ঢাকা    শনিবার, ০২ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহকে নিয়ে ৭ ঘণ্টা থাকলেন স্বামী


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬

স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহকে নিয়ে ৭ ঘণ্টা থাকলেন স্বামী

ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের মুরাদাবাদ জেলায় জিমে যাওয়া নিয়ে দাম্পত্য বিরোধের জেরে এক নারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শোভিত গুপ্ত-কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। নিহত নারীর নাম পুনম গুপ্ত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোরাদাবাদের কাটঘর এলাকায় বসবাস করতেন দম্পতি। শোভিত গুপ্ত স্থানীয়ভাবে স্ক্র্যাপ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই পারিবারিক অশান্তি চলছিল। বিশেষ করে পুনমের নিয়মিত জিমে যাওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ বাড়ছিল।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার সকালে। পুলিশ জানিয়েছে, পুনম জিম থেকে বাড়ি ফেরার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তা উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় রূপ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্ষুব্ধ হয়ে শোভিত একটি লোহার শাটারের হাতল বা রড দিয়ে স্ত্রীর মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই পুনমের মৃত্যু হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হত্যার পর অভিযুক্ত প্রায় সাত ঘণ্টা বাড়ির ভেতরেই অবস্থান করেন। এ সময় তিনি মরদেহ বিছানায় রেখে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি পুলিশে ফোন করে দাবি করেন, তার স্ত্রী পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি দেখে সন্দেহ প্রকাশ করে। পুনমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন এবং ঘটনাস্থলের অবস্থা পুলিশের কাছে অসংগত মনে হয়। এরপর শোভিত গুপ্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে একপর্যায়ে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।

মোরাদাবাদের পুলিশ সুপার রণবিজয় সিং বলেন, এটি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের ঘটনা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্বামী শাটার বন্ধের কাজে ব্যবহৃত একটি লোহার রড দিয়ে স্ত্রীর মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

নিহত পুনম গুপ্তর পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই নির্যাতনের শিকার ছিলেন। তার ভাই অভিযোগ করেন, এর আগেও পুনমকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রতিবেশীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, দম্পতির সংসারে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। তবে তা যে এমন ভয়াবহ পরিণতিতে পৌঁছাবে, তা কেউ ভাবেননি। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক সহিংসতার বহু ঘটনা দীর্ঘদিন আড়ালে থাকে। ছোটখাটো বিরোধ, নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা, সন্দেহ, ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বা সামাজিক চাপ অনেক সময় বড় সহিংসতার দিকে গড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবারে নির্যাতনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত আইনি সহায়তা, কাউন্সেলিং বা সামাজিক হস্তক্ষেপ জরুরি।

ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পারিবারিক সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নারী অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, অনেক নারী নির্যাতনের শিকার হলেও সামাজিক চাপ, আর্থিক নির্ভরতা কিংবা পারিবারিক সম্মানের ভয়ে অভিযোগ করতে পারেন না। ফলে বহু ঘটনা চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসে না।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক তথ্য সংগ্রহের পর অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হতে পারে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ ও পূর্বাপর নির্যাতনের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

#আর

বিষয় : ভারত

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহকে নিয়ে ৭ ঘণ্টা থাকলেন স্বামী

প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের মুরাদাবাদ জেলায় জিমে যাওয়া নিয়ে দাম্পত্য বিরোধের জেরে এক নারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শোভিত গুপ্ত-কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। নিহত নারীর নাম পুনম গুপ্ত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোরাদাবাদের কাটঘর এলাকায় বসবাস করতেন দম্পতি। শোভিত গুপ্ত স্থানীয়ভাবে স্ক্র্যাপ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই পারিবারিক অশান্তি চলছিল। বিশেষ করে পুনমের নিয়মিত জিমে যাওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ বাড়ছিল।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার সকালে। পুলিশ জানিয়েছে, পুনম জিম থেকে বাড়ি ফেরার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তা উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় রূপ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্ষুব্ধ হয়ে শোভিত একটি লোহার শাটারের হাতল বা রড দিয়ে স্ত্রীর মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই পুনমের মৃত্যু হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হত্যার পর অভিযুক্ত প্রায় সাত ঘণ্টা বাড়ির ভেতরেই অবস্থান করেন। এ সময় তিনি মরদেহ বিছানায় রেখে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি পুলিশে ফোন করে দাবি করেন, তার স্ত্রী পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি দেখে সন্দেহ প্রকাশ করে। পুনমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন এবং ঘটনাস্থলের অবস্থা পুলিশের কাছে অসংগত মনে হয়। এরপর শোভিত গুপ্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে একপর্যায়ে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।

মোরাদাবাদের পুলিশ সুপার রণবিজয় সিং বলেন, এটি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের ঘটনা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্বামী শাটার বন্ধের কাজে ব্যবহৃত একটি লোহার রড দিয়ে স্ত্রীর মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

নিহত পুনম গুপ্তর পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই নির্যাতনের শিকার ছিলেন। তার ভাই অভিযোগ করেন, এর আগেও পুনমকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রতিবেশীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, দম্পতির সংসারে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। তবে তা যে এমন ভয়াবহ পরিণতিতে পৌঁছাবে, তা কেউ ভাবেননি। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক সহিংসতার বহু ঘটনা দীর্ঘদিন আড়ালে থাকে। ছোটখাটো বিরোধ, নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা, সন্দেহ, ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বা সামাজিক চাপ অনেক সময় বড় সহিংসতার দিকে গড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবারে নির্যাতনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত আইনি সহায়তা, কাউন্সেলিং বা সামাজিক হস্তক্ষেপ জরুরি।

ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পারিবারিক সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নারী অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, অনেক নারী নির্যাতনের শিকার হলেও সামাজিক চাপ, আর্থিক নির্ভরতা কিংবা পারিবারিক সম্মানের ভয়ে অভিযোগ করতে পারেন না। ফলে বহু ঘটনা চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসে না।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক তথ্য সংগ্রহের পর অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হতে পারে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ ও পূর্বাপর নির্যাতনের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

#আর


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ