ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে চলমান উত্তেজনা এবং সম্প্রসারিত যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েলকে কঠোর বার্তা দিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির মহাসচিব নাঈম কাসেম বলেছেন, কোনো চাপ, হুমকি বা সামরিক আগ্রাসনের মুখে তারা মাথা নত করবে না এবং অস্ত্র সমর্পণের প্রশ্নই ওঠে না। একই সঙ্গে তিনি লেবানন সরকারকে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ সংলাপে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে নাঈম কাসেম বলেন, হিজবুল্লাহর আত্মত্যাগ স্বাধীনতা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য। তিনি বলেন, জনগণের সামনে দুটি পথ রয়েছে—একটি স্বাধীনতা ও সম্মানের, অন্যটি দখলদারিত্ব ও অপমানের। লেবাননের জনগণ প্রতিরোধের পথই বেছে নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
কাসেম বলেন, লেবানন ও দেশটির জনগণের সুরক্ষায় প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে। মার্চের আগের অবস্থায় তারা ফিরবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে এবং যত হুমকিই আসুক, তারা পিছু হটবে না।
হিজবুল্লাহ প্রধান আরও দাবি করেন, সংগঠনটির শক্তি ‘অসীম’ এবং ইসরায়েল লেবাননে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারবে না। তিনি বলেন, দক্ষিণ সীমান্তের শেষ ইঞ্চি ভূমি পর্যন্ত জনগণ নিজেদের এলাকায় ফিরে যাবে।
নাঈম কাসেমের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে ইসরায়েল হিজবুল্লাহকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে লেবাননে শুরু হওয়া বিমান হামলার পরও তারা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার মতে, ইসরায়েল এখন এক ধরনের অচলাবস্থায় রয়েছে এবং প্রতিরোধ আন্দোলনকে পরাজিত করা সম্ভব নয়।
এ সময় লেবানন সরকারের ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গেও আপত্তি জানান কাসেম। তিনি বলেন, সরাসরি আলোচনায় যাওয়ার আগে কয়েকটি মৌলিক শর্ত পূরণ করতে হবে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে—স্থল, নৌ ও আকাশপথে সব ধরনের আগ্রাসন বন্ধ করা, দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার, বন্দিদের মুক্তি, বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিজ নিজ শহর ও গ্রামে ফেরার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করা।
তিনি আরও বলেন, লেবাননের কর্তৃপক্ষের উচিত সরাসরি আলোচনার পরিবর্তে পরোক্ষ আলোচনায় যাওয়া। পাশাপাশি মার্চ মাসে নেওয়া সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান, যেখানে প্রতিরোধ ও এর সমর্থকদের কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
কাসেমের ভাষায়, লেবাননের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিদেশি চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে অভ্যন্তরীণ সংলাপ চালানো উচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সীমান্তে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। একদিকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার অভিযোগ, অন্যদিকে হিজবুল্লাহর পাল্টা হুমকি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। সম্প্রতি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হলেও দুই পক্ষের বক্তব্যে সমঝোতার কোনো ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না।
মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। গাজা যুদ্ধ, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা এবং লেবানন সীমান্ত সংকট মিলিয়ে অঞ্চলটি এখনো বড় ধরনের অস্থিরতার মধ্যেই রয়েছে।
বিষয় : ইসরায়েল হিজবুল্লাহ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে চলমান উত্তেজনা এবং সম্প্রসারিত যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েলকে কঠোর বার্তা দিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির মহাসচিব নাঈম কাসেম বলেছেন, কোনো চাপ, হুমকি বা সামরিক আগ্রাসনের মুখে তারা মাথা নত করবে না এবং অস্ত্র সমর্পণের প্রশ্নই ওঠে না। একই সঙ্গে তিনি লেবানন সরকারকে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ সংলাপে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে নাঈম কাসেম বলেন, হিজবুল্লাহর আত্মত্যাগ স্বাধীনতা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য। তিনি বলেন, জনগণের সামনে দুটি পথ রয়েছে—একটি স্বাধীনতা ও সম্মানের, অন্যটি দখলদারিত্ব ও অপমানের। লেবাননের জনগণ প্রতিরোধের পথই বেছে নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
কাসেম বলেন, লেবানন ও দেশটির জনগণের সুরক্ষায় প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে। মার্চের আগের অবস্থায় তারা ফিরবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে এবং যত হুমকিই আসুক, তারা পিছু হটবে না।
হিজবুল্লাহ প্রধান আরও দাবি করেন, সংগঠনটির শক্তি ‘অসীম’ এবং ইসরায়েল লেবাননে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারবে না। তিনি বলেন, দক্ষিণ সীমান্তের শেষ ইঞ্চি ভূমি পর্যন্ত জনগণ নিজেদের এলাকায় ফিরে যাবে।
নাঈম কাসেমের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে ইসরায়েল হিজবুল্লাহকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে লেবাননে শুরু হওয়া বিমান হামলার পরও তারা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার মতে, ইসরায়েল এখন এক ধরনের অচলাবস্থায় রয়েছে এবং প্রতিরোধ আন্দোলনকে পরাজিত করা সম্ভব নয়।
এ সময় লেবানন সরকারের ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গেও আপত্তি জানান কাসেম। তিনি বলেন, সরাসরি আলোচনায় যাওয়ার আগে কয়েকটি মৌলিক শর্ত পূরণ করতে হবে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে—স্থল, নৌ ও আকাশপথে সব ধরনের আগ্রাসন বন্ধ করা, দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার, বন্দিদের মুক্তি, বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিজ নিজ শহর ও গ্রামে ফেরার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করা।
তিনি আরও বলেন, লেবাননের কর্তৃপক্ষের উচিত সরাসরি আলোচনার পরিবর্তে পরোক্ষ আলোচনায় যাওয়া। পাশাপাশি মার্চ মাসে নেওয়া সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান, যেখানে প্রতিরোধ ও এর সমর্থকদের কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
কাসেমের ভাষায়, লেবাননের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিদেশি চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে অভ্যন্তরীণ সংলাপ চালানো উচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সীমান্তে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। একদিকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার অভিযোগ, অন্যদিকে হিজবুল্লাহর পাল্টা হুমকি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। সম্প্রতি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হলেও দুই পক্ষের বক্তব্যে সমঝোতার কোনো ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না।
মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। গাজা যুদ্ধ, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা এবং লেবানন সীমান্ত সংকট মিলিয়ে অঞ্চলটি এখনো বড় ধরনের অস্থিরতার মধ্যেই রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন