যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে দ্বিতীয় দফা আলোচনা আগামী সোমবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের সরকারি পর্যায়ের প্রতিনিধিরা রোববারই ইসলামাবাদে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দীর্ঘদিনের পরমাণু ইস্যু ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট কেন্দ্র করে এই আলোচনাকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, আলোচনায় অংশ নিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তবে এই বৈঠককে ঘিরে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তির সম্ভাবনা নিশ্চিত হয়নি। এর আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফা আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়, যেখানে প্রায় ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠকের পরও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান অটল থাকে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরবর্তীতে দাবি করেন, দুই দেশ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত অগ্রগতি হয়নি। তিনি বলেন, পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ করা হবে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানকে দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য চাপ অব্যাহত রাখা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আগামী বুধবারের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি জটিল হলে হরমুজ প্রণালিতে আবারও অবরোধ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, “হয়তো আমি এর মেয়াদ বাড়াব না, তখন অবরোধ চলবে এবং আমাদের আবারও পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।”
এর আগে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর থাকা বিধিনিষেধ শিথিল করার ঘোষণা দেয়। এতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখার অবস্থান জানায়। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, কেবল একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হলেই এই অবরোধ প্রত্যাহার করা সম্ভব হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদে হতে যাওয়া দ্বিতীয় দফা আলোচনা কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। পরমাণু কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা—এই তিনটি ইস্যুই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে প্রথম দফা আলোচনায় উভয় পক্ষ কিছু বিষয়ে অগ্রগতি দেখালেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়ে যায়। বিশেষ করে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নীতি নিয়ে অবস্থান এখনো দূরত্বপূর্ণ।
আলোচনার সময় ইরান পক্ষ থেকে দাবি করা হতে পারে যে, তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাধা গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও যাচাই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের বৈঠককে একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক মোড় হিসেবে দেখা হলেও বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে দুই পক্ষের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আপসের মানসিকতার ওপর। আলোচনার ফলাফল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
বিষয় : ইরান যুক্তরাষ্ট্র

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে দ্বিতীয় দফা আলোচনা আগামী সোমবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের সরকারি পর্যায়ের প্রতিনিধিরা রোববারই ইসলামাবাদে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দীর্ঘদিনের পরমাণু ইস্যু ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট কেন্দ্র করে এই আলোচনাকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, আলোচনায় অংশ নিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তবে এই বৈঠককে ঘিরে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তির সম্ভাবনা নিশ্চিত হয়নি। এর আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফা আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়, যেখানে প্রায় ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠকের পরও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান অটল থাকে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরবর্তীতে দাবি করেন, দুই দেশ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত অগ্রগতি হয়নি। তিনি বলেন, পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ করা হবে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানকে দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য চাপ অব্যাহত রাখা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আগামী বুধবারের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি জটিল হলে হরমুজ প্রণালিতে আবারও অবরোধ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, “হয়তো আমি এর মেয়াদ বাড়াব না, তখন অবরোধ চলবে এবং আমাদের আবারও পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।”
এর আগে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর থাকা বিধিনিষেধ শিথিল করার ঘোষণা দেয়। এতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখার অবস্থান জানায়। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, কেবল একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হলেই এই অবরোধ প্রত্যাহার করা সম্ভব হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদে হতে যাওয়া দ্বিতীয় দফা আলোচনা কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। পরমাণু কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা—এই তিনটি ইস্যুই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে প্রথম দফা আলোচনায় উভয় পক্ষ কিছু বিষয়ে অগ্রগতি দেখালেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়ে যায়। বিশেষ করে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নীতি নিয়ে অবস্থান এখনো দূরত্বপূর্ণ।
আলোচনার সময় ইরান পক্ষ থেকে দাবি করা হতে পারে যে, তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাধা গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও যাচাই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের বৈঠককে একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক মোড় হিসেবে দেখা হলেও বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে দুই পক্ষের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আপসের মানসিকতার ওপর। আলোচনার ফলাফল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

আপনার মতামত লিখুন