বর্তমান যুবদল কর্মী কায়েস আহমেদ পল্লব দাবি করেন, শাহাদাত হোসেনের মতো অসংখ্য ত্যাগী নেতাকর্মী বর্তমানে চরম অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
ছাত্রদল নেতা লিয়ান মাহমুদ আকাশ অভিযোগ করেন, দুঃসময়ে রাজপথে থাকা কর্মীরা মূল্যায়ন পান না, বরং সুবিধাভোগীরাই সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করে আজিজ অর্ণব লেখেন, যাদের ত্যাগে অনেক নেতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, তারাই আজ সবচেয়ে বেশি অবহেলিত।
তৃণমূলের কর্মীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং দলীয় কিছু নেতার সঙ্গে অতীতে বিরোধী অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন মন্তব্যে এসব বিষয় উঠে এসেছে।
অর্থনৈতিক দুরবস্থার কথাও খোলাখুলিভাবে স্বীকার করছেন অনেক নেতা। কাশিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বর্তমান যুবদল নেতা হিমেল বলেন, গরু পালন করেই তাকে সংসার চালাতে হচ্ছে। অন্যদিকে মাহফুজুর রহমান নিতুলসহ একাধিক নেতা দাবি করেন, শুধু কাশিপুর নয়, পুরো ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের চিত্র প্রায় একই।
দীর্ঘদিন কমিটি না থাকা এবং শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব বাড়তে থাকায় অনেক নেতাকর্মী রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন, আবার অনেকে সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এদিকে এই পরিস্থিতির সুযোগে তৃণমূলের একটি অংশ নবগঠিত ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি)-র প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। জেলা পর্যায়ের এনসিপির এক নেতা জানান, ছাত্রদলের অবমূল্যায়িত ও হতাশ অনেক কর্মী তাদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ সংকট দ্রুত সমাধান করা না গেলে সংগঠনটিতে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব শুধু ছাত্রদলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং স্থানীয় বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন