ঢাকা    শনিবার, ০২ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শেষ মুহূর্তেও ৪ বছরের সন্তানকে বুকে জড়িয়ে রেখেছিলেন মা


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৬

শেষ মুহূর্তেও ৪ বছরের সন্তানকে বুকে জড়িয়ে রেখেছিলেন মা

ভারতের মধ্যপ্রদেশে নর্মদা নদীতে ক্রুজ বোট উল্টে এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক মা ও তার চার বছরের শিশু সন্তান। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাজ্যের বার্গি বাঁধের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধার অভিযান শেষে শুক্রবার (১ মে) সকালে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যেখানে দেখা যায়—শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সন্তানকে রক্ষা করার চেষ্টা করে মা তাকে বুকে আগলে রেখেছিলেন।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দিল্লি থেকে আসা একটি পর্যটক পরিবারের চার সদস্য ওই ক্রুজে ছিলেন। হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে প্রবল ঝড় শুরু হলে নৌযানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই পানিতে তলিয়ে যান কয়েকজন যাত্রী। এর মধ্যে বাবা ও এক মেয়ে কোনোভাবে প্রাণে বেঁচে গেলেও নিখোঁজ ছিলেন মা ও তার চার বছরের ছেলে।

পরবর্তীতে উদ্ধারকারী দল ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালায়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর নদী থেকে মা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে মা তাকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। পানির স্রোতে দুজনই একসঙ্গে ডুবে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা সৈয়দ রিয়াজ হুসেন জানান, মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, হঠাৎ ঝড় শুরু হলে নৌকার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি উল্টে যায়। তিনি আরও জানান, চারপাশে চিৎকার ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং সবাই প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করছিল।

রিয়াজ হুসেনের ভাষ্যমতে, তিনি নিজেও পানিতে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিলেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পানির নিচে আটকে থাকার পর তিনি একটি জায়গায় শ্বাস নেওয়ার সুযোগ পান, যেখানে তার মাথা পানির ওপরে ছিল। তিনি জানান, চারপাশে ভেসে থাকা মরদেহ দেখে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে উদ্ধারকারী দল তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা আইএএনএস জানায়, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অন্তত ২৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এখনো পাঁচ শিশুসহ আরও নয়জন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে দুর্ঘটনায় নিহত হওয়া পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নৌকাটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস উপেক্ষা করেই সেটি চলাচল করছিল। এছাড়া লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারের পর্যাপ্ত প্রস্তুতিও ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও ক্রুজের ক্যাপ্টেন মহেশ প্যাটেল লাইফ জ্যাকেট পরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটন নৌযানগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত মা ও শিশুর এমন করুণ মৃত্যু স্থানীয়দের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে আসা শেষ মুহূর্তের মাতৃস্নেহের দৃশ্য মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

এই দুর্ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে নৌপর্যটনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর, যেখানে সামান্য অবহেলাই প্রাণঘাতী বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।

বিষয় : ভারত

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


শেষ মুহূর্তেও ৪ বছরের সন্তানকে বুকে জড়িয়ে রেখেছিলেন মা

প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬

featured Image

ভারতের মধ্যপ্রদেশে নর্মদা নদীতে ক্রুজ বোট উল্টে এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক মা ও তার চার বছরের শিশু সন্তান। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাজ্যের বার্গি বাঁধের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধার অভিযান শেষে শুক্রবার (১ মে) সকালে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যেখানে দেখা যায়—শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সন্তানকে রক্ষা করার চেষ্টা করে মা তাকে বুকে আগলে রেখেছিলেন।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দিল্লি থেকে আসা একটি পর্যটক পরিবারের চার সদস্য ওই ক্রুজে ছিলেন। হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে প্রবল ঝড় শুরু হলে নৌযানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই পানিতে তলিয়ে যান কয়েকজন যাত্রী। এর মধ্যে বাবা ও এক মেয়ে কোনোভাবে প্রাণে বেঁচে গেলেও নিখোঁজ ছিলেন মা ও তার চার বছরের ছেলে।

পরবর্তীতে উদ্ধারকারী দল ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালায়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর নদী থেকে মা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে মা তাকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। পানির স্রোতে দুজনই একসঙ্গে ডুবে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা সৈয়দ রিয়াজ হুসেন জানান, মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, হঠাৎ ঝড় শুরু হলে নৌকার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি উল্টে যায়। তিনি আরও জানান, চারপাশে চিৎকার ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং সবাই প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করছিল।

রিয়াজ হুসেনের ভাষ্যমতে, তিনি নিজেও পানিতে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিলেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পানির নিচে আটকে থাকার পর তিনি একটি জায়গায় শ্বাস নেওয়ার সুযোগ পান, যেখানে তার মাথা পানির ওপরে ছিল। তিনি জানান, চারপাশে ভেসে থাকা মরদেহ দেখে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে উদ্ধারকারী দল তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা আইএএনএস জানায়, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অন্তত ২৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এখনো পাঁচ শিশুসহ আরও নয়জন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে দুর্ঘটনায় নিহত হওয়া পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নৌকাটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস উপেক্ষা করেই সেটি চলাচল করছিল। এছাড়া লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারের পর্যাপ্ত প্রস্তুতিও ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও ক্রুজের ক্যাপ্টেন মহেশ প্যাটেল লাইফ জ্যাকেট পরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটন নৌযানগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত মা ও শিশুর এমন করুণ মৃত্যু স্থানীয়দের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে আসা শেষ মুহূর্তের মাতৃস্নেহের দৃশ্য মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

এই দুর্ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে নৌপর্যটনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর, যেখানে সামান্য অবহেলাই প্রাণঘাতী বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ