ঢাকা    শনিবার, ০২ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

অ্যাকাউন্টধারীকে আনতে বলায় বোনের কঙ্কাল নিয়ে ব্যাংকে হাজির ভাই


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

অ্যাকাউন্টধারীকে আনতে বলায় বোনের কঙ্কাল নিয়ে ব্যাংকে হাজির ভাই

ভারতের ওড়িশা রাজ্যের কেওনঝর জেলায় একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে অস্বাভাবিক ও চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের বারবার মূল অ্যাকাউন্টধারীকে উপস্থিত করার অনুরোধের পর এক ব্যক্তি তার মৃত বোনের কঙ্কাল কবর থেকে তুলে ব্যাংকে নিয়ে আসেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে কেওনঝর জেলার পাতনা ব্লকের মালিপোসি এলাকায় অবস্থিত ওড়িশা গ্রামীণ ব্যাংকের একটি শাখায়। জিতু মুন্ডা নামে এক ব্যক্তি তার প্রয়াত বড় বোন কালরা মুন্ডার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ২০ হাজার রুপি উত্তোলনের চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী বারবার তাকে জানায় যে, অর্থ উত্তোলনের জন্য মূল অ্যাকাউন্টধারীকে উপস্থিত থাকতে হবে।

জিতু মুন্ডার দাবি অনুযায়ী, তিনি একাধিকবার ব্যাংকে গিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন যে তার বোন ইতোমধ্যে মারা গেছেন। তবে তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংক কর্মকর্তারা বিষয়টি গ্রহণ করেননি এবং যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার নির্দেশনা দেননি। এই পরিস্থিতিতেই তিনি চরম পদক্ষেপ নেন বলে জানান।

জিতু মুন্ডা স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি শেষ পর্যন্ত প্রমাণ দেখানোর উদ্দেশ্যে কবর থেকে তার বোনের কঙ্কাল তুলে ব্যাংকে নিয়ে যান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যাংকের নিয়ম মেনে টাকা তুলতে না পারার হতাশা থেকেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় চরম চাঞ্চল্য তৈরি হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ দ্রুত বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। পাতনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কিরণ প্রসাদ সাহু জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও গ্রাহকের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি এবং নিয়ম সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জিতু মুন্ডা একজন স্বল্পশিক্ষিত আদিবাসী ব্যক্তি, যিনি উত্তরাধিকার আইন বা ব্যাংকিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখতেন না। একই সঙ্গে ব্যাংক কর্তৃপক্ষও তাকে যথাযথভাবে প্রক্রিয়াটি বুঝিয়ে বলতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, পরে জিতু মুন্ডাকে আশ্বাস দেওয়া হয় যে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার প্রয়াত বোনের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি সমাধান করা হবে। পাশাপাশি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এমন ভুল বোঝাবুঝি না ঘটে।

এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে ব্যাংকিং ব্যবস্থার জটিলতা ও সাধারণ মানুষের জন্য তথ্যের অভাবকে দায়ী করছেন। আবার অনেকে ঘটনাটিকে মানবিক সংকট ও প্রশাসনিক অদক্ষতার ফল হিসেবে দেখছেন।

ঘটনাটি এখন কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে নয়, বরং গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ব্যাংকিং সেবায় সচেতনতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার একটি প্রতিফলন হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

বিষয় : ভারত

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


অ্যাকাউন্টধারীকে আনতে বলায় বোনের কঙ্কাল নিয়ে ব্যাংকে হাজির ভাই

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ভারতের ওড়িশা রাজ্যের কেওনঝর জেলায় একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে অস্বাভাবিক ও চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের বারবার মূল অ্যাকাউন্টধারীকে উপস্থিত করার অনুরোধের পর এক ব্যক্তি তার মৃত বোনের কঙ্কাল কবর থেকে তুলে ব্যাংকে নিয়ে আসেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে কেওনঝর জেলার পাতনা ব্লকের মালিপোসি এলাকায় অবস্থিত ওড়িশা গ্রামীণ ব্যাংকের একটি শাখায়। জিতু মুন্ডা নামে এক ব্যক্তি তার প্রয়াত বড় বোন কালরা মুন্ডার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ২০ হাজার রুপি উত্তোলনের চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী বারবার তাকে জানায় যে, অর্থ উত্তোলনের জন্য মূল অ্যাকাউন্টধারীকে উপস্থিত থাকতে হবে।

জিতু মুন্ডার দাবি অনুযায়ী, তিনি একাধিকবার ব্যাংকে গিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন যে তার বোন ইতোমধ্যে মারা গেছেন। তবে তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংক কর্মকর্তারা বিষয়টি গ্রহণ করেননি এবং যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার নির্দেশনা দেননি। এই পরিস্থিতিতেই তিনি চরম পদক্ষেপ নেন বলে জানান।

জিতু মুন্ডা স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি শেষ পর্যন্ত প্রমাণ দেখানোর উদ্দেশ্যে কবর থেকে তার বোনের কঙ্কাল তুলে ব্যাংকে নিয়ে যান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যাংকের নিয়ম মেনে টাকা তুলতে না পারার হতাশা থেকেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় চরম চাঞ্চল্য তৈরি হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ দ্রুত বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। পাতনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কিরণ প্রসাদ সাহু জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও গ্রাহকের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি এবং নিয়ম সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জিতু মুন্ডা একজন স্বল্পশিক্ষিত আদিবাসী ব্যক্তি, যিনি উত্তরাধিকার আইন বা ব্যাংকিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখতেন না। একই সঙ্গে ব্যাংক কর্তৃপক্ষও তাকে যথাযথভাবে প্রক্রিয়াটি বুঝিয়ে বলতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, পরে জিতু মুন্ডাকে আশ্বাস দেওয়া হয় যে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার প্রয়াত বোনের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি সমাধান করা হবে। পাশাপাশি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এমন ভুল বোঝাবুঝি না ঘটে।

এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে ব্যাংকিং ব্যবস্থার জটিলতা ও সাধারণ মানুষের জন্য তথ্যের অভাবকে দায়ী করছেন। আবার অনেকে ঘটনাটিকে মানবিক সংকট ও প্রশাসনিক অদক্ষতার ফল হিসেবে দেখছেন।

ঘটনাটি এখন কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে নয়, বরং গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ব্যাংকিং সেবায় সচেতনতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার একটি প্রতিফলন হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ