বাংলাদেশে আবারও ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ছে হাম রোগ। দেশের বিভিন্ন জেলায় দ্রুত বাড়ছে সংক্রমণ, বাড়ছে শিশু মৃত্যুর আশঙ্কাও। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের টিকাদান ঘাটতি, অপুষ্টি এবং স্বাস্থ্যসেবার দুর্বলতার কারণে পরিস্থিতি এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গবেষণা ও স্বাস্থ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের ৫৮টি জেলায় হাম সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রায় ২ কোটি শিশু বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
২০২৬ সালের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। এপ্রিল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহজনক আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১৯ হাজার ছাড়িয়েছে। নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়েছে কয়েক হাজার শিশু এবং মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বহু এলাকায়। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। একজন আক্রান্ত শিশু থেকে খুব সহজেই আরও অনেক শিশু সংক্রমিত হতে পারে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, বস্তি অঞ্চল এবং যেখানে টিকাদানের হার কম—সেসব এলাকাতেই সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় কারণ হলো টিকাদানের হার কমে যাওয়া। হাম প্রতিরোধে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হয়। কিন্তু বর্তমানে সেই হার অনেক নিচে নেমে গেছে।
অনেক শিশু নির্ধারিত সময়ে এমআর (Measles-Rubella) টিকা পায়নি। আবার অনেক পরিবার টিকার বিষয়ে সচেতন না হওয়ায় শিশুরা পুরোপুরি অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ কোনো টিকাই নেয়নি বলে তথ্য উঠে এসেছে।
অনেকে হামকে সাধারণ জ্বর বা ফুসকুড়ি ভেবে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, হাম প্রাণঘাতী জটিলতা তৈরি করতে পারে।
হামের সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—
তবে জটিল অবস্থায় এটি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, মস্তিষ্কে সংক্রমণ এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি।
দেশের শিশু হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ। অনেক জায়গায় আলাদা আইসোলেশন ব্যবস্থা না থাকায় সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকরা দ্রুত গণটিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনই জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। তারা বলছেন—
চিকিৎসকরা অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। শিশুর টিকা কার্ড যাচাই করা, নির্ধারিত সময়ে টিকা দেওয়া এবং জ্বর বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ একসময় হাম নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক এই প্রাদুর্ভাব নতুন করে বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
বাংলাদেশে আবারও ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ছে হাম রোগ। দেশের বিভিন্ন জেলায় দ্রুত বাড়ছে সংক্রমণ, বাড়ছে শিশু মৃত্যুর আশঙ্কাও। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের টিকাদান ঘাটতি, অপুষ্টি এবং স্বাস্থ্যসেবার দুর্বলতার কারণে পরিস্থিতি এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গবেষণা ও স্বাস্থ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের ৫৮টি জেলায় হাম সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রায় ২ কোটি শিশু বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
২০২৬ সালের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। এপ্রিল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহজনক আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১৯ হাজার ছাড়িয়েছে। নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়েছে কয়েক হাজার শিশু এবং মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বহু এলাকায়। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। একজন আক্রান্ত শিশু থেকে খুব সহজেই আরও অনেক শিশু সংক্রমিত হতে পারে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, বস্তি অঞ্চল এবং যেখানে টিকাদানের হার কম—সেসব এলাকাতেই সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় কারণ হলো টিকাদানের হার কমে যাওয়া। হাম প্রতিরোধে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হয়। কিন্তু বর্তমানে সেই হার অনেক নিচে নেমে গেছে।
অনেক শিশু নির্ধারিত সময়ে এমআর (Measles-Rubella) টিকা পায়নি। আবার অনেক পরিবার টিকার বিষয়ে সচেতন না হওয়ায় শিশুরা পুরোপুরি অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ কোনো টিকাই নেয়নি বলে তথ্য উঠে এসেছে।
অনেকে হামকে সাধারণ জ্বর বা ফুসকুড়ি ভেবে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, হাম প্রাণঘাতী জটিলতা তৈরি করতে পারে।
হামের সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—
তবে জটিল অবস্থায় এটি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, মস্তিষ্কে সংক্রমণ এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি।
দেশের শিশু হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ। অনেক জায়গায় আলাদা আইসোলেশন ব্যবস্থা না থাকায় সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকরা দ্রুত গণটিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনই জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। তারা বলছেন—
চিকিৎসকরা অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। শিশুর টিকা কার্ড যাচাই করা, নির্ধারিত সময়ে টিকা দেওয়া এবং জ্বর বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ একসময় হাম নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক এই প্রাদুর্ভাব নতুন করে বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত লিখুন