চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বিক্রি বন্ধ রাখার অভিযোগে একটি ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা পাম্পের স্টোরেজে ৩ হাজার ২৬৯ লিটার পেট্রোল মজুত পাওয়া যায়।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের বড়দাদপুর এলাকায় অবস্থিত মেসার্স ব্রাদার্স অ্যান্ড সিস্টার ফিলিং স্টেশনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যৌথ তদারকিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, এলাকায় জ্বালানি সংকটের সুযোগ নিয়ে ফিলিং স্টেশনটি সাধারণ গ্রাহকদের কাছে তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছে। পাম্পের সামনে ‘তেল নেই’ লেখা নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হলেও ভেতরে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন বাসিন্দারা। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাৎক্ষণিক তদন্ত শুরু করে।
অভিযানকালে কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পাম্পের ভূগর্ভস্থ ট্যাংক ও সংরক্ষণব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়। সেখানে ৩ হাজার ২৬৯ লিটার পেট্রোলের মজুত পাওয়া যায়। অথচ গ্রাহকদের কাছে তেল না থাকার কথা জানিয়ে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছিল। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনগত ব্যবস্থা নেয়।
গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকির মুন্সী জানান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় সেবা প্রদানে অবহেলা, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং সাধারণ ভোক্তাকে প্রতারণার দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।
তিনি বলেন, চলমান জ্বালানি সংকটের সময়ে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলে কেউ যদি বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উদ্ধার করা পেট্রোল সাধারণ গ্রাহকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছিল। অনেক মোটরসাইকেলচালক, কৃষিযন্ত্র ব্যবহারকারী এবং পরিবহন শ্রমিক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি পাননি। এতে কৃষিকাজ, পরিবহন চলাচল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহেও প্রভাব পড়ছিল।
তারা আরও বলেন, অনেকেই ধারণা করেছিলেন পাম্পে সত্যিই তেল নেই। কিন্তু প্রশাসনের অভিযানে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল উদ্ধারের পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। তাদের অভিযোগ, সংকটের সময়ে অতিরিক্ত লাভের আশায় এমন মজুতদারি করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, একই ফিলিং স্টেশনে এর আগেও অনিয়ম ধরা পড়ে। গত ২৭ মার্চ ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে ৯ হাজার ৭৮৩ লিটার তেল অবৈধভাবে মজুত রাখার দায়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আবারও ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে বাজারে আতঙ্ক বাড়ে, কৃত্রিম চাহিদা তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই নিয়মিত নজরদারি, কঠোর শাস্তি এবং লাইসেন্স বাতিলের মতো পদক্ষেপ প্রয়োজন।
প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বালানি নিয়ে কারসাজি, অতিরিক্ত মূল্য আদায়, অবৈধ মজুত কিংবা সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করলে জেলার অন্য ফিলিং স্টেশনগুলোর বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
#আরএ
বিষয় : তেলের_বাজার

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বিক্রি বন্ধ রাখার অভিযোগে একটি ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা পাম্পের স্টোরেজে ৩ হাজার ২৬৯ লিটার পেট্রোল মজুত পাওয়া যায়।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের বড়দাদপুর এলাকায় অবস্থিত মেসার্স ব্রাদার্স অ্যান্ড সিস্টার ফিলিং স্টেশনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যৌথ তদারকিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, এলাকায় জ্বালানি সংকটের সুযোগ নিয়ে ফিলিং স্টেশনটি সাধারণ গ্রাহকদের কাছে তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছে। পাম্পের সামনে ‘তেল নেই’ লেখা নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হলেও ভেতরে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন বাসিন্দারা। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাৎক্ষণিক তদন্ত শুরু করে।
অভিযানকালে কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পাম্পের ভূগর্ভস্থ ট্যাংক ও সংরক্ষণব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়। সেখানে ৩ হাজার ২৬৯ লিটার পেট্রোলের মজুত পাওয়া যায়। অথচ গ্রাহকদের কাছে তেল না থাকার কথা জানিয়ে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছিল। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনগত ব্যবস্থা নেয়।
গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকির মুন্সী জানান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় সেবা প্রদানে অবহেলা, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং সাধারণ ভোক্তাকে প্রতারণার দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।
তিনি বলেন, চলমান জ্বালানি সংকটের সময়ে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলে কেউ যদি বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উদ্ধার করা পেট্রোল সাধারণ গ্রাহকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছিল। অনেক মোটরসাইকেলচালক, কৃষিযন্ত্র ব্যবহারকারী এবং পরিবহন শ্রমিক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি পাননি। এতে কৃষিকাজ, পরিবহন চলাচল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহেও প্রভাব পড়ছিল।
তারা আরও বলেন, অনেকেই ধারণা করেছিলেন পাম্পে সত্যিই তেল নেই। কিন্তু প্রশাসনের অভিযানে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল উদ্ধারের পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। তাদের অভিযোগ, সংকটের সময়ে অতিরিক্ত লাভের আশায় এমন মজুতদারি করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, একই ফিলিং স্টেশনে এর আগেও অনিয়ম ধরা পড়ে। গত ২৭ মার্চ ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে ৯ হাজার ৭৮৩ লিটার তেল অবৈধভাবে মজুত রাখার দায়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আবারও ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে বাজারে আতঙ্ক বাড়ে, কৃত্রিম চাহিদা তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই নিয়মিত নজরদারি, কঠোর শাস্তি এবং লাইসেন্স বাতিলের মতো পদক্ষেপ প্রয়োজন।
প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বালানি নিয়ে কারসাজি, অতিরিক্ত মূল্য আদায়, অবৈধ মজুত কিংবা সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করলে জেলার অন্য ফিলিং স্টেশনগুলোর বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
#আরএ

আপনার মতামত লিখুন