ঢাকা    শনিবার, ০২ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে শিথিলতার ইঙ্গিত ইরানের


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে শিথিলতার ইঙ্গিত ইরানের

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে নতুন প্রস্তাব বিবেচনা করছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে তেহরান ওমানের জলসীমা ব্যবহার করে জাহাজ চলাচলে হামলার ঝুঁকি ছাড়াই নিরাপদ রুট চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। তবে এই শিথিলতা কার্যকর হবে একটি নতুন চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার শর্তে।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সংঘাত ও উত্তেজনার কারণে এই রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়ে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। শত শত তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজ আটকে পড়ার পাশাপাশি হাজার হাজার নাবিকও উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়ে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে, ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য হয়। এতে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। যদিও ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির ফলে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে, তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এখনো অনিশ্চিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র জানায়, ইরান এখন ওমানের জলসীমা ব্যবহার করে নির্দিষ্ট রুটে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে পারে, যেখানে হামলার কোনো ঝুঁকি থাকবে না। এই প্রস্তাব মূলত আগের কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত দেয়। এর আগে তেহরান প্রণালিতে টোল আদায় বা কড়াকড়ি নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয়েও আলোচনা করেছিল।

তবে নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। ইরান ওই রুটে সম্ভাব্যভাবে স্থাপন করা মাইন অপসারণ করবে কি না, এবং নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোও একই নিরাপত্তা সুবিধা পাবে কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের মাঝখানে মাত্র ৩৪ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি সংকীর্ণ জলপথ, যা পারস্য উপসাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে। এটি মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি, গ্যাস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের প্রধান রপ্তানি রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য এর কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

সূত্র জানায়, এই নতুন প্রস্তাবের বাস্তবায়ন পুরোপুরি নির্ভর করছে ওয়াশিংটন তেহরানের শর্তগুলো মেনে নিতে প্রস্তুত কি না তার ওপর। যদিও এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস কিংবা ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পশ্চিমা এক নিরাপত্তা সূত্রের মতে, ওমান অংশ দিয়ে নিরাপদ নৌরুট চালুর ধারণাটি আগেও আলোচনায় ছিল, তবে এখন এটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের পর্যায়ে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনো পরিষ্কার নয়।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমাতে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরানের এই শর্তসাপেক্ষ নমনীয়তা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত প্রশমনের একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে, যদিও চূড়ান্ত সমঝোতা এখনো অনেক দূরের বিষয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে এবং শিপিং খাতে অনিশ্চয়তা কমবে। তবে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত জটিলতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

#আরএ

বিষয় : হরমুজ প্রণালী

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে শিথিলতার ইঙ্গিত ইরানের

প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে নতুন প্রস্তাব বিবেচনা করছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে তেহরান ওমানের জলসীমা ব্যবহার করে জাহাজ চলাচলে হামলার ঝুঁকি ছাড়াই নিরাপদ রুট চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। তবে এই শিথিলতা কার্যকর হবে একটি নতুন চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার শর্তে।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সংঘাত ও উত্তেজনার কারণে এই রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়ে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। শত শত তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজ আটকে পড়ার পাশাপাশি হাজার হাজার নাবিকও উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়ে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে, ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য হয়। এতে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। যদিও ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির ফলে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে, তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এখনো অনিশ্চিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র জানায়, ইরান এখন ওমানের জলসীমা ব্যবহার করে নির্দিষ্ট রুটে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে পারে, যেখানে হামলার কোনো ঝুঁকি থাকবে না। এই প্রস্তাব মূলত আগের কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত দেয়। এর আগে তেহরান প্রণালিতে টোল আদায় বা কড়াকড়ি নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয়েও আলোচনা করেছিল।

তবে নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। ইরান ওই রুটে সম্ভাব্যভাবে স্থাপন করা মাইন অপসারণ করবে কি না, এবং নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোও একই নিরাপত্তা সুবিধা পাবে কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের মাঝখানে মাত্র ৩৪ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি সংকীর্ণ জলপথ, যা পারস্য উপসাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে। এটি মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি, গ্যাস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের প্রধান রপ্তানি রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য এর কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

সূত্র জানায়, এই নতুন প্রস্তাবের বাস্তবায়ন পুরোপুরি নির্ভর করছে ওয়াশিংটন তেহরানের শর্তগুলো মেনে নিতে প্রস্তুত কি না তার ওপর। যদিও এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস কিংবা ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পশ্চিমা এক নিরাপত্তা সূত্রের মতে, ওমান অংশ দিয়ে নিরাপদ নৌরুট চালুর ধারণাটি আগেও আলোচনায় ছিল, তবে এখন এটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের পর্যায়ে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনো পরিষ্কার নয়।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমাতে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরানের এই শর্তসাপেক্ষ নমনীয়তা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত প্রশমনের একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে, যদিও চূড়ান্ত সমঝোতা এখনো অনেক দূরের বিষয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে এবং শিপিং খাতে অনিশ্চয়তা কমবে। তবে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত জটিলতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

#আরএ


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ