বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত ঘোষণার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনা সাকার বন্দরের বহির্নোঙর থেকে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর জাহাজটির হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের প্রস্তুতি বাংলাদেশি নৌপরিবহন খাতে স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাতে জাহাজটি হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হচ্ছিল বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, জাহাজটি প্রণালি থেকে প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছে। প্রয়োজনীয় চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাওয়া গেলে রাতেই প্রণালি অতিক্রম করার আশা করা হচ্ছে।
জাহাজটির ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বহির্নোঙর থেকে নোঙর তুলে তারা হরমুজ অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনেই জাহাজটি এগিয়ে যাচ্ছে।
‘বাংলার জয়যাত্রা’ বর্তমানে ৩৭ হাজার টন সার বহন করছে। এর পরবর্তী গন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউন ও ডারবান বন্দর। নির্ধারিত সময়ে পণ্য পৌঁছানো গেলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চুক্তি বাস্তবায়ন এবং পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গত ৮ এপ্রিল সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রণালি অতিক্রমের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল ‘বাংলার জয়যাত্রা’। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে সে সময় অনুমতি না পাওয়ায় জাহাজটিকে ফিরে যেতে হয়।
এর আগেও এক দফা সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দর থেকে হরমুজের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল জাহাজটি। কিন্তু তখন আমিরাতের কোস্ট গার্ড সদস্যরা ওই পথে অগ্রসর না হওয়ার পরামর্শ দিলে জাহাজটি আবার পিছু হটতে বাধ্য হয়। ফলে একাধিকবার যাত্রা স্থগিত হওয়ায় জাহাজটির গন্তব্যে পৌঁছানো বিলম্বিত হয়।
জাহাজটিতে বাংলাদেশের ৩১ জন নাবিক রয়েছেন। তাদের নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার ও সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে নাবিকরা দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্ব জ্বালানি ও বাণিজ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল, গ্যাস ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের প্রধান পথ এটি। ফলে এখানে অস্থিরতা তৈরি হলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে ভাড়া, বিমা ব্যয় ও পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে যায়।
বাংলাদেশের জন্যও এই রুট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত শিপিং খাতের জাহাজগুলো নিয়মিত আন্তর্জাতিক রুটে পণ্য পরিবহন করে থাকে। তাই ‘বাংলার জয়যাত্রা’র সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম কেবল একটি জাহাজের যাত্রা নয়, বরং আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নিরাপদে প্রণালি পার হতে পারলে জাহাজটি নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে পণ্য খালাস করবে এবং ভবিষ্যতে এ রুটে বাংলাদেশি জাহাজ চলাচলেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
#আর
বিষয় : হরমুজ প্রণালী

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত ঘোষণার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনা সাকার বন্দরের বহির্নোঙর থেকে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর জাহাজটির হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের প্রস্তুতি বাংলাদেশি নৌপরিবহন খাতে স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাতে জাহাজটি হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হচ্ছিল বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, জাহাজটি প্রণালি থেকে প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছে। প্রয়োজনীয় চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাওয়া গেলে রাতেই প্রণালি অতিক্রম করার আশা করা হচ্ছে।
জাহাজটির ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বহির্নোঙর থেকে নোঙর তুলে তারা হরমুজ অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনেই জাহাজটি এগিয়ে যাচ্ছে।
‘বাংলার জয়যাত্রা’ বর্তমানে ৩৭ হাজার টন সার বহন করছে। এর পরবর্তী গন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউন ও ডারবান বন্দর। নির্ধারিত সময়ে পণ্য পৌঁছানো গেলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চুক্তি বাস্তবায়ন এবং পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গত ৮ এপ্রিল সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রণালি অতিক্রমের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল ‘বাংলার জয়যাত্রা’। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে সে সময় অনুমতি না পাওয়ায় জাহাজটিকে ফিরে যেতে হয়।
এর আগেও এক দফা সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দর থেকে হরমুজের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল জাহাজটি। কিন্তু তখন আমিরাতের কোস্ট গার্ড সদস্যরা ওই পথে অগ্রসর না হওয়ার পরামর্শ দিলে জাহাজটি আবার পিছু হটতে বাধ্য হয়। ফলে একাধিকবার যাত্রা স্থগিত হওয়ায় জাহাজটির গন্তব্যে পৌঁছানো বিলম্বিত হয়।
জাহাজটিতে বাংলাদেশের ৩১ জন নাবিক রয়েছেন। তাদের নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার ও সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে নাবিকরা দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্ব জ্বালানি ও বাণিজ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল, গ্যাস ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের প্রধান পথ এটি। ফলে এখানে অস্থিরতা তৈরি হলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে ভাড়া, বিমা ব্যয় ও পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে যায়।
বাংলাদেশের জন্যও এই রুট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত শিপিং খাতের জাহাজগুলো নিয়মিত আন্তর্জাতিক রুটে পণ্য পরিবহন করে থাকে। তাই ‘বাংলার জয়যাত্রা’র সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম কেবল একটি জাহাজের যাত্রা নয়, বরং আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নিরাপদে প্রণালি পার হতে পারলে জাহাজটি নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে পণ্য খালাস করবে এবং ভবিষ্যতে এ রুটে বাংলাদেশি জাহাজ চলাচলেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
#আর

আপনার মতামত লিখুন