লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ড্রোন হামলায় এক ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একই সময়ে ইসরায়েলি পাল্টা হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও সামনে এসেছে, যা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে অভিযানের সময় গোলানি ব্রিগেডের এক সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহত সেনার নাম লিয়েম বেন হামো। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, লেবাননের কানতারা গ্রামে ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলা চালানো হয়।
ইসরায়েলের দাবি, ওই হামলায় হিজবুল্লাহ জড়িত। হামলার সময় দুটি ড্রোন ব্যবহার করা হয় বলে জানিয়েছে তারা। এর মধ্যে একটি ড্রোন প্রতিহত করা সম্ভব হলেও অন্যটি সেনাদের অবস্থানের কাছাকাছি বিস্ফোরিত হয়। এতে ১৯ বছর বয়সী ওই সেনা নিহত হন এবং আরেকজন মাঝারি মাত্রায় আহত হন।
ঘটনার পরপরই ইসরায়েলি বাহিনী আহতদের সরিয়ে নেওয়ার সময় আশপাশের এলাকায় পাল্টা হামলা চালায়। তারা হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, তারা ড্রোনের মাধ্যমে ইসরায়েলি ট্যাংক লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়েছে।
একই সময়ে লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। দেশটির ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, জেবচিট শহরের একটি বাড়িতে হামলায় একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। এছাড়া তৌল শহরের আরেকটি বাড়িতে পৃথক হামলায় একজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের এই ধারাবাহিকতায় একই দিনে দক্ষিণ লেবাননে আরও অন্তত নয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা বলা হচ্ছে। ফলে বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে আন্তর্জাতিক মহলে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর দেশজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২ হাজার ৫৮৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৮ হাজারের বেশি মানুষ। ক্রমবর্ধমান এই হতাহতের সংখ্যা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ এবং ড্রোন হামলার ঘটনা যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি করেছে। বিশেষ করে অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে সহিংসতা থামছে না। পাল্টাপাল্টি হামলা ও হতাহতের এই ধারাবাহিকতা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
বিষয় : লেবানন

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ড্রোন হামলায় এক ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একই সময়ে ইসরায়েলি পাল্টা হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও সামনে এসেছে, যা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে অভিযানের সময় গোলানি ব্রিগেডের এক সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহত সেনার নাম লিয়েম বেন হামো। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, লেবাননের কানতারা গ্রামে ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলা চালানো হয়।
ইসরায়েলের দাবি, ওই হামলায় হিজবুল্লাহ জড়িত। হামলার সময় দুটি ড্রোন ব্যবহার করা হয় বলে জানিয়েছে তারা। এর মধ্যে একটি ড্রোন প্রতিহত করা সম্ভব হলেও অন্যটি সেনাদের অবস্থানের কাছাকাছি বিস্ফোরিত হয়। এতে ১৯ বছর বয়সী ওই সেনা নিহত হন এবং আরেকজন মাঝারি মাত্রায় আহত হন।
ঘটনার পরপরই ইসরায়েলি বাহিনী আহতদের সরিয়ে নেওয়ার সময় আশপাশের এলাকায় পাল্টা হামলা চালায়। তারা হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, তারা ড্রোনের মাধ্যমে ইসরায়েলি ট্যাংক লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়েছে।
একই সময়ে লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। দেশটির ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, জেবচিট শহরের একটি বাড়িতে হামলায় একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। এছাড়া তৌল শহরের আরেকটি বাড়িতে পৃথক হামলায় একজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের এই ধারাবাহিকতায় একই দিনে দক্ষিণ লেবাননে আরও অন্তত নয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা বলা হচ্ছে। ফলে বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে আন্তর্জাতিক মহলে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর দেশজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২ হাজার ৫৮৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৮ হাজারের বেশি মানুষ। ক্রমবর্ধমান এই হতাহতের সংখ্যা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ এবং ড্রোন হামলার ঘটনা যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি করেছে। বিশেষ করে অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে সহিংসতা থামছে না। পাল্টাপাল্টি হামলা ও হতাহতের এই ধারাবাহিকতা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

আপনার মতামত লিখুন