ঢাকা    শনিবার, ০২ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

‘শ্যাডো ব্যাংকিং’ নেটওয়ার্কে ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

‘শ্যাডো ব্যাংকিং’ নেটওয়ার্কে ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ইরানের অর্থনৈতিক ও সামরিক নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের ‘শ্যাডো ব্যাংকিং’ খাতে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। একই সঙ্গে চীনের কিছু স্বাধীন তেল শোধনাগার (টিপট রিফাইনারি) ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকেও সতর্ক করা হয়েছে।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অধীনস্থ অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানের জন্য বিলিয়ন ডলারের আর্থিক লেনদেন পরিচালনায় সহায়তা করেছে। এসব অর্থ ইরানের সশস্ত্র বাহিনী, বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।

ওএফএসি আরও জানায়, এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অবৈধ তেল বিক্রির অর্থ স্থানান্তর, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় এবং আঞ্চলিক সহযোগী গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, এসব কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে।

বিশেষভাবে চীনের শানডং প্রদেশভিত্তিক স্বাধীন ‘টিপট’ রিফাইনারিগুলোর দিকে নজর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠান ইরানি তেল আমদানি ও পরিশোধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ডলার লেনদেনও করেছে। তবে চীন এসব একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আসছে।

একই সঙ্গে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি ইরান সরকারের সঙ্গে বা আইআরজিসির সঙ্গে জড়িত কোনো লেনদেনে যুক্ত থাকে, তবে তাদেরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত ফি বা লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের শ্যাডো ব্যাংকিং ব্যবস্থা দেশটির সামরিক ও আঞ্চলিক কার্যক্রমের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক উৎস হিসেবে কাজ করছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের এই আর্থিক নেটওয়ার্ক শুধু অবৈধ লেনদেনই নয়, বরং আঞ্চলিক সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা বাড়াতে সহায়তা করছে। এটি মার্কিন নাগরিক, আঞ্চলিক মিত্র এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য সরাসরি হুমকি।

এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ইতোমধ্যে উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। পারমাণবিক ইস্যু ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও ঘনীভূত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন নিষেধাজ্ঞাকে বিশ্লেষকরা তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা ইরানের বৈদেশিক বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনকে আরও সীমিত করবে, তবে একই সঙ্গে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সম্পর্কেও নতুন টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে।

বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


‘শ্যাডো ব্যাংকিং’ নেটওয়ার্কে ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ইরানের অর্থনৈতিক ও সামরিক নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের ‘শ্যাডো ব্যাংকিং’ খাতে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। একই সঙ্গে চীনের কিছু স্বাধীন তেল শোধনাগার (টিপট রিফাইনারি) ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকেও সতর্ক করা হয়েছে।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অধীনস্থ অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানের জন্য বিলিয়ন ডলারের আর্থিক লেনদেন পরিচালনায় সহায়তা করেছে। এসব অর্থ ইরানের সশস্ত্র বাহিনী, বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।

ওএফএসি আরও জানায়, এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অবৈধ তেল বিক্রির অর্থ স্থানান্তর, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় এবং আঞ্চলিক সহযোগী গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, এসব কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে।

বিশেষভাবে চীনের শানডং প্রদেশভিত্তিক স্বাধীন ‘টিপট’ রিফাইনারিগুলোর দিকে নজর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠান ইরানি তেল আমদানি ও পরিশোধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ডলার লেনদেনও করেছে। তবে চীন এসব একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আসছে।

একই সঙ্গে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি ইরান সরকারের সঙ্গে বা আইআরজিসির সঙ্গে জড়িত কোনো লেনদেনে যুক্ত থাকে, তবে তাদেরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত ফি বা লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের শ্যাডো ব্যাংকিং ব্যবস্থা দেশটির সামরিক ও আঞ্চলিক কার্যক্রমের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক উৎস হিসেবে কাজ করছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের এই আর্থিক নেটওয়ার্ক শুধু অবৈধ লেনদেনই নয়, বরং আঞ্চলিক সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা বাড়াতে সহায়তা করছে। এটি মার্কিন নাগরিক, আঞ্চলিক মিত্র এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য সরাসরি হুমকি।

এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ইতোমধ্যে উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। পারমাণবিক ইস্যু ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও ঘনীভূত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন নিষেধাজ্ঞাকে বিশ্লেষকরা তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা ইরানের বৈদেশিক বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনকে আরও সীমিত করবে, তবে একই সঙ্গে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সম্পর্কেও নতুন টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ