ঢাকা    শনিবার, ০২ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় উত্থান


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় উত্থান

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার প্রভাবে বিশ্ববাজারে আবারও তেলের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অর্থবাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যা ওয়াল স্ট্রিটের ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতিকে সাময়িকভাবে থামিয়ে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা যায়, জুন মাসে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ২.৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১১.১৮ ডলারে পৌঁছেছে। একইভাবে জুলাই মাসের চুক্তির ক্ষেত্রে ব্রেন্টের দাম ২.৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪.৩৩ ডলারে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বিশ্ব তেল সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। এর প্রভাব সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে পড়ছে, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম যেখানে প্রায় ৭০ ডলারের কাছাকাছি ছিল, সেখান থেকে ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় এটি আবার ১১৯ ডলারের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে বাজার বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ। যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সময় সাধারণত এ ধরনের তীব্র মূল্যবৃদ্ধি দেখা যায় বলে তারা উল্লেখ করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে সাময়িকভাবে প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনাও স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে তেহরান।

তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, মার্কিন প্রশাসন এই প্রস্তাব গ্রহণ করবে না, যার ফলে উত্তেজনা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং বাজারে অনিশ্চয়তা বজায় থাকবে।

তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাব শুধু আন্তর্জাতিক বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে জ্বালানি খরচও বেড়েছে। অটো ক্লাব এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে গড় গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালন ৪.১৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে বাড়তে থাকলে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি আরও তীব্র হতে পারে। জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির কারণে পরিবহন, উৎপাদন ও ভোগ্যপণ্যের দামেও চাপ তৈরি হবে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অনিশ্চিত থাকায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে আগামী সপ্তাহগুলোতে তেলের দামে আরও ওঠানামা দেখা যেতে পারে।

সব মিলিয়ে ইরান-সম্পর্কিত ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে, যার প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে পড়ছে।

বিষয় : তেলের_বাজার

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় উত্থান

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার প্রভাবে বিশ্ববাজারে আবারও তেলের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অর্থবাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যা ওয়াল স্ট্রিটের ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতিকে সাময়িকভাবে থামিয়ে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা যায়, জুন মাসে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ২.৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১১.১৮ ডলারে পৌঁছেছে। একইভাবে জুলাই মাসের চুক্তির ক্ষেত্রে ব্রেন্টের দাম ২.৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪.৩৩ ডলারে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বিশ্ব তেল সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। এর প্রভাব সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে পড়ছে, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম যেখানে প্রায় ৭০ ডলারের কাছাকাছি ছিল, সেখান থেকে ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় এটি আবার ১১৯ ডলারের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে বাজার বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ। যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সময় সাধারণত এ ধরনের তীব্র মূল্যবৃদ্ধি দেখা যায় বলে তারা উল্লেখ করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে সাময়িকভাবে প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনাও স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে তেহরান।

তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, মার্কিন প্রশাসন এই প্রস্তাব গ্রহণ করবে না, যার ফলে উত্তেজনা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং বাজারে অনিশ্চয়তা বজায় থাকবে।

তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাব শুধু আন্তর্জাতিক বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে জ্বালানি খরচও বেড়েছে। অটো ক্লাব এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে গড় গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালন ৪.১৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে বাড়তে থাকলে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি আরও তীব্র হতে পারে। জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির কারণে পরিবহন, উৎপাদন ও ভোগ্যপণ্যের দামেও চাপ তৈরি হবে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অনিশ্চিত থাকায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে আগামী সপ্তাহগুলোতে তেলের দামে আরও ওঠানামা দেখা যেতে পারে।

সব মিলিয়ে ইরান-সম্পর্কিত ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে, যার প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে পড়ছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ