ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

‘সেভেন আপ’ স্কোরলাইন, কুরাসাওয়ের পরাজয়ের আড়ালে সাহসের জয়


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬

‘সেভেন আপ’ স্কোরলাইন, কুরাসাওয়ের পরাজয়ের আড়ালে সাহসের জয়

ফুটবল ইতিহাসে কিছু স্কোরলাইন শুধু সংখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং হয়ে ওঠে প্রতীক। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে স্বাগতিক ব্রাজিলের ৭-১ ব্যবধানে পরাজয় ছিল তেমনই এক ঘটনা। মারাকানার সেই রাত ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে আজও দুঃস্বপ্ন হয়ে আছে। এরপর থেকে ‘সেভেন আপ’ শব্দটি ফুটবলে বড় ব্যবধানের হার, অপমান এবং ধসের প্রতিশব্দে পরিণত হয়।

তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে আবারও দেখা গেল সেই পরিচিত ৭-১ স্কোরলাইন। এবারও জয়ী দল জার্মানি। কিন্তু প্রতিপক্ষ ছিল বিশ্বকাপের নবাগত কুরাসাও। স্কোর একই হলেও দুই ম্যাচের গল্প যেন দুই মেরুর।

ম্যাচের শুরু থেকেই নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দেয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। বল দখল, আক্রমণ গঠন এবং গোলের সুযোগ তৈরিতে তারা ছিল স্পষ্টতই এগিয়ে। একের পর এক আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগ। ব্যবধান দ্রুত বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত জার্মানি মাঠ ছাড়ে ৭-১ গোলের বড় জয় নিয়ে।

কিন্তু ম্যাচটির সবচেয়ে আলোচিত দিক ছিল না শুধুই গোল কিংবা ফলাফল। বরং দৃষ্টি কেড়েছে কুরাসাওয়ের মানসিক দৃঢ়তা এবং তাদের সমর্থকদের অসাধারণ উপস্থিতি।

একের পর এক গোল হজম করেও গ্যালারিতে থেমে থাকেননি কুরাসাওয়ের সমর্থকেরা। পতাকা উড়েছে, গান গাওয়া হয়েছে, হাততালিতে মুখর থেকেছে স্ট্যান্ড। হার নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পরও নিজেদের দলের প্রতি তাদের সমর্থনে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। ফুটবলে যেখানে বড় ব্যবধানের পরাজয় প্রায়শই হতাশা, নীরবতা কিংবা ক্ষোভের জন্ম দেয়, সেখানে কুরাসাওয়ের সমর্থকেরা দেখিয়েছেন ভিন্ন এক চিত্র।

ব্রাজিলের ২০১৪ সালের ৭-১ ছিল একটি পরাশক্তির ভেঙে পড়ার প্রতীক। নিজ দেশে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নভঙ্গের বেদনা সেদিন পুরো জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। অন্যদিকে কুরাসাওয়ের এই ৭-১ যেন ছোট একটি দেশের বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকার সাহসের গল্প।

ক্যারিবীয় অঞ্চলের ছোট দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাওয়ের ফুটবল যাত্রা বরাবরই সংগ্রামের। দলের অনেক খেলোয়াড়ের শিকড় রয়েছে ইউরোপে, বিশেষ করে নেদারল্যান্ডসে। কেউ সেখানে জন্মেছেন, কেউ বেড়ে উঠেছেন। ফলে কুরাসাও জাতীয় দল কেবল একটি ভূখণ্ডের প্রতিনিধিত্ব করে না; বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এক সম্প্রদায়ের পরিচয়ও বহন করে।

বিশ্বকাপের মতো মহামঞ্চে জায়গা করে নেওয়াটাই তাদের জন্য বড় অর্জন। আর জার্মানির মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গোল করতে পারাটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ম্যাচজুড়ে সীমিত সুযোগ পেলেও আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করেছে তারা। শেষ পর্যন্ত একটি গোল অন্তত প্রমাণ করেছে যে তারা কেবল অংশগ্রহণ করতেই আসেনি, নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিতেও প্রস্তুত ছিল।

শেষ বাঁশি বাজার পর স্কোরবোর্ডে লেখা ছিল ৭-১। কিন্তু কুরাসাওয়ের গল্প আটকে থাকেনি সেই সংখ্যায়। পরাজয়ের মধ্যেও ছিল আত্মমর্যাদা, সংগ্রাম আর বড় স্বপ্ন দেখার সাহস। ফুটবলে সব বড় ব্যবধানের হার একই অর্থ বহন করে না। কখনো তা ধসের প্রতিচ্ছবি, আবার কখনো তা সীমাবদ্ধতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।

কুরাসাওয়ের এই ‘সেভেন আপ’ সেই দ্বিতীয় গল্পেরই নাম—যেখানে পরাজয়ের মধ্যেও হারিয়ে যায় না পরিচয়, মুছে যায় না স্বপ্ন।

#আরইউএস

বিষয় : বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ জার্মানি

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


‘সেভেন আপ’ স্কোরলাইন, কুরাসাওয়ের পরাজয়ের আড়ালে সাহসের জয়

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

ফুটবল ইতিহাসে কিছু স্কোরলাইন শুধু সংখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং হয়ে ওঠে প্রতীক। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে স্বাগতিক ব্রাজিলের ৭-১ ব্যবধানে পরাজয় ছিল তেমনই এক ঘটনা। মারাকানার সেই রাত ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে আজও দুঃস্বপ্ন হয়ে আছে। এরপর থেকে ‘সেভেন আপ’ শব্দটি ফুটবলে বড় ব্যবধানের হার, অপমান এবং ধসের প্রতিশব্দে পরিণত হয়।

তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে আবারও দেখা গেল সেই পরিচিত ৭-১ স্কোরলাইন। এবারও জয়ী দল জার্মানি। কিন্তু প্রতিপক্ষ ছিল বিশ্বকাপের নবাগত কুরাসাও। স্কোর একই হলেও দুই ম্যাচের গল্প যেন দুই মেরুর।

ম্যাচের শুরু থেকেই নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দেয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। বল দখল, আক্রমণ গঠন এবং গোলের সুযোগ তৈরিতে তারা ছিল স্পষ্টতই এগিয়ে। একের পর এক আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগ। ব্যবধান দ্রুত বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত জার্মানি মাঠ ছাড়ে ৭-১ গোলের বড় জয় নিয়ে।

কিন্তু ম্যাচটির সবচেয়ে আলোচিত দিক ছিল না শুধুই গোল কিংবা ফলাফল। বরং দৃষ্টি কেড়েছে কুরাসাওয়ের মানসিক দৃঢ়তা এবং তাদের সমর্থকদের অসাধারণ উপস্থিতি।

একের পর এক গোল হজম করেও গ্যালারিতে থেমে থাকেননি কুরাসাওয়ের সমর্থকেরা। পতাকা উড়েছে, গান গাওয়া হয়েছে, হাততালিতে মুখর থেকেছে স্ট্যান্ড। হার নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পরও নিজেদের দলের প্রতি তাদের সমর্থনে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। ফুটবলে যেখানে বড় ব্যবধানের পরাজয় প্রায়শই হতাশা, নীরবতা কিংবা ক্ষোভের জন্ম দেয়, সেখানে কুরাসাওয়ের সমর্থকেরা দেখিয়েছেন ভিন্ন এক চিত্র।

ব্রাজিলের ২০১৪ সালের ৭-১ ছিল একটি পরাশক্তির ভেঙে পড়ার প্রতীক। নিজ দেশে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নভঙ্গের বেদনা সেদিন পুরো জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। অন্যদিকে কুরাসাওয়ের এই ৭-১ যেন ছোট একটি দেশের বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকার সাহসের গল্প।

ক্যারিবীয় অঞ্চলের ছোট দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাওয়ের ফুটবল যাত্রা বরাবরই সংগ্রামের। দলের অনেক খেলোয়াড়ের শিকড় রয়েছে ইউরোপে, বিশেষ করে নেদারল্যান্ডসে। কেউ সেখানে জন্মেছেন, কেউ বেড়ে উঠেছেন। ফলে কুরাসাও জাতীয় দল কেবল একটি ভূখণ্ডের প্রতিনিধিত্ব করে না; বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এক সম্প্রদায়ের পরিচয়ও বহন করে।

বিশ্বকাপের মতো মহামঞ্চে জায়গা করে নেওয়াটাই তাদের জন্য বড় অর্জন। আর জার্মানির মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গোল করতে পারাটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ম্যাচজুড়ে সীমিত সুযোগ পেলেও আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করেছে তারা। শেষ পর্যন্ত একটি গোল অন্তত প্রমাণ করেছে যে তারা কেবল অংশগ্রহণ করতেই আসেনি, নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিতেও প্রস্তুত ছিল।

শেষ বাঁশি বাজার পর স্কোরবোর্ডে লেখা ছিল ৭-১। কিন্তু কুরাসাওয়ের গল্প আটকে থাকেনি সেই সংখ্যায়। পরাজয়ের মধ্যেও ছিল আত্মমর্যাদা, সংগ্রাম আর বড় স্বপ্ন দেখার সাহস। ফুটবলে সব বড় ব্যবধানের হার একই অর্থ বহন করে না। কখনো তা ধসের প্রতিচ্ছবি, আবার কখনো তা সীমাবদ্ধতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।

কুরাসাওয়ের এই ‘সেভেন আপ’ সেই দ্বিতীয় গল্পেরই নাম—যেখানে পরাজয়ের মধ্যেও হারিয়ে যায় না পরিচয়, মুছে যায় না স্বপ্ন।

#আরইউএস


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ