লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া আলোচনা শেষে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন টাইম বিকেল ৫টা থেকে, যা বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ৩টার সমতুল্য।
নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনার ভিত্তিতেই দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু করতে রাজি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিরতি কেবল সাময়িক সংঘাত বিরতির উদ্যোগ নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি সূচনা। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং এই লক্ষ্যে হোয়াইট হাউসের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও যুক্ত রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, গত ১৪ এপ্রিল ওয়াশিংটন ডিসিতে ৩৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সেই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা কমানো, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয় বলে দাবি করেন ট্রাম্প।
এ বিষয়ে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ চেয়ারম্যান ড্যান কেইনের সঙ্গে সমন্বয়ের কথাও উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
পোস্টে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, অতীতে বিশ্বজুড়ে নয়টি যুদ্ধ বন্ধে তিনি ভূমিকা রেখেছেন এবং লেবানন-ইসরায়েল সংঘাত বন্ধ হলে সেটি হবে তার দশম সাফল্য। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
গত ২ মার্চ নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়, যখন লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালায়। ওই হামলাকে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি পদক্ষেপের প্রতিশোধ হিসেবে দেখা হয়। এরপর পাল্টা জবাবে ইসরায়েল লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায়।
সংঘাতের ফলে লেবাননে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
যদিও ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন, এখনো লেবানন বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন, শর্তাবলি এবং তা কতটা কার্যকর হবে—সেসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
#আরএ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া আলোচনা শেষে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন টাইম বিকেল ৫টা থেকে, যা বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ৩টার সমতুল্য।
নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনার ভিত্তিতেই দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু করতে রাজি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিরতি কেবল সাময়িক সংঘাত বিরতির উদ্যোগ নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি সূচনা। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং এই লক্ষ্যে হোয়াইট হাউসের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও যুক্ত রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, গত ১৪ এপ্রিল ওয়াশিংটন ডিসিতে ৩৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সেই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা কমানো, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয় বলে দাবি করেন ট্রাম্প।
এ বিষয়ে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ চেয়ারম্যান ড্যান কেইনের সঙ্গে সমন্বয়ের কথাও উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
পোস্টে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, অতীতে বিশ্বজুড়ে নয়টি যুদ্ধ বন্ধে তিনি ভূমিকা রেখেছেন এবং লেবানন-ইসরায়েল সংঘাত বন্ধ হলে সেটি হবে তার দশম সাফল্য। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
গত ২ মার্চ নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়, যখন লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালায়। ওই হামলাকে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি পদক্ষেপের প্রতিশোধ হিসেবে দেখা হয়। এরপর পাল্টা জবাবে ইসরায়েল লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায়।
সংঘাতের ফলে লেবাননে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
যদিও ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন, এখনো লেবানন বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন, শর্তাবলি এবং তা কতটা কার্যকর হবে—সেসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
#আরএ

আপনার মতামত লিখুন