ঢাকা    শনিবার, ০২ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে বিস্ফোরণ, আইআরজিসির ১৪ সদস্য নিহত


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৬

অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে বিস্ফোরণ, আইআরজিসির ১৪ সদস্য নিহত

উত্তরপশ্চিম ইরানের জানজান প্রদেশে অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ নিষ্ক্রিয় করার সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ১৪ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।

শুক্রবার (১ মে) এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে জানজানের আনসার আল-মাহদি কর্পস। স্থানীয় প্রশাসন ও সামরিক সূত্রের বরাতে জানানো হয়, উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়করণ অভিযানের সময় একটি অজ্ঞাত ধরনের অবিস্ফোরিত গোলাবারুদের বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে বিস্ফোরণটি ভয়াবহ রূপ নেয় এবং ঘটনাস্থলেই বহু সদস্য হতাহত হন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতদের সবাই আইআরজিসির অভিজ্ঞ ও বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য ছিলেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। আহতদের দ্রুত স্থানীয় সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

আনসার আল-মাহদি কর্পসের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তারা দেশজুড়ে অন্তত ১৫ হাজারের বেশি অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করেছে। এই ধরনের অভিযানে উচ্চঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও নিয়মিতভাবে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে বলা হচ্ছে, বিস্ফোরণটি এমন এক ধরনের গোলাবারুদের কারণে ঘটেছে, যার প্রকৃতি এখনো পুরোপুরি শনাক্ত করা যায়নি। ফলে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে প্রযুক্তিগত ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহত সদস্যরা সামরিকভাবে অত্যন্ত দক্ষ এবং অভিজ্ঞ ছিলেন। তাদের মৃত্যুতে বাহিনীর অভ্যন্তরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে এই দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ নিষ্ক্রিয়করণ কার্যক্রমে নিরাপত্তা প্রোটোকল আরও কঠোর করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিস্ফোরণস্থলটি বর্তমানে নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা হয়েছে এবং নতুন করে কোনো ঝুঁকি আছে কি না তা যাচাই করা হচ্ছে। সাধারণ নাগরিকদের ওই এলাকা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ ও যুদ্ধকালীন বিস্ফোরকের উপস্থিতি একটি বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সামরিক সংঘাতপূর্ণ বা হামলার শিকার এলাকাগুলোতে এসব বিপজ্জনক অবশিষ্টাংশ নিয়মিতভাবে উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করতে হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশেষ ইউনিট থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের অভিযানে ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি থাকে। সামান্য ত্রুটিও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। জানজানের এই ঘটনাটি সেই ঝুঁকিরই একটি ভয়াবহ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে ঘটনাটি ঘিরে দেশটির নিরাপত্তা মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত সুরক্ষা সরঞ্জামের মাধ্যমে পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

বিষয় : আইআরজিসি

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে বিস্ফোরণ, আইআরজিসির ১৪ সদস্য নিহত

প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬

featured Image

উত্তরপশ্চিম ইরানের জানজান প্রদেশে অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ নিষ্ক্রিয় করার সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ১৪ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।

শুক্রবার (১ মে) এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে জানজানের আনসার আল-মাহদি কর্পস। স্থানীয় প্রশাসন ও সামরিক সূত্রের বরাতে জানানো হয়, উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়করণ অভিযানের সময় একটি অজ্ঞাত ধরনের অবিস্ফোরিত গোলাবারুদের বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে বিস্ফোরণটি ভয়াবহ রূপ নেয় এবং ঘটনাস্থলেই বহু সদস্য হতাহত হন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতদের সবাই আইআরজিসির অভিজ্ঞ ও বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য ছিলেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। আহতদের দ্রুত স্থানীয় সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

আনসার আল-মাহদি কর্পসের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তারা দেশজুড়ে অন্তত ১৫ হাজারের বেশি অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করেছে। এই ধরনের অভিযানে উচ্চঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও নিয়মিতভাবে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে বলা হচ্ছে, বিস্ফোরণটি এমন এক ধরনের গোলাবারুদের কারণে ঘটেছে, যার প্রকৃতি এখনো পুরোপুরি শনাক্ত করা যায়নি। ফলে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে প্রযুক্তিগত ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহত সদস্যরা সামরিকভাবে অত্যন্ত দক্ষ এবং অভিজ্ঞ ছিলেন। তাদের মৃত্যুতে বাহিনীর অভ্যন্তরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে এই দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ নিষ্ক্রিয়করণ কার্যক্রমে নিরাপত্তা প্রোটোকল আরও কঠোর করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিস্ফোরণস্থলটি বর্তমানে নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা হয়েছে এবং নতুন করে কোনো ঝুঁকি আছে কি না তা যাচাই করা হচ্ছে। সাধারণ নাগরিকদের ওই এলাকা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ ও যুদ্ধকালীন বিস্ফোরকের উপস্থিতি একটি বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সামরিক সংঘাতপূর্ণ বা হামলার শিকার এলাকাগুলোতে এসব বিপজ্জনক অবশিষ্টাংশ নিয়মিতভাবে উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করতে হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশেষ ইউনিট থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের অভিযানে ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি থাকে। সামান্য ত্রুটিও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। জানজানের এই ঘটনাটি সেই ঝুঁকিরই একটি ভয়াবহ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে ঘটনাটি ঘিরে দেশটির নিরাপত্তা মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত সুরক্ষা সরঞ্জামের মাধ্যমে পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ