ভারতের রাজধানী দিল্লিতে হত্যা, ডাকাতি ও লুটপাটের অভিযোগে ছয় বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের দাবি, তারা একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃসীমান্ত অপরাধচক্রের সদস্য এবং ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সংঘটিত অন্তত ১৪টি অপরাধে জড়িত ছিল। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ ও বাড়ি ভাঙার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ বুধবার জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৪ ও ১৫ এপ্রিল মধ্যরাতে রাজধানীর একটি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে চাঁদাবাজি ও অপহরণ দমন শাখার সদস্যরা অংশ নেন। সন্দেহভাজনদের আটক করতে গেলে তারা পালানোর চেষ্টা করে এবং পুলিশের ওপর গুলি চালায় বলে দাবি করা হয়েছে। পরে পাল্টা অভিযানে ছয়জনকে আটক করা হয়। আরও দুই সহযোগী অন্ধকারের সুযোগে পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সুমন হালদার ওরফে পান্নু, সাইফুল ইসলাম, সোহেল শেখ, মোহাম্মদ নাসির, নূর ইসলাম ওরফে নাদিম খান এবং জাকির। তাদের সবাই বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে চারটি দেশীয় পিস্তল, তাজা কার্তুজ, ব্যবহৃত কার্তুজের খোসা এবং তালা ভাঙা ও বাড়িতে প্রবেশের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পলাতক দুজনকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দিল্লি পুলিশের দাবি, এই চক্রটি কয়েক বছর ধরে ‘হিট-রান-হাইড’ কৌশলে সক্রিয় ছিল। তারা প্রথমে ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ করত, এরপর বিভিন্ন রাজ্যে বিত্তশালী পরিবারকে লক্ষ্য করে ডাকাতি চালাত এবং পরে বাংলাদেশে পালিয়ে যেত। কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর আবার ভারতে ফিরে নতুন এলাকায় অপরাধ সংঘটিত করত।
পুলিশের তথ্যমতে, চক্রটি দিল্লির পাশাপাশি গোয়া, কর্ণাটক, উত্তর প্রদেশ ও ওড়িশায় সক্রিয় ছিল। বিশেষ করে যেসব পরিবারের বয়স্ক সদস্য রয়েছেন, এমন বাড়িগুলোকে টার্গেট করা হতো। অভিযুক্তরা রাতে বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের বেঁধে মারধর করত এবং নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে পালিয়ে যেত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
২০২৫ সালে গোয়ার মাপুশায় দায়ের করা একটি মামলার কথাও উল্লেখ করেছে পুলিশ। ওই ঘটনায় একদল দুর্বৃত্ত জোরপূর্বক একটি বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের বেঁধে ফেলে হামলা চালায় এবং প্রায় ৩৫ লাখ রুপি মূল্যের নগদ অর্থ ও গয়না লুট করে নেয়। তদন্তে গ্রেপ্তারদের সঙ্গে ওই ঘটনার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে দাবি পুলিশের।
ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তঃরাজ্য ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধচক্র নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। দিল্লি পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে এবং অন্য রাজ্যের মামলাগুলোর সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হবে।
এদিকে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে এখনো আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। ভারতের আইন অনুযায়ী আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
#আরএ
বিষয় : ভারত

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে হত্যা, ডাকাতি ও লুটপাটের অভিযোগে ছয় বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের দাবি, তারা একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃসীমান্ত অপরাধচক্রের সদস্য এবং ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সংঘটিত অন্তত ১৪টি অপরাধে জড়িত ছিল। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ ও বাড়ি ভাঙার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ বুধবার জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৪ ও ১৫ এপ্রিল মধ্যরাতে রাজধানীর একটি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে চাঁদাবাজি ও অপহরণ দমন শাখার সদস্যরা অংশ নেন। সন্দেহভাজনদের আটক করতে গেলে তারা পালানোর চেষ্টা করে এবং পুলিশের ওপর গুলি চালায় বলে দাবি করা হয়েছে। পরে পাল্টা অভিযানে ছয়জনকে আটক করা হয়। আরও দুই সহযোগী অন্ধকারের সুযোগে পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সুমন হালদার ওরফে পান্নু, সাইফুল ইসলাম, সোহেল শেখ, মোহাম্মদ নাসির, নূর ইসলাম ওরফে নাদিম খান এবং জাকির। তাদের সবাই বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে চারটি দেশীয় পিস্তল, তাজা কার্তুজ, ব্যবহৃত কার্তুজের খোসা এবং তালা ভাঙা ও বাড়িতে প্রবেশের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পলাতক দুজনকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দিল্লি পুলিশের দাবি, এই চক্রটি কয়েক বছর ধরে ‘হিট-রান-হাইড’ কৌশলে সক্রিয় ছিল। তারা প্রথমে ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ করত, এরপর বিভিন্ন রাজ্যে বিত্তশালী পরিবারকে লক্ষ্য করে ডাকাতি চালাত এবং পরে বাংলাদেশে পালিয়ে যেত। কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর আবার ভারতে ফিরে নতুন এলাকায় অপরাধ সংঘটিত করত।
পুলিশের তথ্যমতে, চক্রটি দিল্লির পাশাপাশি গোয়া, কর্ণাটক, উত্তর প্রদেশ ও ওড়িশায় সক্রিয় ছিল। বিশেষ করে যেসব পরিবারের বয়স্ক সদস্য রয়েছেন, এমন বাড়িগুলোকে টার্গেট করা হতো। অভিযুক্তরা রাতে বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের বেঁধে মারধর করত এবং নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে পালিয়ে যেত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
২০২৫ সালে গোয়ার মাপুশায় দায়ের করা একটি মামলার কথাও উল্লেখ করেছে পুলিশ। ওই ঘটনায় একদল দুর্বৃত্ত জোরপূর্বক একটি বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের বেঁধে ফেলে হামলা চালায় এবং প্রায় ৩৫ লাখ রুপি মূল্যের নগদ অর্থ ও গয়না লুট করে নেয়। তদন্তে গ্রেপ্তারদের সঙ্গে ওই ঘটনার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে দাবি পুলিশের।
ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তঃরাজ্য ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধচক্র নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। দিল্লি পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে এবং অন্য রাজ্যের মামলাগুলোর সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হবে।
এদিকে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে এখনো আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। ভারতের আইন অনুযায়ী আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
#আরএ

আপনার মতামত লিখুন