ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

তাড়াশে তীব্র গরমে তালের শাঁসের বাজারে ক্রেতার ভিড়



তাড়াশে তীব্র গরমে তালের শাঁসের বাজারে ক্রেতার ভিড়
ছবি : প্রতিনিধি

তীব্র গরম ও চলমান তাপপ্রবাহের কারণে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ব্যাপকভাবে বেড়েছে মৌসুমি ফল তালের শাঁসের চাহিদা। শরীর ঠাণ্ডা রাখা, পানিশূন্যতা দূর করা এবং তাৎক্ষণিক প্রশান্তি পেতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ এখন ঝুঁকছেন এই প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবারের দিকে। ফলে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও সড়কের পাশে জমে উঠেছে তালের শাঁসের বেচাকেনা।

শনিবার (৬ জুন) সরেজমিনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের মহিষলুটি বাজার, খালকুলা বাজার, মান্নাননগর বাজার, তাড়াশ পৌর শহর, নওগাঁ বাজার ও রানীরহাট এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার পাশে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে বিক্রি হচ্ছে তালের শাঁস। পাইকারি ও খুচরা উভয় ধরনের ক্রেতার ভিড়ও চোখে পড়ে। অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী এখান থেকে তালের শাঁস কিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে বিক্রি করছেন।

তালের শাঁস বিক্রেতা জাহিদ জানান, গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে কচি তাল সংগ্রহ করে তিনি বিক্রি করেন। তালের আকার ও সংখ্যার ওপর নির্ভর করে একটি গাছের ফল ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকায় কেনা হয়। তিনি বলেন, “প্রতি পিস তালের শাঁস পাইকারিতে ৪ থেকে ১০ টাকা এবং খুচরায় ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি করি। প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার শাঁস বিক্রি হয়।”

আরেক বিক্রেতা সালাম সরদার বলেন, “গরম যত বাড়ছে, বিক্রিও তত বাড়ছে। এই মৌসুমে প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক তালের শাঁস বিক্রির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অনেক ক্রেতা নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের জন্যও কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।”

ক্রেতা মহাসিন রেজা কান্তা বলেন, “তালের শাঁস মৌসুমি ও সুস্বাদু একটি ফল। গরমে এটি খেলে শরীর ঠাণ্ডা লাগে। তাই প্রতি বছর এই সময় শাঁস খাওয়ার চেষ্টা করি। আজ মেয়ের জন্য কিনতে এসেছি।”

স্থানীয়দের মতে, তালের শাঁসে প্রচুর পানি ও বিভিন্ন পুষ্টিগুণ রয়েছে। তাই গ্রীষ্মের দাবদাহে এটি শুধু স্বস্তিই দেয় না, শরীরের পানির ঘাটতি পূরণেও সহায়তা করে। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও মাঠপর্যায়ের কর্মজীবী মানুষের কাছে এর কদর বেশি।

সিরাজগঞ্জ শহর থেকে আসা ব্যবসায়ী কোরবান আলী জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে তাড়াশ থেকে তালের শাঁস কিনে শহরে বিক্রি করছেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তিনি গাছ ধরে তাল কিনে থাকেন। গাছের আকার ও ফলনের ওপর নির্ভর করে প্রতিটি গাছ ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকায় কেনা হয়।

স্থানীয়রা জানান, তাড়াশ-নিমগাছী আঞ্চলিক সড়কটি স্থানীয়ভাবে ‘তাল সড়ক’ নামে পরিচিত। সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধ তালগাছের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। জানা যায়, তৎকালীন মাধাইনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান এই সড়কের পাশে বিপুলসংখ্যক তালগাছ রোপণ করেছিলেন।

স্থানীয়দের অভিমত, প্রাকৃতিকভাবে শীতল, সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হওয়ায় গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে তালের শাঁস মানুষের কাছে এক অনন্য প্রশান্তির উৎস হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি মৌসুমি এই ফল বিক্রি করে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বাড়তি আয় করছেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে তাড়াশের বিভিন্ন বাজারে আকারভেদে প্রতি পিস তালের শাঁস ১০ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরম অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে এর চাহিদা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিক্রেতারা।



এস.আর 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


তাড়াশে তীব্র গরমে তালের শাঁসের বাজারে ক্রেতার ভিড়

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬

featured Image

তীব্র গরম ও চলমান তাপপ্রবাহের কারণে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ব্যাপকভাবে বেড়েছে মৌসুমি ফল তালের শাঁসের চাহিদা। শরীর ঠাণ্ডা রাখা, পানিশূন্যতা দূর করা এবং তাৎক্ষণিক প্রশান্তি পেতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ এখন ঝুঁকছেন এই প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবারের দিকে। ফলে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও সড়কের পাশে জমে উঠেছে তালের শাঁসের বেচাকেনা।

শনিবার (৬ জুন) সরেজমিনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের মহিষলুটি বাজার, খালকুলা বাজার, মান্নাননগর বাজার, তাড়াশ পৌর শহর, নওগাঁ বাজার ও রানীরহাট এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার পাশে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে বিক্রি হচ্ছে তালের শাঁস। পাইকারি ও খুচরা উভয় ধরনের ক্রেতার ভিড়ও চোখে পড়ে। অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী এখান থেকে তালের শাঁস কিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে বিক্রি করছেন।

তালের শাঁস বিক্রেতা জাহিদ জানান, গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে কচি তাল সংগ্রহ করে তিনি বিক্রি করেন। তালের আকার ও সংখ্যার ওপর নির্ভর করে একটি গাছের ফল ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকায় কেনা হয়। তিনি বলেন, “প্রতি পিস তালের শাঁস পাইকারিতে ৪ থেকে ১০ টাকা এবং খুচরায় ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি করি। প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার শাঁস বিক্রি হয়।”

আরেক বিক্রেতা সালাম সরদার বলেন, “গরম যত বাড়ছে, বিক্রিও তত বাড়ছে। এই মৌসুমে প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক তালের শাঁস বিক্রির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অনেক ক্রেতা নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের জন্যও কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।”

ক্রেতা মহাসিন রেজা কান্তা বলেন, “তালের শাঁস মৌসুমি ও সুস্বাদু একটি ফল। গরমে এটি খেলে শরীর ঠাণ্ডা লাগে। তাই প্রতি বছর এই সময় শাঁস খাওয়ার চেষ্টা করি। আজ মেয়ের জন্য কিনতে এসেছি।”

স্থানীয়দের মতে, তালের শাঁসে প্রচুর পানি ও বিভিন্ন পুষ্টিগুণ রয়েছে। তাই গ্রীষ্মের দাবদাহে এটি শুধু স্বস্তিই দেয় না, শরীরের পানির ঘাটতি পূরণেও সহায়তা করে। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও মাঠপর্যায়ের কর্মজীবী মানুষের কাছে এর কদর বেশি।

সিরাজগঞ্জ শহর থেকে আসা ব্যবসায়ী কোরবান আলী জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে তাড়াশ থেকে তালের শাঁস কিনে শহরে বিক্রি করছেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তিনি গাছ ধরে তাল কিনে থাকেন। গাছের আকার ও ফলনের ওপর নির্ভর করে প্রতিটি গাছ ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকায় কেনা হয়।

স্থানীয়রা জানান, তাড়াশ-নিমগাছী আঞ্চলিক সড়কটি স্থানীয়ভাবে ‘তাল সড়ক’ নামে পরিচিত। সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধ তালগাছের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। জানা যায়, তৎকালীন মাধাইনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান এই সড়কের পাশে বিপুলসংখ্যক তালগাছ রোপণ করেছিলেন।

স্থানীয়দের অভিমত, প্রাকৃতিকভাবে শীতল, সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হওয়ায় গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে তালের শাঁস মানুষের কাছে এক অনন্য প্রশান্তির উৎস হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি মৌসুমি এই ফল বিক্রি করে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বাড়তি আয় করছেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে তাড়াশের বিভিন্ন বাজারে আকারভেদে প্রতি পিস তালের শাঁস ১০ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরম অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে এর চাহিদা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিক্রেতারা।



এস.আর 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ