স্পেনের মতো শিরোপাপ্রত্যাশী দলকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে। তবে ম্যাচ শেষে উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার চোখে ছিল অশ্রু। শেষ বাঁশি বাজার পরই হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন তিনি। কিছুক্ষণ পর দু'হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কান্নায় ভেঙে পড়লে তাকে সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে আসেন সতীর্থরা।
৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের কান্না কেবল ম্যাচের আবেগের বহিঃপ্রকাশ ছিল না; বরং এর পেছনে ছিল দীর্ঘ সংগ্রাম, প্রিয়জনদের অনুপস্থিতি এবং অপূর্ণতার বেদনা। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের মুহূর্তে পাশে পাননি তার সবচেয়ে কাছের মানুষদের।
ভোজিনিয়া বলেন, ছোটবেলায় তিনি দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছেন। কয়েক বছর আগে তারা মারা গেছেন। বিশ্বকাপের এই স্মরণীয় মুহূর্তে তাদের কথা বারবার মনে পড়ছিল। একই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছিল মায়ের অনুপস্থিতি। তিনি চেয়েছিলেন, গ্যালারিতে বসে মা তার জীবনের সেরা অর্জনের সাক্ষী থাকুন। কিন্তু ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে তা সম্ভব হয়নি।
আবেগঘন কণ্ঠে কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষক বলেন, "আমি চেয়েছিলাম মা এখানে থাকুন। কিন্তু ভিসার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন ছিল, আমরা সময়মতো সেটি জোগাড় করতে পারিনি।"
স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ঐতিহাসিক ড্রয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন ভোজিনিয়া নিজেই। পেদ্রি, রদ্রি এবং আয়মেরিক লাপোর্তেদের নেতৃত্বে গড়া স্পেনের আক্রমণভাগকে একের পর এক দুর্দান্ত সেভে রুখে দেন তিনি। পুরো ম্যাচে অন্তত সাতটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে দিয়ে দলকে মূল্যবান এক পয়েন্ট এনে দেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
অথচ পর্তুগিজ দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব চাভেসের হয়ে খেলা ভোজিনিয়ার বাজারমূল্য মাত্র ৫০ হাজার ইউরো। সেই তিনিই বিশ্বকাপের মঞ্চে স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হতাশ করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেন।
এই ম্যাচের মাধ্যমে ব্যক্তিগত আরেকটি মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি। ৪০ বছর ১২ দিন বয়সে দেশের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নেমে কেপ ভার্দের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক বিশ্বকাপ ফুটবলার হওয়ার কীর্তি গড়েন ভোজিনিয়া। অভিষেক ম্যাচেই ম্যাচসেরার স্বীকৃতি তার অর্জনকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।
ভোজিনিয়ার ফুটবলজীবনের পথও ছিল বন্ধুর। কেপ ভার্দের মিন্দেলো দ্বীপে বেড়ে ওঠার সময় তুলনামূলক কম উচ্চতার কারণে বারবার বিভিন্ন দলের উপেক্ষার শিকার হতে হয়েছে তাকে। ২৫ বছর বয়সে গিয়ে শুরু হয় তার পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার, যা একজন গোলরক্ষকের জন্যও বেশ দেরিতেই বিবেচিত হয়। একসময় ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি। তবে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন তাকে হার মানতে দেয়নি।
সেই স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত তাকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের আলোচিত নায়কে পরিণত করেছে। স্পেনকে রুখে দিয়ে যখন পুরো ফুটবলবিশ্ব কেপ ভার্দের প্রশংসায় মুখর, তখন ভোজিনিয়ার অশ্রুসিক্ত মুখ মনে করিয়ে দেয়—ফুটবল শুধু ট্রফি, পরিসংখ্যান বা বাজারমূল্যের গল্প নয়; এটি ত্যাগ, সংগ্রাম, পরিবার এবং অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলার মানবিক কাহিনিও।
#আর ইউ এস
বিষয় : বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
স্পেনের মতো শিরোপাপ্রত্যাশী দলকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে। তবে ম্যাচ শেষে উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার চোখে ছিল অশ্রু। শেষ বাঁশি বাজার পরই হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন তিনি। কিছুক্ষণ পর দু'হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কান্নায় ভেঙে পড়লে তাকে সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে আসেন সতীর্থরা।
৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের কান্না কেবল ম্যাচের আবেগের বহিঃপ্রকাশ ছিল না; বরং এর পেছনে ছিল দীর্ঘ সংগ্রাম, প্রিয়জনদের অনুপস্থিতি এবং অপূর্ণতার বেদনা। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের মুহূর্তে পাশে পাননি তার সবচেয়ে কাছের মানুষদের।
ভোজিনিয়া বলেন, ছোটবেলায় তিনি দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছেন। কয়েক বছর আগে তারা মারা গেছেন। বিশ্বকাপের এই স্মরণীয় মুহূর্তে তাদের কথা বারবার মনে পড়ছিল। একই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছিল মায়ের অনুপস্থিতি। তিনি চেয়েছিলেন, গ্যালারিতে বসে মা তার জীবনের সেরা অর্জনের সাক্ষী থাকুন। কিন্তু ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে তা সম্ভব হয়নি।
আবেগঘন কণ্ঠে কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষক বলেন, "আমি চেয়েছিলাম মা এখানে থাকুন। কিন্তু ভিসার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন ছিল, আমরা সময়মতো সেটি জোগাড় করতে পারিনি।"
স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ঐতিহাসিক ড্রয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন ভোজিনিয়া নিজেই। পেদ্রি, রদ্রি এবং আয়মেরিক লাপোর্তেদের নেতৃত্বে গড়া স্পেনের আক্রমণভাগকে একের পর এক দুর্দান্ত সেভে রুখে দেন তিনি। পুরো ম্যাচে অন্তত সাতটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে দিয়ে দলকে মূল্যবান এক পয়েন্ট এনে দেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
অথচ পর্তুগিজ দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব চাভেসের হয়ে খেলা ভোজিনিয়ার বাজারমূল্য মাত্র ৫০ হাজার ইউরো। সেই তিনিই বিশ্বকাপের মঞ্চে স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হতাশ করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেন।
এই ম্যাচের মাধ্যমে ব্যক্তিগত আরেকটি মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি। ৪০ বছর ১২ দিন বয়সে দেশের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নেমে কেপ ভার্দের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক বিশ্বকাপ ফুটবলার হওয়ার কীর্তি গড়েন ভোজিনিয়া। অভিষেক ম্যাচেই ম্যাচসেরার স্বীকৃতি তার অর্জনকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।
ভোজিনিয়ার ফুটবলজীবনের পথও ছিল বন্ধুর। কেপ ভার্দের মিন্দেলো দ্বীপে বেড়ে ওঠার সময় তুলনামূলক কম উচ্চতার কারণে বারবার বিভিন্ন দলের উপেক্ষার শিকার হতে হয়েছে তাকে। ২৫ বছর বয়সে গিয়ে শুরু হয় তার পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার, যা একজন গোলরক্ষকের জন্যও বেশ দেরিতেই বিবেচিত হয়। একসময় ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি। তবে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন তাকে হার মানতে দেয়নি।
সেই স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত তাকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের আলোচিত নায়কে পরিণত করেছে। স্পেনকে রুখে দিয়ে যখন পুরো ফুটবলবিশ্ব কেপ ভার্দের প্রশংসায় মুখর, তখন ভোজিনিয়ার অশ্রুসিক্ত মুখ মনে করিয়ে দেয়—ফুটবল শুধু ট্রফি, পরিসংখ্যান বা বাজারমূল্যের গল্প নয়; এটি ত্যাগ, সংগ্রাম, পরিবার এবং অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলার মানবিক কাহিনিও।
#আর ইউ এস

আপনার মতামত লিখুন