ঢাকা    শনিবার, ০২ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ইরানের প্রস্তাবে হোয়াইট হাউস নীরব, পারমাণবিক অবস্থানে অনড় যুক্তরাষ্ট্র


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৬

ইরানের প্রস্তাবে হোয়াইট হাউস নীরব, পারমাণবিক অবস্থানে অনড় যুক্তরাষ্ট্র

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পাঠানো ইরানের নতুন প্রস্তাব নিয়ে হোয়াইট হাউস এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র আবারও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

শুক্রবার (১ মে) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত ব্যক্তিগত কূটনৈতিক আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করে না। ফলে পাকিস্তানের মাধ্যমে আসা ইরানের প্রস্তাব নিয়েও কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

তবে আনা কেলি জোর দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান স্পষ্ট—ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, যা স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ।

এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠায় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানায়। যদিও ওই প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে কূটনৈতিক মহলে এটি সম্ভাব্য আলোচনার নতুন দ্বার খুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তার পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে বড় ধরনের সরে আসেনি। বরং দেশটি যুদ্ধ পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনার ওপর জোর দিচ্ছে।

কাতারের হামাদ বিন খালিফা ইউনিভার্সিটির পাবলিক পলিসির অধ্যাপক সুলতান বারাকাত আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান থেকে তাৎক্ষণিক কোনো পারমাণবিক হুমকি নেই—এটি আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা, বিশেষ করে লেবানন ও ইসরায়েলের পরিস্থিতি, কূটনৈতিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করছে। তার মতে, ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা চললেও ইরান এখনো বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া থেকে বিরত রয়েছে, যা একটি কৌশলগত অবস্থান নির্দেশ করে।

বারাকাতের বিশ্লেষণে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে নৌ অবরোধসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে ইরান এখনো সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ায়নি এবং বিকল্প রুট হিসেবে পাকিস্তানসহ অন্যান্য চ্যানেল ব্যবহার করছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। তিনি সম্প্রতি তুরস্ক, ইরাক, আজারবাইজান ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং এসব বার্তা পাকিস্তানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে পৌঁছে দেন।

বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষই এখন এমন একটি সমাধান খুঁজছে যা রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং কৌশলগতভাবে ভারসাম্যপূর্ণ। তবে বাস্তবে আলোচনার অগ্রগতি হবে কিনা, তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী অবস্থান ও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার ওপর।

বিষয় : ইরান যুক্তরাষ্ট্র

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


ইরানের প্রস্তাবে হোয়াইট হাউস নীরব, পারমাণবিক অবস্থানে অনড় যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬

featured Image

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পাঠানো ইরানের নতুন প্রস্তাব নিয়ে হোয়াইট হাউস এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র আবারও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

শুক্রবার (১ মে) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত ব্যক্তিগত কূটনৈতিক আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করে না। ফলে পাকিস্তানের মাধ্যমে আসা ইরানের প্রস্তাব নিয়েও কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

তবে আনা কেলি জোর দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান স্পষ্ট—ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, যা স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ।

এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠায় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানায়। যদিও ওই প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে কূটনৈতিক মহলে এটি সম্ভাব্য আলোচনার নতুন দ্বার খুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তার পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে বড় ধরনের সরে আসেনি। বরং দেশটি যুদ্ধ পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনার ওপর জোর দিচ্ছে।

কাতারের হামাদ বিন খালিফা ইউনিভার্সিটির পাবলিক পলিসির অধ্যাপক সুলতান বারাকাত আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান থেকে তাৎক্ষণিক কোনো পারমাণবিক হুমকি নেই—এটি আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা, বিশেষ করে লেবানন ও ইসরায়েলের পরিস্থিতি, কূটনৈতিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করছে। তার মতে, ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা চললেও ইরান এখনো বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া থেকে বিরত রয়েছে, যা একটি কৌশলগত অবস্থান নির্দেশ করে।

বারাকাতের বিশ্লেষণে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে নৌ অবরোধসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে ইরান এখনো সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ায়নি এবং বিকল্প রুট হিসেবে পাকিস্তানসহ অন্যান্য চ্যানেল ব্যবহার করছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। তিনি সম্প্রতি তুরস্ক, ইরাক, আজারবাইজান ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং এসব বার্তা পাকিস্তানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে পৌঁছে দেন।

বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষই এখন এমন একটি সমাধান খুঁজছে যা রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং কৌশলগতভাবে ভারসাম্যপূর্ণ। তবে বাস্তবে আলোচনার অগ্রগতি হবে কিনা, তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী অবস্থান ও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার ওপর।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ