ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সংসদে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর রীতি নিয়ে আপত্তি জামায়াত এমপির


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬

সংসদে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর রীতি নিয়ে আপত্তি জামায়াত এমপির

জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রবেশের সময় মাথা ঝুঁকিয়ে বা নিচু করে সম্মান জানানোর প্রচলিত রীতির বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) মুজিবুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, এই ধরনের সম্মান প্রদর্শনের রীতি ইসলামের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা শিরকের পর্যায়ে পড়ে যেতে পারে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেন জামায়াতের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, সংসদে প্রবেশের সময় স্পিকারের আসনের দিকে মাথা নত করে সম্মান প্রদর্শনের যে রীতি চালু রয়েছে, তা অতীতে কার্যপ্রণালি বিধিতে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে সংশোধনের মাধ্যমে বাদ দেওয়া হয়েছে।

মুজিবুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদের সময় কার্যপ্রণালি বিধিতে সংসদ কক্ষে প্রবেশের সময় মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শনের বিধান ছিল। তবে পরে এ বিষয়ে সংশোধনী আনা হয় এবং মাথা নত করে সম্মান জানানোর বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় এ ধরনের রীতিকে পরিহার করা উচিত।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংসদের কার্যক্রম চলাকালে তিনি প্রায়ই লক্ষ্য করেন যে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অনেক সময় মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানান। তবে স্পিকারকে সালাম দেওয়ার বিষয়টিকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

মুজিবুর রহমান বলেন, “আমি মাঝেমধ্যে খেয়াল করি, আপনি সুন্দরভাবে সালাম দেন। আমরাও সালাম দেই, জবাব দেই। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় আগের ঝোঁকার রীতি এখনও আছে। আপনারও আছে, মাননীয় ডেপুটি স্পিকারেরও আছে।”

কার্যপ্রণালি বিধিতে ‘শিরককে উৎখাত’ করার যে বিধান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন, তা যথাযথভাবে অনুসরণের আহ্বানও জানান। তার মতে, সংসদ সদস্যদের উচিত এমন কোনো আচরণ থেকে বিরত থাকা, যা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিতর্কিত হতে পারে।

তিনি বলেন, “কার্যপ্রণালি বিধিতে শিরককে উৎখাত করার যে বিধি হয়েছে, তা সবার মেনে চলা উচিত। এতে নেকি হবে, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা যাবে, কাল-কেয়ামতে এটা থেকে আমরা উপকার লাভ করব।”

জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টি পর্যালোচনার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, কার্যপ্রণালি বিধি পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানানো হবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি অনেকাংশে ব্যক্তিগত অনুশীলনের মধ্যেও পড়ে।

স্পিকার বলেন, “কেউ সালাম দেবে, কেউ মাথা ঝোঁকাবে। সারা পৃথিবীর সংসদে এ রকম আছে। তা–ও আমি দেখব, বিগত সংসদে এটা বাতিল করা হয়েছে কি না।”

জাতীয় সংসদে সম্মান প্রদর্শনের রীতি নিয়ে এ ধরনের আলোচনা নতুন নয়। তবে ধর্মীয় ব্যাখ্যা এবং সংসদীয় ঐতিহ্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কার্যপ্রণালি বিধিতে এ বিষয়ে কী নির্দেশনা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে সংসদীয় আচরণবিধিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।

#আরইউএস

বিষয় : জামায়াত জাতীয় সংসদ

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


সংসদে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর রীতি নিয়ে আপত্তি জামায়াত এমপির

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

featured Image

জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রবেশের সময় মাথা ঝুঁকিয়ে বা নিচু করে সম্মান জানানোর প্রচলিত রীতির বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) মুজিবুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, এই ধরনের সম্মান প্রদর্শনের রীতি ইসলামের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা শিরকের পর্যায়ে পড়ে যেতে পারে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেন জামায়াতের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, সংসদে প্রবেশের সময় স্পিকারের আসনের দিকে মাথা নত করে সম্মান প্রদর্শনের যে রীতি চালু রয়েছে, তা অতীতে কার্যপ্রণালি বিধিতে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে সংশোধনের মাধ্যমে বাদ দেওয়া হয়েছে।

মুজিবুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদের সময় কার্যপ্রণালি বিধিতে সংসদ কক্ষে প্রবেশের সময় মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শনের বিধান ছিল। তবে পরে এ বিষয়ে সংশোধনী আনা হয় এবং মাথা নত করে সম্মান জানানোর বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় এ ধরনের রীতিকে পরিহার করা উচিত।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংসদের কার্যক্রম চলাকালে তিনি প্রায়ই লক্ষ্য করেন যে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অনেক সময় মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানান। তবে স্পিকারকে সালাম দেওয়ার বিষয়টিকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

মুজিবুর রহমান বলেন, “আমি মাঝেমধ্যে খেয়াল করি, আপনি সুন্দরভাবে সালাম দেন। আমরাও সালাম দেই, জবাব দেই। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় আগের ঝোঁকার রীতি এখনও আছে। আপনারও আছে, মাননীয় ডেপুটি স্পিকারেরও আছে।”

কার্যপ্রণালি বিধিতে ‘শিরককে উৎখাত’ করার যে বিধান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন, তা যথাযথভাবে অনুসরণের আহ্বানও জানান। তার মতে, সংসদ সদস্যদের উচিত এমন কোনো আচরণ থেকে বিরত থাকা, যা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিতর্কিত হতে পারে।

তিনি বলেন, “কার্যপ্রণালি বিধিতে শিরককে উৎখাত করার যে বিধি হয়েছে, তা সবার মেনে চলা উচিত। এতে নেকি হবে, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা যাবে, কাল-কেয়ামতে এটা থেকে আমরা উপকার লাভ করব।”

জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টি পর্যালোচনার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, কার্যপ্রণালি বিধি পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানানো হবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি অনেকাংশে ব্যক্তিগত অনুশীলনের মধ্যেও পড়ে।

স্পিকার বলেন, “কেউ সালাম দেবে, কেউ মাথা ঝোঁকাবে। সারা পৃথিবীর সংসদে এ রকম আছে। তা–ও আমি দেখব, বিগত সংসদে এটা বাতিল করা হয়েছে কি না।”

জাতীয় সংসদে সম্মান প্রদর্শনের রীতি নিয়ে এ ধরনের আলোচনা নতুন নয়। তবে ধর্মীয় ব্যাখ্যা এবং সংসদীয় ঐতিহ্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কার্যপ্রণালি বিধিতে এ বিষয়ে কী নির্দেশনা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে সংসদীয় আচরণবিধিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।

#আরইউএস


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ