ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বিশ্বকাপ চলাকালে এলিয়েন অপহরণের দাবি ব্রাজিলীয় জ্যোতিষীর


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ চলাকালে এলিয়েন অপহরণের দাবি ব্রাজিলীয় জ্যোতিষীর

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক অস্বাভাবিক ভবিষ্যদ্বাণী ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্রাজিলের এক জ্যোতিষী ও আধ্যাত্মিক গুরু দাবি করেছেন, টুর্নামেন্ট চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির একটি স্টেডিয়ামে ভিনগ্রহী প্রাণীদের আগমন ঘটতে পারে। এমনকি ওই ঘটনায় খেলোয়াড় ও দর্শকদের অপহরণের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ব্রাজিলে ‘ভো বাহিয়ানা’ নামে পরিচিত এলিসাঞ্জেলা দে সুজা নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আধ্যাত্মিক ভবিষ্যদ্বাণী, রাশিফল এবং ট্যারোট-সংক্রান্ত বিষয়বস্তু প্রকাশ করে থাকেন। তার দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি একাধিকবার এমন স্বপ্ন দেখেছেন, যেখানে মায়ামির একটি স্টেডিয়ামে ফুটবল ম্যাচ চলাকালে আকাশ থেকে বিশাল আকৃতির মহাকাশযান নেমে আসে এবং অস্বাভাবিক ঘটনার সূচনা হয়।

তার বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথমে একটি মহাকাশযান থেকে কয়েকজন খেলোয়াড়কে তুলে নেওয়া হয়। পরে আরও বড় আকৃতির একটি ‘মাদারশিপ’ এসে পুরো স্টেডিয়াম এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তিনি দাবি করেন, স্বপ্নে তিনি নিজেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং চারপাশের পরিবেশ ছিল আতঙ্ক, চিৎকার ও কান্নায় ভরা।

জ্যোতিষীটির ভাষ্যমতে, ওই ঘটনায় ভালো ও খারাপ—দুই ধরনের ভিনগ্রহী প্রাণীর উপস্থিতি থাকবে। একদলকে তিনি শান্ত ও বুদ্ধিমান হিসেবে উল্লেখ করলেও অন্য দলকে ‘রিপটিলিয়ান’ বা সরীসৃপ-সদৃশ আক্রমণাত্মক সত্তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এসব প্রাণীর আচরণ ছিল শীতল ও ভীতিকর।

ভো বাহিয়ানা আরও দাবি করেন, অতীতেও তিনি কিছু বৈশ্বিক ঘটনা আগাম অনুভব করেছিলেন। রাজনৈতিক ঘটনা থেকে শুরু করে মহামারির মতো বিষয়ও তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

তার সর্বশেষ ভবিষ্যদ্বাণীতে ২০২৬ সালের ২৪ অথবা ২৬ জুনের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অনুসারীদের ওই সময় মায়ামির সংশ্লিষ্ট স্টেডিয়াম এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। অনেক ফুটবলপ্রেমীর ধারণা, মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের সম্ভাব্য ম্যাচকে কেন্দ্র করেই এ মন্তব্য করা হয়েছে।

এই ভবিষ্যদ্বাণীতে ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমার ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নামও উঠে এসেছে। জ্যোতিষীটি ইঙ্গিত দিয়েছেন, শত শত মানুষের পাশাপাশি তারাও এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারেন। স্কটল্যান্ড জাতীয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের নামও তিনি উল্লেখ করেছেন।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এগুলোকে বাস্তবতার পরিবর্তে ব্যক্তিগত স্বপ্ন, কল্পনা কিংবা সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় আসার প্রবণতার অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।

এদিকে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে। অনেকে একে নিছক গুজব ও অবাস্তব কল্পনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আবার কেউ কেউ ব্যঙ্গ করে প্রশ্ন তুলেছেন, যদি এলিয়েনরা সত্যিই পৃথিবীতে আসে, তবে তারা কি শুধুই ফুটবল দেখার জন্যই আসবে?

#আর ইউ এস 

বিষয় : বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


বিশ্বকাপ চলাকালে এলিয়েন অপহরণের দাবি ব্রাজিলীয় জ্যোতিষীর

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬

featured Image

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক অস্বাভাবিক ভবিষ্যদ্বাণী ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্রাজিলের এক জ্যোতিষী ও আধ্যাত্মিক গুরু দাবি করেছেন, টুর্নামেন্ট চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির একটি স্টেডিয়ামে ভিনগ্রহী প্রাণীদের আগমন ঘটতে পারে। এমনকি ওই ঘটনায় খেলোয়াড় ও দর্শকদের অপহরণের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ব্রাজিলে ‘ভো বাহিয়ানা’ নামে পরিচিত এলিসাঞ্জেলা দে সুজা নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আধ্যাত্মিক ভবিষ্যদ্বাণী, রাশিফল এবং ট্যারোট-সংক্রান্ত বিষয়বস্তু প্রকাশ করে থাকেন। তার দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি একাধিকবার এমন স্বপ্ন দেখেছেন, যেখানে মায়ামির একটি স্টেডিয়ামে ফুটবল ম্যাচ চলাকালে আকাশ থেকে বিশাল আকৃতির মহাকাশযান নেমে আসে এবং অস্বাভাবিক ঘটনার সূচনা হয়।

তার বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথমে একটি মহাকাশযান থেকে কয়েকজন খেলোয়াড়কে তুলে নেওয়া হয়। পরে আরও বড় আকৃতির একটি ‘মাদারশিপ’ এসে পুরো স্টেডিয়াম এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তিনি দাবি করেন, স্বপ্নে তিনি নিজেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং চারপাশের পরিবেশ ছিল আতঙ্ক, চিৎকার ও কান্নায় ভরা।

জ্যোতিষীটির ভাষ্যমতে, ওই ঘটনায় ভালো ও খারাপ—দুই ধরনের ভিনগ্রহী প্রাণীর উপস্থিতি থাকবে। একদলকে তিনি শান্ত ও বুদ্ধিমান হিসেবে উল্লেখ করলেও অন্য দলকে ‘রিপটিলিয়ান’ বা সরীসৃপ-সদৃশ আক্রমণাত্মক সত্তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এসব প্রাণীর আচরণ ছিল শীতল ও ভীতিকর।

ভো বাহিয়ানা আরও দাবি করেন, অতীতেও তিনি কিছু বৈশ্বিক ঘটনা আগাম অনুভব করেছিলেন। রাজনৈতিক ঘটনা থেকে শুরু করে মহামারির মতো বিষয়ও তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

তার সর্বশেষ ভবিষ্যদ্বাণীতে ২০২৬ সালের ২৪ অথবা ২৬ জুনের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অনুসারীদের ওই সময় মায়ামির সংশ্লিষ্ট স্টেডিয়াম এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। অনেক ফুটবলপ্রেমীর ধারণা, মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের সম্ভাব্য ম্যাচকে কেন্দ্র করেই এ মন্তব্য করা হয়েছে।

এই ভবিষ্যদ্বাণীতে ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমার ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নামও উঠে এসেছে। জ্যোতিষীটি ইঙ্গিত দিয়েছেন, শত শত মানুষের পাশাপাশি তারাও এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারেন। স্কটল্যান্ড জাতীয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের নামও তিনি উল্লেখ করেছেন।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এগুলোকে বাস্তবতার পরিবর্তে ব্যক্তিগত স্বপ্ন, কল্পনা কিংবা সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় আসার প্রবণতার অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।

এদিকে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে। অনেকে একে নিছক গুজব ও অবাস্তব কল্পনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আবার কেউ কেউ ব্যঙ্গ করে প্রশ্ন তুলেছেন, যদি এলিয়েনরা সত্যিই পৃথিবীতে আসে, তবে তারা কি শুধুই ফুটবল দেখার জন্যই আসবে?

#আর ইউ এস 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ