ঢাকা    শনিবার, ০২ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ইসরায়েলে বুলডোজার ও বোমা বিক্রি ঠেকাতে সিনেটে ভোট


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

ইসরায়েলে বুলডোজার ও বোমা বিক্রি ঠেকাতে সিনেটে ভোট
মার্কিন সিনেট।

ইসরায়েলের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও শেষ পর্যন্ত তা পাস হয়নি। তবে প্রস্তাব দুটির পক্ষে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সিনেটরের ভোট পড়েছে, যা ওয়াশিংটনের নীতিতে পরিবর্তনশীল জনমত ও রাজনৈতিক অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে স্বাধীন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ইসরায়েলের কাছে ২৯৫ মিলিয়ন ডলারের ক্যাটারপিলার বুলডোজার বিক্রি বন্ধের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ভোটাভুটিতে ৪০ জন সিনেটর প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। বিপক্ষে ভোট পড়ে ৫৯টি, ফলে প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়।

সিনেট সূত্রে জানা যায়, প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেওয়া সদস্যদের বড় অংশই ডেমোক্র্যাট। মোট ৪৭ জন ডেমোক্র্যাট সিনেটরের মধ্যে ৪০ জন এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানান। অন্যদিকে সব রিপাবলিকান সিনেটর প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন।

একই দিনে ইসরায়েলের কাছে ১,০০০ পাউন্ড বা প্রায় ৪৫০ কেজি ওজনের বোমা বিক্রি বন্ধের আরেকটি প্রস্তাবও সিনেটে তোলা হয়। প্রায় ১৫১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলারের ওই অস্ত্রচুক্তি আটকে দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রস্তাবটি আনা হয়েছিল। তবে এ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে ৩৬টি, যা পাসের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থনের চেয়ে অনেক কম।

বিশ্লেষকদের মতে, যদিও দুটি প্রস্তাবই ব্যর্থ হয়েছে, তবু ভোটের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তুলে ধরেছে। বিশেষ করে গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননে বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় ইসরায়েলের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থনের অবস্থান নিয়ে ডেমোক্র্যাট শিবিরে প্রশ্ন বাড়ছে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক নীতিগত গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাহরির ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মাই এল-সাদানি বলেন, ক্যাটারপিলার ডি-৯ বুলডোজার বিক্রি বন্ধে ৪০ জন সিনেটরের সমর্থন ‘ঐতিহাসিক’। তার মতে, এটি শুধু কংগ্রেসে নয়, মার্কিন জনমতের পরিবর্তনেরও প্রতিফলন।

তিনি আরও বলেন, গত বছর একই ধরনের প্রস্তাবে সমর্থন ছিল মাত্র ২৭ জন সিনেটরের। সে তুলনায় এবার সমর্থন অনেক বেড়েছে। ফলে প্রস্তাবটি পাস না হলেও নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনের ধারা স্পষ্ট।

ক্যাটারপিলার ডি-৯ বুলডোজার দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, ফিলিস্তিনি বসতি উচ্ছেদ, ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং সামরিক অবকাঠামো তৈরিতে এসব ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে। এজন্য বুলডোজার বিক্রি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বহু বছর ধরেই বিতর্ক রয়েছে।

অন্যদিকে ১,০০০ পাউন্ড ওজনের বোমা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেশি। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন ভারী বোমা ব্যবহারে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞের ঝুঁকি থাকে বলে সমালোচকরা দাবি করেন। গাজায় চলমান সংঘাতে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের প্রশ্নে আন্তর্জাতিক চাপও বেড়েছে।

রিপাবলিকান নেতারা অবশ্য বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র হিসেবে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর হুমকি মোকাবিলায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল করা উচিত নয়।

ডেমোক্র্যাটদের একাংশ বলছেন, মিত্ররাষ্ট্রকে সমর্থন দেওয়া এক বিষয়, কিন্তু মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উপেক্ষা করে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা ভিন্ন বিষয়। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রস্তাব আরও জোরালোভাবে উঠতে পারে।

#আরএ

বিষয় : ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্র

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


ইসরায়েলে বুলডোজার ও বোমা বিক্রি ঠেকাতে সিনেটে ভোট

প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ইসরায়েলের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও শেষ পর্যন্ত তা পাস হয়নি। তবে প্রস্তাব দুটির পক্ষে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সিনেটরের ভোট পড়েছে, যা ওয়াশিংটনের নীতিতে পরিবর্তনশীল জনমত ও রাজনৈতিক অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে স্বাধীন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ইসরায়েলের কাছে ২৯৫ মিলিয়ন ডলারের ক্যাটারপিলার বুলডোজার বিক্রি বন্ধের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ভোটাভুটিতে ৪০ জন সিনেটর প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। বিপক্ষে ভোট পড়ে ৫৯টি, ফলে প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়।

সিনেট সূত্রে জানা যায়, প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেওয়া সদস্যদের বড় অংশই ডেমোক্র্যাট। মোট ৪৭ জন ডেমোক্র্যাট সিনেটরের মধ্যে ৪০ জন এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানান। অন্যদিকে সব রিপাবলিকান সিনেটর প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন।

একই দিনে ইসরায়েলের কাছে ১,০০০ পাউন্ড বা প্রায় ৪৫০ কেজি ওজনের বোমা বিক্রি বন্ধের আরেকটি প্রস্তাবও সিনেটে তোলা হয়। প্রায় ১৫১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলারের ওই অস্ত্রচুক্তি আটকে দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রস্তাবটি আনা হয়েছিল। তবে এ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে ৩৬টি, যা পাসের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থনের চেয়ে অনেক কম।

বিশ্লেষকদের মতে, যদিও দুটি প্রস্তাবই ব্যর্থ হয়েছে, তবু ভোটের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তুলে ধরেছে। বিশেষ করে গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননে বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় ইসরায়েলের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থনের অবস্থান নিয়ে ডেমোক্র্যাট শিবিরে প্রশ্ন বাড়ছে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক নীতিগত গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাহরির ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মাই এল-সাদানি বলেন, ক্যাটারপিলার ডি-৯ বুলডোজার বিক্রি বন্ধে ৪০ জন সিনেটরের সমর্থন ‘ঐতিহাসিক’। তার মতে, এটি শুধু কংগ্রেসে নয়, মার্কিন জনমতের পরিবর্তনেরও প্রতিফলন।

তিনি আরও বলেন, গত বছর একই ধরনের প্রস্তাবে সমর্থন ছিল মাত্র ২৭ জন সিনেটরের। সে তুলনায় এবার সমর্থন অনেক বেড়েছে। ফলে প্রস্তাবটি পাস না হলেও নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনের ধারা স্পষ্ট।

ক্যাটারপিলার ডি-৯ বুলডোজার দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, ফিলিস্তিনি বসতি উচ্ছেদ, ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং সামরিক অবকাঠামো তৈরিতে এসব ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে। এজন্য বুলডোজার বিক্রি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বহু বছর ধরেই বিতর্ক রয়েছে।

অন্যদিকে ১,০০০ পাউন্ড ওজনের বোমা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেশি। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন ভারী বোমা ব্যবহারে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞের ঝুঁকি থাকে বলে সমালোচকরা দাবি করেন। গাজায় চলমান সংঘাতে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের প্রশ্নে আন্তর্জাতিক চাপও বেড়েছে।

রিপাবলিকান নেতারা অবশ্য বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র হিসেবে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর হুমকি মোকাবিলায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল করা উচিত নয়।

ডেমোক্র্যাটদের একাংশ বলছেন, মিত্ররাষ্ট্রকে সমর্থন দেওয়া এক বিষয়, কিন্তু মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উপেক্ষা করে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা ভিন্ন বিষয়। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রস্তাব আরও জোরালোভাবে উঠতে পারে।

#আরএ


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ